আর জি কর কাণ্ডের পর থেকে অভয়ার মা রত্না দেবনাথকে নিয়ে রাজ্যজুড়ে বহু আলোচনা হয়েছে। পরে তিনি বিজেপির প্রার্থী হিসেবে পানিহাটি বিধানসভা কেন্দ্র থেকে জয়ী হওয়ার পর তাঁর বিভিন্ন মন্তব্যও বিতর্কের জন্ম দেয়। এই পরিস্থিতিতে রত্না দেবনাথকে নিয়ে একটি ভিডিও প্রকাশ করেন আরজে প্রিয়াঙ্কা। সেই ভিডিও ঘিরেই সোশ্যাল মিডিয়ায় শুরু হয় তীব্র সমালোচনা। অনেকেই তাঁকে নানা রাজনৈতিক তকমা দিয়ে কটাক্ষ করতে শুরু করেন। এরপর নিজের অবস্থান স্পষ্ট করতে একটি দীর্ঘ পোস্ট করেন প্রিয়াঙ্কা। সেখানে তিনি জানান, তিনি কোনও রাজনৈতিক দলের সঙ্গে যুক্ত নন এবং একজন সাধারণ নাগরিক হিসেবে নিজের মত প্রকাশ করার অধিকার তাঁর রয়েছে। একই সঙ্গে তিনি স্বীকার করেন, ভিডিওতে রত্না দেবনাথকে নিয়ে তাঁর ভাষা কিছুটা কঠোর ছিল এবং সে জন্য তিনি দুঃখিত।
তবে ভাষার জন্য ক্ষমা চাইলেও নিজের বক্তব্য থেকে তিনি একটুও সরে আসেননি। প্রিয়াঙ্কার দাবি, তাঁর প্রশ্ন ছিল একজন জনপ্রতিনিধির ভূমিকা নিয়ে। তিনি লেখেন, বিভিন্ন নারী নির্যাতনের ঘটনার পর সংশ্লিষ্ট পরিবারের পাশে দাঁড়ানোর বিষয়টি নিয়েই তাঁর আপত্তি রয়েছে। বিশেষ করে বেহালা এবং বারুইপুরের ঘটনায় রত্না দেবনাথের প্রতিক্রিয়া তাঁকে ভাবিয়েছে। তাঁর পোস্টে লেখা রয়েছে, “বেহালা ঘটনার সময় উনি বলেছিলেন, ‘বাচ্চা না কাঁদলে মা দুধ দেয় না’। ওঁর পক্ষে জানা সম্ভব না কোথায় কী হচ্ছে। মা-বাবা এসে জানালে উনি রাস্তায় নামবেন। এখানে আমার প্রশ্ন, যাদের সঙ্গে ঘটনাটা ঘটে, তাদের মানসিক অবস্থা তখন কেমন থাকে, সেটা উনার খুব ভালো করে জানা উচিত নয়? কারণ উনি তো একই রকম পরিস্থিতির মুখোমুখি হয়েছিলেন।”
আরও পড়ুন: “মোদীজির বাংলা ভাষণের স্ক্রিপ্ট আমাকেই লিখতে হত, আমি কাউকে মালা পরাতে যাইনি, বিজেপি আমার জন্য মালা হাতে দাঁড়িয়ে…” বিজেপি ছেড়ে হয়েছিলেন তৃণমূল, নেপথ্যে লুকিয়ে ছিল কোন ক্ষো’ভ? অবশেষে মুখ খুললেন বাবুল সুপ্রিয়! রাজনীতিকে বিদায় জানিয়ে এবার পুরোপুরি গানের জগতেই ফিরছেন তিনি?
বারুইপুরের ঘটনাও নিজের পোস্টে উল্লেখ করেছেন আরজে প্রিয়াঙ্কা। তিনি লেখেন, “বারুইপুরের ঘটনায় বললেন, ‘মেয়েটা কোথায় ছিল জানি না, বাড়িতে না বাইরে।’ মেয়েটা কি উনার মেয়ের মতো নয়? মেয়েটার পরিবারের পাশে দাঁড়ানো ওঁর দরকার মনে হয়নি? শুধু যাব বলে বলেছেন, গিয়েছেন কি? কত দিন হয়ে গেল? একবারও যাওয়া প্রয়োজন মনে করেননি?” এরপর তিনি আরও বলেন, “এখন ওঁ এমএলএ, তাই ওঁকে নিয়ে সবার অনেক আশা যে এবার হয়তো মেয়েরা অন্তত নিরাপদ থাকবে। উনি এমএলএ না হলে, কাউরই ওঁকে নিয়ে এত প্রত্যাশা থাকত না।” তাঁর মতে, নির্বাচিত প্রতিনিধি হওয়ার পর মানুষের প্রত্যাশাও স্বাভাবিকভাবেই অনেক বেড়ে যায়।
নিজের পোস্টে আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন তুলেছেন প্রিয়াঙ্কা। তিনি লিখেছেন, “আমরা সবাই কাকিমার পাশে ছিলাম!! কাকিমা কি আমাদের পাশে আদৌ আছেন? সেটাই আমার বলার উদ্দেশ্য ছিল। বিচার এত সহজে পাওয়া যায় না, আমিও জানি! কিন্তু আমি শুধু পাশে থাকার কথাই বলেছি।” একই সঙ্গে তিনি বলেন, অনেকেই দাবি করছেন রত্না দেবনাথ রাজনীতি ভালো বোঝেন না বা গুছিয়ে কথা বলতে পারেন না। সেই প্রসঙ্গে প্রিয়াঙ্কার মন্তব্য, “ঠিকানা পাল্টে দেব’ ওইসব তো ভালোই বলেন শুনি। তাহলে কাজের কথা বলতে এত গুলিয়ে যায় কেন?” তাঁর বক্তব্যে স্পষ্ট, ব্যক্তিগত আক্রমণ নয়, বরং জনসমক্ষে দেওয়া বক্তব্য এবং দায়িত্ব নিয়েই তিনি প্রশ্ন তুলেছেন।
পোস্টের শেষ অংশে সোশ্যাল মিডিয়ার সমালোচকদের উদ্দেশেও সরাসরি বার্তা দেন আরজে প্রিয়াঙ্কা। তিনি লেখেন, “আর যারা কিছু বললেই দালাল, চটি চাটা, সেকু, মাকু করো, তোমরা ওই করো। আর কিছু হবে না তোমাদের!!” তাঁর দাবি, মত প্রকাশ করলেই কাউকে রাজনৈতিক পরিচয়ে চিহ্নিত করার প্রবণতা এখন বেড়ে গিয়েছে। তাই সমালোচনা বা প্রশ্নকে ব্যক্তিগত আক্রমণের বদলে যুক্তি দিয়ে উত্তর দেওয়াই বেশি জরুরি। তাঁর এই দীর্ঘ পোস্ট সামনে আসার পর বিষয়টি নিয়ে আবারও সোশ্যাল মিডিয়ায় নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। কেউ তাঁর বক্তব্যকে সমর্থন করেছেন, আবার কেউ তাঁর অবস্থানের সমালোচনাও করেছেন।






