রচনা বন্দ্যোপাধ্যায়ের জীবনে তাঁর বাবা রবীন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়ের ভূমিকা কতটা গুরুত্বপূর্ণ ছিল, সে কথা অভিনেত্রী বহুবার প্রকাশ্যে বলেছেন। অভিনয় জীবনের শুরু থেকে ব্যক্তিগত সিদ্ধান্ত, এমনকি অর্থ সঞ্চয়ের মতো বিষয়েও বাবার পরামর্শই ছিল তাঁর সবচেয়ে বড় ভরসা। মেয়ের সাফল্যে যেমন তিনি গর্ব অনুভব করতেন, তেমনই ভবিষ্যৎ নিয়েও তাঁর বিশেষ কিছু ধারণা ছিল। আশ্চর্যের বিষয়, রচনাকে নিয়ে বাবার করা একটি মন্তব্য পরবর্তীকালে একেবারে অক্ষরে অক্ষরে সত্যি হয়ে যায়। সেই ঘটনাই আজ আবার নতুন করে আলোচনায় উঠে এসেছে।
রচনা জানান, এক সময় এক বিশিষ্ট সাংবাদিক তাঁর আত্মজীবনী লেখার প্রস্তাব নিয়ে তাঁদের বাড়িতে এসেছিলেন। তখন কর্মজীবনের নিরিখে রচনা ছিলেন সাফল্যের শিখরে। বাংলা, ওড়িয়া এবং হিন্দি-সহ একাধিক ভাষার ছবিতে অভিনয় করেছেন, টেলিভিশনে ‘দিদি নম্বর ১’-এর জনপ্রিয় সঞ্চালক হিসেবে দর্শকদের ঘরের মানুষ হয়ে উঠেছেন। ব্যক্তিগত জীবনেও তখন তিনি সংসার এবং মাতৃত্ব, দুই দিকই সামলাচ্ছিলেন। তাই অনেকেরই মনে হয়েছিল, তাঁর আত্মজীবনী লেখার জন্য এটাই আদর্শ সময়। কিন্তু ঠিক তখনই আপত্তি জানান তাঁর বাবা।
রবীন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়ের বক্তব্য ছিল, রচনার জীবনের গল্প তখনও সম্পূর্ণ হয়নি। তিনি স্পষ্ট বলেছিলেন, আরও দুই থেকে তিন বছর অপেক্ষা করা উচিত। তাঁর বিশ্বাস ছিল, মেয়ের জীবনে তখনও বড় কোনও অধ্যায় যোগ হওয়া বাকি। সময়ের সঙ্গে দেখা যায়, বাবার সেই কথাই সত্যি হয়। কয়েক বছরের মধ্যেই রচনা সক্রিয় রাজনীতিতে যোগ দেন এবং লোকসভা নির্বাচনে প্রার্থী হয়ে সাংসদ হন। জীবনের একেবারে নতুন দায়িত্ব ও অভিজ্ঞতা তাঁর সঙ্গে যুক্ত হয়। ফলে সেই সময় আত্মজীবনী লেখা হলে জীবনের একটি বড় অধ্যায় বাদ পড়ে যেত বলেই আজ অনেকের মত।
বর্তমানে রচনা বন্দ্যোপাধ্যায়কে ঘিরে নানা বিষয় নিয়ে আলোচনা চলছে। সম্প্রতি ‘দিদি নম্বর ১’ থেকে তাঁকে সরিয়ে দেওয়া নিয়ে তাঁর মন্তব্য, একটি রাজনৈতিক দল সম্পর্কে প্রকাশ্য বক্তব্য এবং আরবানায় ফ্ল্যাট কেনা নিয়ে ‘যোগ্যতা লাগে’ মন্তব্যকে ঘিরে বিস্তর বিতর্ক তৈরি হয়। এই মন্তব্যের জন্য তাঁকে সামাজিক মাধ্যমে তীব্র সমালোচনার মুখে পড়তে হয়েছে। যদিও অনেকেই তাঁর পাশে দাঁড়িয়েছেন। অভিনেত্রী কনীনিকা বন্দ্যোপাধ্যায় প্রকাশ্যে বলেন, রচনা নিজের যোগ্যতাতেই এই সাফল্য অর্জন করেছেন এবং বাংলা চলচ্চিত্র জগতের অন্যতম সফল অভিনেত্রী হিসেবে তাঁর কৃতিত্ব অস্বীকার করার সুযোগ নেই।
রচনার জীবনের প্রতিটি গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্তে তাঁর বাবার উপস্থিতি ছিল বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য। শুধু অভিনয় নয়, উপার্জিত অর্থ কীভাবে সঠিকভাবে ব্যবহার করতে হবে, ভবিষ্যতের জন্য কীভাবে পরিকল্পনা করতে হবে, সেই বিষয়েও তিনি মেয়েকে পথ দেখিয়েছেন। ২০২১ সালের ১৪ নভেম্বর ৮৪ বছর বয়সে রবীন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায় প্রয়াত হন। দুর্ভাগ্যবশত, মেয়ের সাংসদ হওয়ার ঘটনা তিনি দেখে যেতে পারেননি। তবে রচনার প্রতি তাঁর বিশ্বাস কখনও কমেনি। তিনি সবসময় মনে করতেন, মেয়ে ভবিষ্যতে আরও বড় সাফল্য অর্জন করবে।
আরও পড়ুনঃ “সফল হওয়ার পরই বদলে গেল মানুষটা…বিয়ের সব প্রস্তুতি শেষ, হঠাৎ ছেড়ে চলে গেল!” শুরুর আগেই ভেঙেছিল সংসারের স্বপ্ন, সেই আ’ঘাত বদলে দিয়েছিল জীবন! ব্যক্তিগত জীবনের একের পর এক অজানা অধ্যায় খুলে বললেন কাঞ্চনা মৈত্র! কেন হয়েছিল বিচ্ছেদ? জানেন, অভিনেত্রীর সেই প্রেমিকের পরিচয় কী?
বাবার মৃত্যুর পর রচনা মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছিলেন। সেই সময় সামাজিক মাধ্যমে তিনি লিখেছিলেন, “আমার বাপি… ভাবিনি এক দিন একা হয়ে যাব। ভাবিনি তুমি চলে যাবে। এখনও অনেকগুলো বছর তোমাকে ছাড়া কাটাতে হবে। তোমার আশীর্বাদ আমাদের সঙ্গে আছে, আমি জানি। থাকব… থাকতে হবে। তুমি ভাল থেকো বাপি।” এই আবেগঘন বার্তায় বাবার প্রতি তাঁর গভীর ভালোবাসা স্পষ্ট হয়ে উঠেছিল। আজও নানা সাক্ষাৎকারে তিনি স্বীকার করেন, বাবার অভাব প্রতিদিন অনুভব করেন। তবে তাঁর শেখানো মূল্যবোধ এবং আশীর্বাদ নিয়েই নিজের কাজ, সংসার ও দায়িত্ব সামলে এগিয়ে চলেছেন অভিনেত্রী।






