“মোদীজির বাংলা ভাষণের স্ক্রিপ্ট আমাকেই লিখতে হত, আমি কাউকে মালা পরাতে যাইনি, বিজেপি আমার জন্য মালা হাতে দাঁড়িয়ে…” বিজেপি ছেড়ে হয়েছিলেন তৃণমূল, নেপথ্যে লুকিয়ে ছিল কোন ক্ষো’ভ? অবশেষে মুখ খুললেন বাবুল সুপ্রিয়! রাজনীতিকে বিদায় জানিয়ে এবার পুরোপুরি গানের জগতেই ফিরছেন তিনি?

একসময়ের জনপ্রিয় গায়ক, পরে কেন্দ্রীয় মন্ত্রী ও সাংসদ বাবুল সুপ্রিয়র রাজনৈতিক ও সাংস্কৃতিক জীবন বরাবরই আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে থেকেছে। দীর্ঘদিন সক্রিয় রাজনীতিতে থাকার পর এখন তিনি আবারও সংগীতের জগতে নিজেকে আরও বেশি করে ব্যস্ত রাখতে চাইছেন। সম্প্রতি দেওয়া এক এক্সক্লুসিভ সাক্ষাৎকারে বাবুল সুপ্রিয় জানিয়েছেন, এই মুহূর্তে তিনি রাজনীতির চেয়ে গান ও সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডেই বেশি মন দিতে চান। তাঁর কথায়, বিদেশে অনুষ্ঠান করার অনুমতি না থাকায় একসময় সংগীতজীবন কার্যত থমকে গিয়েছিল। তবে ২০২১ সালের পর সেই বাধা কেটে যায় এবং এখন দেশ-বিদেশের বিভিন্ন জায়গা থেকে নিয়মিত অনুষ্ঠানের ডাক পাচ্ছেন। ফলে দীর্ঘদিনের শিল্পীসত্তাকে আরও বেশি সময় দিতে চাইছেন তিনি।

বাবুল সুপ্রিয়র রাজনৈতিক যাত্রা শুরু হয় বিজেপির হাত ধরে। তিনি কেন্দ্রীয় মন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব সামলানোর পাশাপাশি আসানসোল লোকসভা কেন্দ্র থেকে সাংসদও নির্বাচিত হন। তবে সময়ের সঙ্গে দলের সঙ্গে দূরত্ব বাড়তে থাকে এবং শেষ পর্যন্ত তিনি বিজেপি ছেড়ে তৃণমূল কংগ্রেসে যোগ দেন। পরবর্তীতে রাজ্যসভার সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পান। সাক্ষাৎকারে তিনি জানান, এবারের নির্বাচনে লড়াই করার কোনও ইচ্ছাই তাঁর ছিল না। সেই কথা তিনি দলনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কেও জানিয়েছিলেন। কিন্তু হঠাৎই রাজ্যসভায় তাঁর নাম ঘোষণা করা হয়। একই সঙ্গে তিনি স্পষ্ট করে দেন, সাংসদ হিসেবে দায়িত্ব পালন করলেও এখন তাঁর প্রধান আগ্রহ সংগীত এবং সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডে।

আরও পড়ুন: ‘হাসপাতালে ওঁকে খু*ন করে…’ অনশন ভেঙে সোনম ওয়াংচুককে পুলিশ হাসপাতালে তুলে নিয়ে যেতেই বি’স্ফোরক পোস্ট পরমা বন্দ্যোপাধ্যায়ের! পাল্টা কটা’ক্ষে ভরল অভিনেত্রীর কমেন্ট বক্স, নেটপাড়ায় শুরু বাকযু’দ্ধ!

রাজনীতি নিয়ে কথা বলতে গিয়ে বাবুল সুপ্রিয় বিজেপিতে নিজের অভিজ্ঞতার কথাও তুলে ধরেন। তিনি জানান, নরেন্দ্র মোদী যখনই কলকাতায় সভা করতে আসতেন, বাংলায় যে ভাষণ দিতেন তার খসড়া বা স্ক্রিপ্ট তৈরির কাজে তাঁকে যুক্ত থাকতে হতো। বিজেপিতে তাঁর ভূমিকা যে শুধুমাত্র একজন তারকা প্রচারকের মধ্যে সীমাবদ্ধ ছিল না, সেই ইঙ্গিতই মেলে তাঁর কথায়। একই সঙ্গে তিনি বলেন, তিনি এবং আরও কয়েকজন রাজনীতির বাইরের মানুষ হিসেবে দলে এসেছিলেন। কিন্তু দীর্ঘদিন সেই পরিবেশে নিজেদের মানিয়ে নিতে পারেননি। তাই দল ছেড়ে বেরিয়ে আসার সিদ্ধান্ত নেন। তাঁর মতে, এতে অস্বাভাবিক কিছু নেই; রাজনৈতিক মতপার্থক্য তৈরি হলে অনেকেই দল পরিবর্তন করেন।

সাক্ষাৎকারে বাবুল সুপ্রিয় একটি গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক অবস্থানও স্পষ্ট করেন। তাঁর বক্তব্য, কোনও জনপ্রতিনিধি যদি যে দলের প্রতীকে জিতে এসে পরে সেই দল ছেড়ে দেন, তাহলে তাঁর সাংসদ বা বিধায়ক পদও ছেড়ে দেওয়া উচিত। এই বিষয়ে কোনও দ্বিমত থাকার কথা নয় বলেই মনে করেন তিনি। নিজের উদাহরণ টেনে তিনি জানান, বিজেপি ছাড়ার সময় তিনিও পদত্যাগ করেছিলেন। একই সঙ্গে বিজেপিতে ফেরার সম্ভাবনা উড়িয়ে দিয়ে তিনি বলেন, বিজেপি তাঁর জন্য “মালা হাতে দাঁড়িয়ে ছিল না”, তিনিও কাউকে মালা পরানোর জন্য মালা কিনে রাখেননি। অর্থাৎ রাজনৈতিক সম্পর্ককে তিনি কখনও ব্যক্তিগত আবেগের জায়গা থেকে দেখেননি। তাঁর কাছে রাজনীতি ছিল একটি দায়িত্ব, যা সময়ের সঙ্গে পরিবর্তিত হয়েছে।

তবে রাজনীতি থেকে পুরোপুরি সরে যাচ্ছেন কি না, সেই প্রশ্নে বাবুল সুপ্রিয়র উত্তর ছিল বাস্তববাদী। তিনি জানান, রাজ্যসভার সাংসদ হিসেবে মানুষের জন্য কাজ করতে চান এবং দল যেখানেই দায়িত্ব দেবে, সেখানে যাবেন। ২১ জুলাইয়ের কর্মসূচিতেও তাঁকে দেখা যাবে বলে ইঙ্গিত দেন তিনি। একই সঙ্গে বলেন, পশ্চিমবঙ্গের উন্নয়নের স্বার্থে প্রয়োজনে শুভেন্দু অধিকারীর সঙ্গেও বসে আলোচনা করতে তাঁর আপত্তি নেই। কারণ একজন সাংসদ হিসেবে রাজ্যের স্বার্থই তাঁর কাছে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। তবে সবকিছুর মধ্যেই স্পষ্ট, সক্রিয় দলীয় রাজনীতির উত্তাপ থেকে কিছুটা দূরে সরে গিয়ে এখন তিনি নিজের প্রথম পরিচয় সংগীতশিল্পী বাবুল সুপ্রিয়কেই নতুন করে প্রতিষ্ঠা করতে চাইছেন।

You cannot copy content of this page