স্টার জলসার নতুন ধারাবাহিক ‘তিলোত্তমা’-র (Tilottoma) প্রথম প্রোমো প্রকাশ্যে আসার পর থেকেই সামাজিক মাধ্যমে জোর আলোচনা শুরু হয়েছে। সুস্মিতা দে অভিনীত এই ধারাবাহিকের বিষয়বস্তু প্রথম ঝলকেই অন্যরকম বলেই মনে করছেন অনেক দর্শক। প্রোমোতে দেখা যায়, তিনি দ্বৈত চরিত্রে অভিনয় করছেন। একজন চিকিৎসক, অন্যজন নৃত্যশিল্পী। বিয়ের রাতেই জরুরি ডিউটির জন্য হাসপাতালে ছুটে যান চিকিৎসক। সেখানে গিয়ে হাসপাতালের অভ্যন্তরে চলা একাধিক অনিয়ম এবং দুর্নীতির সূত্র তাঁর হাতে এসে পড়ে। কিন্তু সেই সত্য প্রকাশ্যে আনার আগেই তিনি ষড়যন্ত্রের শিকার হন। মৃ’ত্যুর আগে যমজ বোনকে সব জানিয়ে যেতে পারলেও নিজের জীবন আর বাঁচাতে পারেন না। এরপর সেই লড়াইয়ের দায়িত্ব নিজের কাঁধে তুলে নেয় তিলোত্তমা।
প্রোমো প্রকাশের পর থেকেই দর্শকদের একাংশ এই গল্পের সঙ্গে বহুল আলোচিত আরজি কর ঘটনার কিছু মিল খুঁজে পাচ্ছেন। সামাজিক মাধ্যমে অনেকেই লিখছেন, একজন তরুণী চিকিৎসক, হাসপাতালের অন্দরের অনিয়ম, সত্য সামনে আনার চেষ্টা এবং তার আগেই মৃ’ত্যু, এই ঘটনাপ্রবাহ তাঁদের বাস্তবের সেই আলোচিত ঘটনার কথা মনে করিয়ে দিয়েছে। যদিও ধারাবাহিকের নির্মাতাদের পক্ষ থেকে কোথাও বলা হয়নি যে এই গল্প কোনও নির্দিষ্ট বাস্তব ঘটনার উপর ভিত্তি করে তৈরি।
তবুও প্রোমোর আবহ এবং বিষয়বস্তু ঘিরে দর্শকদের মধ্যে এই তুলনা নিয়ে বিস্তর আলোচনা শুরু হয়েছে। অনেকেই মনে করছেন, বাস্তবের নানান ঘটনাকে অনুপ্রেরণা হিসেবে নিয়েই হয়তো এই গল্পের কিছু অংশ নির্মিত হয়েছে। প্রসঙ্গত, আরজি কর কাণ্ডের সময়ও নানান ধরনের আলোচনা, জল্পনা এবং মতামত সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছিল। সেই সময় একাংশের মধ্যে এমন গুঞ্জনও শোনা গিয়েছিল যে, তরুণী চিকিৎসক হাসপাতালের কিছু অনিয়ম ও ওষুধ সংক্রান্ত দুর্নীতির বিষয় জানতে পেরেছিলেন। তবে সেই দাবির পক্ষে কোনও সরকারি তদন্ত বা আদালতের রায়ে নিশ্চিত প্রমাণ প্রকাশ্যে আসেনি।
তাই বিষয়টি আজও জল্পনার পর্যায়েই রয়েছে। নতুন ধারাবাহিকের প্রোমোতে হাসপাতালের দুর্নীতির সূত্র ধরে একজন চিকিৎসকের মৃত্যুর ঘটনা দেখানো হওয়ায় সেই পুরনো আলোচনাগুলিও আবার নতুন করে সামনে এসেছে বলে মনে করছেন অনেক দর্শক। অন্যদিকে, ধারাবাহিকের গল্পে একটি বড় মোড়ও দেখানো হয়েছে। চিকিৎসক বোনের মৃত্যুর পর যমজ বোন তিলোত্তমা অন্যায়ের বিরুদ্ধে লড়াই শুরু করে। প্রোমোতে অ্যাকশন, রহস্য এবং প্রতিশোধের ইঙ্গিত দর্শকদের আগ্রহ আরও বাড়িয়ে দিয়েছে। অনেকেই মনে করছেন, যদি গল্পের গতি এবং চিত্রনাট্য ঠিকভাবে এগোয়, তাহলে এটি চলতি ধারাবাহিকগুলির থেকে সম্পূর্ণ ভিন্ন স্বাদের একটি প্রযোজনা হতে পারে।
আরও পড়ুনঃ “মা-বাবা মারা গেলে সন্তান মাছ খাওয়া ছাড়ে না, তাহলে স্বামী মারা গেলে কেন ছাড়বে?” কুমকুমকে মাছ খাইয়ে কুসং’স্কারের বিরুদ্ধে সরব ঈশান! বিনোদনের নামে পরকীয়া, পারিবারিক অশা’ন্তি নয়, ইতিবাচক বার্তায় ‘কুমকুম’ মন জিতল দর্শকদের
চিকিৎসা ব্যবস্থার অন্দরের দুর্নীতি, ন্যায়ের লড়াই এবং রহস্য, এই তিনটি বিষয়কে একসঙ্গে তুলে ধরার চেষ্টা নজর কেড়েছে দর্শকদের। তবে এখন সবচেয়ে বড় প্রশ্ন, ধারাবাহিকটি শেষ পর্যন্ত কোন পথে এগোবে। বাস্তবের কোনও ঘটনার সঙ্গে এর মিল আদৌ কাকতালীয়, নাকি শুধুই দর্শকদের ব্যাখ্যা, সেই উত্তর মিলবে মূল পর্বগুলিতে। আপাতত প্রথম প্রোমোই সামাজিক মাধ্যমে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু হয়ে উঠেছে। কেউ গল্পের অভিনব ভাবনাকে স্বাগত জানাচ্ছেন, আবার কেউ বাস্তবের ঘটনার সঙ্গে মিল খুঁজে নানান মতামত দিচ্ছেন। ধারাবাহিক সম্প্রচারের পর গল্প কোন দিকে মোড় নেয়, সেটাই এখন দেখার অপেক্ষা।






