বর্তমানে গায়িকা অদিতি মুন্সি এবং তাঁর স্বামী দেবরাজ চক্রবর্তীকে ঘিরে একাধিক অভিযোগ প্রকাশ্যে এসেছে। রাজনৈতিক পালাবদলের পর তাঁদের নাম নানা বিতর্কে জড়িয়েছে। এর মধ্যেই একটি সাক্ষাৎকারে ২০১৫ সালের বাংলা সারেগামাপার বিজয়ী সৌম্য চক্রবর্তী খ্যাতির আগের সময়ের অদিতিকে নিয়ে একের পর এক বিস্ফোরক দাবি করেছেন। সেই বছর সারেগামাপায় কীর্তন গেয়ে জনপ্রিয়তা পান অদিতি, পরে রাজনীতিতেও যোগ দেন এবং বিধায়ক হন। কিন্তু সৌম্যের দাবি, রিয়্যালিটি শোয়ের সময় থেকেই অদিতির আচরণ এবং ব্যবহার নিয়ে তাঁর আপত্তি ছিল। তিনি বলেন, তাঁদের মধ্যে সেই সময় থেকেই মতবিরোধ তৈরি হয়েছিল, যা পরবর্তীতেও বদলায়নি।
সৌম্য চক্রবর্তীর কথায়, সারেগামাপার সময় থেকেই অদিতি অত্যন্ত অহংকারী ছিলেন। তাঁর দাবি, একসময় অদিতি তাঁকে রাগ সঙ্গীত শেখানোর চেষ্টা করেছিলেন, অথচ তিনি নিজে উস্তাদ রশিদ খানের ছাত্র। তাই বিষয়টি তাঁর কাছে বিস্ময়কর লেগেছিল। সৌম্য বলেন, “যে কীর্তনটাও ঠিকঠাক গাইতে পারে না, সে যদি আমায় রাগ সঙ্গীত শেখাতে যায় তাহলে তার বিষয়ে আর কী বলা যেতে পারে।” তিনি আরও জানান, অতীতের সেই ঘটনাগুলো তিনি ভুলে যেতে চেয়েছিলেন, কারণ একই পেশায় কাজ করতে হলে অনেক বিষয়ই এড়িয়ে চলতে হয়। তবে তাঁর অভিযোগ, পরবর্তীকালে এমন কিছু ঘটনা ঘটেছে, যা তিনি কোনওভাবেই মেনে নিতে পারেননি।
সাক্ষাৎকারে সবচেয়ে বিতর্কিত মন্তব্য করতে গিয়ে সৌম্য দাবি করেন, “একাধিক প্রেমিক বদলেছে। যে ওকে সারেগামাপায় ঢুকতে সাহায্য করেছিল, অডিশন দেওয়ানো বা অন্য সবভাবে পাশে ছিল, তাকেই পরে জীবন থেকে সরিয়ে দিয়েছিল। আমাদের যে স্ক্রিপ্ট রাইটার ছিলেন, তাঁকেও ধরে ভেবেছিল যে জিতে যাবে।” পাশাপাশি তাঁর অভিযোগ, অদিতির গানেও ভুল উচ্চারণ রয়েছে এবং একজন শিল্পী হিসেবে নিজের গানের উপর আরও বেশি কাজ করা উচিত ছিল। সৌম্যের কথায়, “আমার কখনও মনে হয়নি অদিতি মুন্সি সমাজসংস্কারক বা সমাজের ভাল করতে পারে। ও তো নিজের ভালই করতে পারে না।” তাঁর দাবি, শিল্পী হিসেবে নিজের দক্ষতা বাড়ানোর চেয়ে অন্য বিষয়েই বেশি গুরুত্ব দিয়েছিলেন অদিতি।
অর্থনৈতিক অবস্থার প্রসঙ্গেও বিস্ফোরক মন্তব্য করেন সৌম্য। তাঁর দাবি, সারেগামাপায় অংশ নেওয়ার সময় অদিতির আর্থিক অবস্থা খুবই খারাপ ছিল। কিন্তু পরে কীভাবে এত বড় সম্পদের মালিক হলেন, সেই প্রশ্নও তোলেন তিনি। সৌম্য বলেন, “ও যে সময় সারেগামাপায় ঢুকেছিল কপর্দকশূন্য ছিল। সেই জায়গায় দাঁড়িয়ে বাদ বাকিটা কীভাবে হয়েছে সেটা সবাই জানি।” একই সঙ্গে তিনি একটি পুরনো ঘটনার কথাও মনে করিয়ে দেন। তাঁর দাবি, দক্ষিণ কলকাতার একটি ক্যাফেতে সারেগামাপার প্রতিযোগীদের পুনর্মিলনীতে সবাই নিজেদের বিল ভাগ করে দিলেও অদিতি কোনও টাকা না দিয়েই বেরিয়ে যান। এছাড়াও তাঁর অভিযোগ, সারেগামাপার ফাইনালে তিনি পরিবারের জন্য তিনটি পাস পেলেও অদিতি পেয়েছিলেন ২২টি পাস, যা নিয়েও তাঁর প্রশ্ন রয়েছে।
আরও পড়ুনঃ আর জি করের সেই রাতের স্মৃতি ফিরিয়ে আনল ‘তিলোত্তমা’? হাসপাতালের দুর্নী’তি জানতে পারায় সাহসী চিকিৎসকের রহস্যমৃ’ত্যু, বাস্তবের সঙ্গে রয়েছে আর কী কী মিল? শুধুই কি কাকতালীয়, নাকি ধারাবাহিকে গল্পে উঠে আসবে কোনও চরম অজানা সত্যি? কী মনে হয় আপনাদের?
বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে নিজের মত জানাতে গিয়ে সৌম্য বলেন, একজন শিল্পী হিসেবে তিনি চান অদিতি আবার সঙ্গীতে ফিরুন। তবে তাঁর মতে, তার আগে নিজের গানের উপর আরও মনোযোগ দেওয়া দরকার। তিনি বলেন, “আমি ওর বিরোধী না, ওর কাজের বিরোধী। ও যদি নিজেকে সময় দিয়ে, সবকিছু থেকে একটু দূরে সরে গিয়ে আবার গানে ফিরে আসে, আমি সত্যিই খুশি হব।” একই সঙ্গে তিনি স্পষ্ট করেন, আইনের নিজস্ব পথ রয়েছে এবং অভিযোগে কেউ দোষী প্রমাণিত হলে আইন অনুযায়ী শাস্তি হওয়াই উচিত। তাঁর দাবি, একসময় মানুষ অদিতির গান ভীষণ ভালোবাসতেন, কিন্তু বর্তমানে পরিস্থিতি অনেকটাই বদলে গেছে। তাই তাঁর মতে, বিতর্কের বদলে আবার সঙ্গীতচর্চাতেই মন দেওয়া উচিত অদিতির।






