তারকাদের সন্তান হওয়া মানেই শুরু থেকেই বাড়তি নজর, বাড়তি পরিচিতি এবং অনেক ক্ষেত্রে বাড়তি প্রত্যাশা। কিন্তু সেই পরিচিতির গণ্ডি পেরিয়ে নিজের যোগ্যতায় আলাদা পরিচয় তৈরি করতে পারলে দর্শকের কাছে তার মূল্য আরও বেড়ে যায়। কারণ শেষ পর্যন্ত দর্শক নাম নয়, কাজকেই মনে রাখেন। বাংলা চলচ্চিত্র জগতেও এমন অনেক উদাহরণ রয়েছে, যেখানে তারকা পরিবারের সদস্যরা নিজেদের প্রতিভার জোরে স্বতন্ত্র পরিচয় গড়ে তুলেছেন। সেই তালিকায় ধীরে ধীরে নিজের নাম তুলে আনছেন পরিচালক-অভিনেতা উজান গঙ্গোপাধ্যায়।
উজান গঙ্গোপাধ্যায় বাংলা চলচ্চিত্রের দুই পরিচিত মুখ কৌশিক গঙ্গোপাধ্যায় ও চূর্ণী গঙ্গোপাধ্যায়ের ছেলে। অভিনয়ের মাধ্যমে ইতিমধ্যেই দর্শকের কাছে পরিচিতি পেয়েছেন তিনি। তবে এবার তিনি নতুন ভূমিকায়। তাঁর পরিচালিত প্রথম পূর্ণদৈর্ঘ্যের ছবি ‘কাতুকুতু’ মুক্তি পেতে চলেছে। সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে নিজের নতুন যাত্রা, বাবা-মায়ের পরিচয়ের বাইরে নিজের পরিচয় গড়ে তোলার ইচ্ছা, নেপোটিজম বিতর্ক এবং ব্যক্তিগত সম্পর্কের দর্শন নিয়ে খোলামেলা কথা বলেন উজান।
সাক্ষাৎকারে উজান স্পষ্ট ভাষায় জানান, তিনি সবচেয়ে কম পছন্দ করেন শুধুমাত্র “কৌশিক-পুত্র” পরিচয়ে পরিচিত হতে। তাঁর কথায়, তিনি যেমন কৌশিক গঙ্গোপাধ্যায়ের ছেলে, তেমনই চূর্ণী গঙ্গোপাধ্যায়েরও সন্তান। তাই কোনও একটি পরিচয়ে সীমাবদ্ধ থাকতে চান না তিনি। উজানের মতে, বাবা-মায়ের সন্তান হিসেবে পরিচিত হওয়া অবশ্যই গর্বের বিষয়। তবে তিনি চান, ভবিষ্যতে মানুষ তাঁকে তাঁর নিজের কাজের জন্য চিনুক। তিনি বলেন, তাঁর বাবা-মা শুধু সফল শিল্পী নন, অসাধারণ মানুষও। সেই কারণেই তাঁদের সন্তান হতে পারাটা তাঁর কাছে সৌভাগ্যের বিষয়। কিন্তু নিজের পরিচয় তিনি নিজের কাজের মাধ্যমেই তৈরি করতে চান।
পরিচালক হিসেবে প্রথম ছবির অভিজ্ঞতাও ভাগ করে নেন উজান। তিনি জানান, ছোটবেলা থেকেই বাবাকে ছবি লিখতে, তৈরি করতে এবং মুক্তি দিতে দেখেছেন। তাই কোনও ছবির পোস্টারে ‘A Film By Ujaan Ganguly’ লেখা দেখার অনুভূতি তাঁর কাছে অত্যন্ত আবেগের। তবে এই যাত্রা মোটেই সহজ ছিল না। শুটিং চলাকালীন একটি দৃশ্যে অভিনয় করতে গিয়ে তাঁর হাঁটুর এসিএল লিগামেন্ট ছিঁড়ে যায়। চিকিৎসকেরা অপারেশনের পর দীর্ঘ বিশ্রামের পরামর্শ দিলেও তিনি শুটিং মাঝপথে থামাননি। পেনকিলার খেয়ে, প্রচণ্ড যন্ত্রণা সহ্য করে বাকি চার দিনের শুটিং শেষ করেন। উজানের কথায়, এই ছবির সঙ্গে শুধু তাঁর পরিশ্রম নয়, পুরো ইউনিটের লড়াই এবং একসঙ্গে পথচলার স্মৃতিও জড়িয়ে রয়েছে। সেই অভিজ্ঞতা তিনি কোনওদিন ভুলতে পারবেন না।
আরও পড়ুনঃ “স্টাফরুমের বাইরে দাঁড়িয়ে অপেক্ষা করব, দেখি কে আটকায়?” চিঠির লেখিকাকে না দেখেই প্রেমে পড়েছিলেন বাচিক শিল্পী! কীভাবে হয়েছিল ঊর্মিমালা বসু ও জগন্নাথ বসুর বছরের দাম্পত্যের শুরুটা? আজও একই রকম থেকে গেছে সম্পর্কের রসায়ন, এই শিল্পী দম্পতি যেন অনুপ্রেরণার নাম!
নেপোটিজম প্রসঙ্গেও নিজের অবস্থান স্পষ্ট করেছেন উজান। তাঁর মতে, তারকা পরিবারের সন্তান হওয়ার কারণে কিছু সুবিধা পাওয়া যেতে পারে, কিন্তু সেই সুবিধা কাউকে দীর্ঘদিন টিকিয়ে রাখতে পারে না। শেষ পর্যন্ত দর্শকের গ্রহণযোগ্যতাই একজন শিল্পীর ভবিষ্যৎ নির্ধারণ করে। একইসঙ্গে সম্পর্ক নিয়েও নিজের ভাবনার কথা বলেন তিনি। উজানের মতে, কোনও সম্পর্কের মূল্য তার সময়কাল দিয়ে বিচার করা যায় না। সম্পর্ক দীর্ঘ হোক বা স্বল্পস্থায়ী, যদি তা মানুষের জীবনকে সমৃদ্ধ করে, তবে তার গুরুত্ব রয়েছে। তাই অন্যের সম্পর্ক নিয়ে বিচার করার পক্ষপাতী নন তিনি। নিজের ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে খুব বেশি কিছু না বললেও ইঙ্গিত দিয়েছেন, সঠিক সময় এলে তিনি নিজেই সব কথা জানাবেন। আপাতত তাঁর সমস্ত মনোযোগ ২৪ জুলাই মুক্তি পেতে চলা ‘কাতুকুতু’ এবং পরিচালক হিসেবে নতুন পথচলাকে ঘিরেই।






