“ইমতিয়াজ আলীর গলায় গয়না, হাতে ট্যাটু দেখতে তো খুব ভালো লাগে, তখন তো তাঁকে হিজ’ড়ে মনে হয় না!” “অমর্ত্য অনেকের থেকে অনেক বেশি শিক্ষিত!” ছেলেকে নিয়ে কটা’ক্ষে বি*স্ফোরক চৈতি ঘোষাল, প্রশংসায় ভরালেন ছেলেকে!

সম্প্রতি মুক্তি পাওয়া নেভার মাইন্ড ছবিকে ঘিরে যেমন আলোচনা হয়েছে, তেমনই ছবির অন্যতম অভিনেতা অমর্ত্য রায়কে (Amartya Ray) নিয়েও সোশ্যাল মিডিয়ায় শুরু হয়েছে তুমুল বিতর্ক। তাঁর চেহারা, পোশাক, গলায় গয়না পরা থেকে শুরু করে ছবিতে সুযোগ পাওয়ার বিষয়েও একাধিক কটাক্ষের মুখে পড়তে হয়েছে তাঁকে। এমনকি তাঁকে নিয়ে ‘স্বজনপোষণ’-এর অভিযোগও তুলেছেন অনেকেই। যদিও অমর্ত্য এই ইন্ডাস্ট্রিতে একেবারে নতুন নন। এর আগেও তিনি একাধিক ছবিতে অভিনয় করেছেন। পাশাপাশি অভিনয়ের প্রতি আগ্রহ থেকেই পুনের একটি অভিনয় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে প্রবেশিকা পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়ে প্রশিক্ষণ নিয়েছেন। অভিনয়ের পাশাপাশি তিনি একজন রক মিউজিশিয়ান হিসেবেও পরিচিত।

সম্প্রতি সোশ্যাল মিডিয়ায় দীর্ঘ পোস্ট করে ট্রোলিংয়ের বিরুদ্ধেও নিজের অবস্থান স্পষ্ট করেছিলেন তিনি। এই আবহেই এক সাক্ষাৎকারে অভিনেত্রী চৈতি ঘোষালের কাছে জানতে চাওয়া হয়, ছেলেকে ‘হিজড়ে’, ‘কালো’ বলে কটাক্ষ করা হচ্ছে, আবার অনেকেই বলছেন মায়ের প্রথম ছবিতেই ছেলে নায়ক হয়েছে, যোগ্যতা থাকলে অন্য কোনও ছবির মাধ্যমে আত্মপ্রকাশ করত। এই সমস্ত সমালোচনা নিয়ে মুখ খুলে চৈতি ঘোষাল স্পষ্ট ভাষায় বলেন, “একজন মিউজিশিয়ান সে গলায় একটা গয়না পড়েছে বলেই তাঁকে এমন করে বলা হচ্ছে যেন কত বড় অপরাধী!

ইমতিয়াজ আলী খান যখন হাতে ট্যাটু, গলায় গয়না পরে ঘুরে বেড়ান তখন তো খুব ভালো লাগে আপনাদের! এখন তো তাকে হিজড়ে মনে হয় না?” তাঁর বক্তব্য, একজন শিল্পীর ব্যক্তিগত স্টাইলকে এভাবে অপমানের অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করা মোটেই গ্রহণযোগ্য নয়। এরপর অমর্ত্যের অভিনয় এবং চরিত্র নির্বাচনের প্রসঙ্গ টেনে অভিনেত্রী বলেন, “আর যেখানে অমর্ত্য একজন রক মিউজিশিয়ান, ক্লাসিক্যাল নয়…ও এই চরিত্রের জন্য একদম যথার্থ বলেই ওকে নেওয়া হয়েছে।” একইসঙ্গে তিনি স্পষ্ট করে দেন, “এমন নয় যে এটাই ওর প্রথম কাজ, এর আগেও একাধিক ছবিতেও কাজ করেছে।

আরও পড়ুন: “আমি তো আগেই শেষ হয়ে গিয়েছিলাম…এরপর কোনও মা ঠিক থাকতে পারে না” এখনও স্বাভাবিক জীবনে ফিরতে পারেননি, সায়নীকে হারানোর শোক কাটার আগেই আরও এক মেয়ের মৃ’ত্যু! সন্তানকে হারানোর অসহনীয় যন্ত্র’ণায় ফের কা’ন্নায় ভেঙে পড়লেন মা মলি চক্রবর্তী, আবেগে ভাসল নেটপাড়া!

এমনকি পুনের অ্যাক্টিং ইনস্টিটিউট থেকে পরীক্ষা দিয়ে পাশ করেছে ও!” তাঁর কথায়, শুধুমাত্র তাঁর ছেলে বলেই অমর্ত্য এই সুযোগ পেয়েছে, এমন ধারণার কোনও ভিত্তি নেই। বরং দীর্ঘদিন ধরেই অভিনয় শেখা এবং কাজের মধ্য দিয়েই নিজেকে তৈরি করেছে সে। চৈতি ঘোষাল আরও বলেন, “ও আসলে কোনদিনও কোনও ফিল্মি পার্টিতে যায়নি বলেই আপনারা দেখেন নি। বরাবর পড়াশোনা নিয়ে থাকতে ভালোবাসতো, ভালো ছেলে আরও ভালো হয়েছে।” অভিনেত্রীর দাবি, প্রচারের আলো থেকে দূরে থাকতেই পছন্দ করত অমর্ত্য। তাই অনেকেই তাঁর আগের কাজ বা প্রস্তুতির কথা জানেন না।

ফলে হঠাৎ করে তাঁকে দেখে অনেকের মনে ভুল ধারণা তৈরি হয়েছে। তবে সেই কারণেই তাঁর দক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন তোলাটা ঠিক নয় বলেই মনে করেন তিনি। সাক্ষাৎকারের শেষে নেভার মাইন্ড ছবিকে ঘিরে চলা আলোচনা প্রসঙ্গেও নিজের মত প্রকাশ করেন চৈতি ঘোষাল। তিনি বলেন, “তবে আমার এই ছবি নিয়ে যা কথা হচ্ছে…ছবি কতদিন চলবে বা কতজন দেখবে সেটা না জানলেও এটা দেখে অবাক লাগছে যে ছবির প্রমোশন নাকি মানুষের পছন্দ হয়নি!” তাঁর বক্তব্যে স্পষ্ট, সমালোচনাকে তিনি স্বাভাবিকভাবেই নিচ্ছেন, কিন্তু ব্যক্তিগত আক্রমণ বা কাউকে হেয় করে মন্তব্য করাকে সমর্থন করছেন না।

You cannot copy content of this page