“ছিঃ ছিঃ কি অস’ভ্যতা! ডিরেক্টর ডিরেকশন দিচ্ছেন, তাঁর কোলে বসে ওই অভিনেত্রী…” বাংলা ধারাবাহিকের সেটের অস্বস্তিকর অভিজ্ঞতা নিয়ে বি*স্ফোরক অনামিকা সাহা! কী এমন দেখেছিলেন বর্ষীয়ান অভিনেত্রী? সেই কারণেই কি ছোটপর্দায় কাজ করতে চান না তিনি?

বিনোদন জগতের ঝলমলে পর্দার আড়ালে এমন অনেক গল্প লুকিয়ে থাকে, যা দর্শকের চোখে ধরা পড়ে না। ক্যামেরার সামনে সবকিছু যতটা নিখুঁত দেখায়, ক্যামেরার পেছনের বাস্তবতা অনেক সময় ঠিক ততটাই কঠিন, অস্বস্তিকর এবং বিতর্কে ভরা। কাজের পরিবেশ, শুটিং সেটের নিয়ম, সময়ের মূল্য কিংবা পেশাদারিত্ব এই সমস্ত বিষয় নিয়ে শিল্পীদের মুখে মাঝেমধ্যেই উঠে আসে নানা অভিজ্ঞতা। সম্প্রতি তেমনই এক সাক্ষাৎকারে বাংলা টেলিভিশন ইন্ডাস্ট্রি নিয়ে বিস্ফোরক মন্তব্য করলেন বর্ষীয়ান অভিনেত্রী অনামিকা সাহা।

বাংলা চলচ্চিত্র ও টেলিভিশনের অত্যন্ত পরিচিত মুখ অনামিকা সাহা দীর্ঘ কয়েক দশক ধরে নিজের অভিনয় দক্ষতায় দর্শকের মন জয় করে চলেছেন। খল চরিত্র হোক বা চরিত্রাভিনেত্রীর ভূমিকায়, প্রতিটি চরিত্রেই তিনি নিজের আলাদা ছাপ রেখে গিয়েছেন। শ্বশুরবাড়ি জিন্দাবাদ থেকে শুরু করে একাধিক জনপ্রিয় বাংলা সিনেমা এবং ধারাবাহিকে তাঁর অভিনয় আজও দর্শকের মনে সমানভাবে জায়গা করে আছে। দীর্ঘ অভিজ্ঞতার জোরেই তিনি ইন্ডাস্ট্রির নানা পরিবর্তন খুব কাছ থেকে দেখেছেন। আর সেই অভিজ্ঞতা থেকেই বর্তমান বাংলা মেগা সিরিয়ালের কাজের পরিবেশ নিয়ে তিনি সরব হয়েছেন।

সম্প্রতি একটি সাক্ষাৎকারে অনামিকা সাহা বাংলা সিরিয়ালের শুটিং সেট নিয়ে একাধিক অভিযোগ তোলেন। তাঁর কথায়, এখন অনেক ক্ষেত্রেই পেশাদার পরিবেশের অভাব চোখে পড়ে। তিনি দাবি করেন, “ডিরেক্টর ডিরেকশন দিচ্ছে, তার কোলে একজন মহিলা বসে! এই ধরনের দৃশ্য আমি দেখেছি। এটা আমার কাছে একেবারেই অসভ্যতা।” তাঁর মতে, একটি শুটিং সেটে পরিচালক যখন কাজ করছেন, তখন সেখানে শৃঙ্খলা ও পেশাদার আচরণ বজায় রাখা অত্যন্ত জরুরি। কিন্তু বাস্তবে অনেক সময় সেই পরিবেশ দেখা যায় না বলেই তাঁর অভিযোগ।

শুধু সেটের পরিবেশ নয়, সময় ব্যবস্থাপনা নিয়েও ক্ষোভ প্রকাশ করেন অভিনেত্রী। তাঁর দাবি, শিল্পীদের সকাল ৯টার মধ্যে সেটে ডেকে নেওয়া হলেও অনেক সময় ঘণ্টার পর ঘণ্টা বসিয়ে রাখা হয়। এমনও হয়েছে, বিকেল ৫টা পর্যন্ত অপেক্ষা করার পর হাতে স্ক্রিপ্ট তুলে দেওয়া হয়েছে। এতে শিল্পীদের সময় যেমন নষ্ট হয়, তেমনই মানসিক চাপও বাড়ে। তিনি মনে করেন, আগে শুটিংয়ের ক্ষেত্রে অনেক বেশি পরিকল্পনা ও শৃঙ্খলা ছিল। এখন সেই জায়গায় নানা বিশৃঙ্খলা তৈরি হয়েছে, যার প্রভাব অভিনয়ের মানের উপরও পড়ছে।

আরও পড়ুনঃ “এই বয়সে এসেও মানুষকে ঠকি’য়েছেন উনি!” প্রতা’রণার অভিযোগে আইনি জটিলতায় মৌসুমী চট্টোপাধ্যায়! বিশাল অঙ্কের ক্ষতিপূরণের নির্দেশ আদালতের! কোন ঘটনাকে কেন্দ্র করে আদালতের কাঠগড়ায়? কী এমন করলেন বর্ষীয়ান অভিনেত্রী?

অনামিকা সাহা আরও বলেন, বর্তমান ইন্ডাস্ট্রিতে পেশাদারিত্বের অভাব ক্রমশ স্পষ্ট হচ্ছে। তাঁর মতে, শুধুমাত্র দ্রুত কাজ শেষ করার তাগিদে অনেক সময় অভিনয়ের মান, পরিকল্পনা এবং শিল্পীদের প্রতি সম্মান সবকিছুই উপেক্ষিত হচ্ছে। যদিও তাঁর এই মন্তব্য সম্পূর্ণই তাঁর ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা ও মতামতের ভিত্তিতে করা। তবে বর্ষীয়ান এই অভিনেত্রীর বক্তব্য প্রকাশ্যে আসতেই বাংলা টেলিভিশন ইন্ডাস্ট্রির কাজের পরিবেশ নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। তাঁর এই মন্তব্য ঘিরে ইতিমধ্যেই সোশ্যাল মিডিয়ায় নানা প্রতিক্রিয়া দেখা যাচ্ছে। কেউ তাঁর বক্তব্যকে বাস্তব অভিজ্ঞতার প্রতিফলন বলছেন, আবার কেউ মনে করছেন, বিষয়টি নিয়ে ইন্ডাস্ট্রির অন্যদের মতামতও সামনে আসা উচিত।

You cannot copy content of this page