“বাংলার নারীদের লাখপতি বানাব আমরা, অন্নপূর্ণা ভাণ্ডার যথেষ্ট নয়…” দাবি লকেট চট্টোপাধ্যায়ের! ভাতা নয়, তাহলে কীভাবে রাজ্যের মেয়েরা হবেন আর্থিকভাবে স্বনির্ভর? সরকারের ঝুলিতে রয়েছে ঠিক কী কী নতুন পরিকল্পনা, জানালেন অভিনেত্রী তথা বিজেপি নেত্রী?

লাইট-ক্যামেরা-অ্যাকশনের জগত থেকে রাজনীতির ময়দানে দুই ক্ষেত্রেই নিজের আলাদা পরিচয় তৈরি করেছেন অভিনেত্রী তথা বিজেপি নেত্রী লকেট চট্টোপাধ্যায়। একসময় বাংলা সিনেমা ও টেলিভিশনের পরিচিত মুখ হিসেবে দর্শকদের মন জয় করেছিলেন তিনি। তবে গত এক দশকেরও বেশি সময় ধরে সক্রিয় রাজনীতিতে নিজের সময় ও শ্রম উৎসর্গ করেছেন। বর্তমানে তিনি বিজেপির অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ নেত্রী হিসেবে রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে সাধারণ মানুষের সমস্যার কথা তুলে ধরার পাশাপাশি নারী ক্ষমতায়ন ও কর্মসংস্থানের প্রশ্নে সরব। সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে পশ্চিমবঙ্গের মহিলাদের স্বনির্ভরতা থেকে শুরু করে বিজেপি সরকারের বিভিন্ন পরিকল্পনা এবং রাজ্যের রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ মন্তব্য করেছেন তিনি।

সাক্ষাৎকারে লকেট চট্টোপাধ্যায় বলেন, শুধুমাত্র সরকারি ভাতার উপর নির্ভর করে নয়, বাংলার মহিলাদের আর্থিকভাবে স্বনির্ভর করে তোলাই বিজেপির অন্যতম লক্ষ্য। তাঁর কথায়, “অন্নপূর্ণা ভাণ্ডার যথেষ্ট নয়, আমরা একজন মহিলাকেও শুধুমাত্র ভাতাভোগী হিসেবে দেখতে চাই না, আমরা প্রত্যেক মহিলাকে লাখপতি হিসেবে গড়ে তুলতে চাই।” তিনি দাবি করেন, দেশের বিভিন্ন প্রান্তে ইতিমধ্যেই ‘লাখপতি দিদি’ প্রকল্পের মাধ্যমে লক্ষাধিক মহিলা আর্থিকভাবে স্বনির্ভর হয়েছেন। পশ্চিমবঙ্গেও একই ধরনের কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি করে মহিলাদের নিজস্ব ব্যবসা ও উপার্জনের পথে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে বিজেপির। তাঁর মতে, বাংলার মহিলারা অত্যন্ত পরিশ্রমী ও সাহসী এবং সুযোগ পেলে তাঁরা নিজেদের দক্ষতার মাধ্যমেই পরিবারের আর্থিক অবস্থার পরিবর্তন ঘটাতে পারবেন।

তিনি আরও জানান, বিজেপি সরকারের বিভিন্ন প্রকল্পের মাধ্যমে মহিলাদের জন্য ঋণ ও প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করা হবে। বিশ্বকর্মা যোজনার মতো প্রকল্পের মাধ্যমে বিউটি পার্লার, ফুলের ব্যবসা, গয়না তৈরি, হোম-বেসড ব্যবসা কিংবা ক্লাউড কিচেনের মতো উদ্যোগে মহিলারা কম সুদে ঋণ পেয়ে নিজেদের কাজ শুরু করতে পারবেন। লকেটের দাবি, বাংলার বহু মহিলা বর্তমানে ঘরে বসে ব্যবসা করার ইচ্ছা প্রকাশ করছেন এবং তাঁদের সেই সুযোগ করে দেওয়াই সরকারের লক্ষ্য। তিনি বলেন, “সবাই সরকারি টাকায় বাঁচতে চায় না। মহিলারা নিজেরা উপার্জন করতে চান এবং সমাজে সম্মানের সঙ্গে বাঁচতে চান।” তাঁর মতে, নারী স্বনির্ভরতা শুধুমাত্র আর্থিক উন্নয়ন নয়, বরং সমাজে তাঁদের অবস্থান আরও মজবুত করবে।

লক্ষ্মীর ভাণ্ডার ও অন্নপূর্ণা ভাণ্ডার প্রসঙ্গে লকেট চট্টোপাধ্যায় বলেন, শুধুমাত্র মাসিক আর্থিক সাহায্য কোনও পরিবারের দীর্ঘমেয়াদি সমস্যার সমাধান করতে পারে না। তিনি দাবি করেন, রাজ্যের বহু পরিবার চাকরির অভাব ও কর্মসংস্থানের সংকটে ভুগছে। সেই কারণেই বিজেপি সরকার অন্নপূর্ণা ভাণ্ডারের মাধ্যমে মহিলাদের আর্থিক সহায়তা দেওয়ার পাশাপাশি তাঁদের স্বনির্ভর করে তোলার দিকেও সমান গুরুত্ব দিচ্ছে। তাঁর কথায়, “এই টাকা কোনও দান নয়, এটি একটি সম্মান ও সহায়তা, যাতে মহিলারা নিজেদের পায়ে দাঁড়ানোর সুযোগ পান।” পাশাপাশি তিনি অভিযোগ করেন, অতীতে বিভিন্ন সরকারি প্রকল্পে দুর্নীতি ও অনিয়মের ঘটনা সামনে এসেছে। তাই প্রকৃত উপভোক্তাদের হাতে সরকারি সুবিধা পৌঁছে দিতে বিজেপি বিশেষ নজর দিচ্ছে বলেও দাবি করেন তিনি।

আরও পড়ুনঃ “আমি ভালো নেই…সব বুঝিয়ে বলব” শেষ ফোনে জানিয়েছিলেন মহুয়া! “কীরকম কাকতালীয়…মহুয়াদির হাতে সেদিন অনেক কাটা দাগ ছিল” মৃ’ত্যুর ৪১ বছর পর মহুয়া রায়চৌধুরীর প্রয়াণ দিবসে, ঋতুপর্ণা ও নন্দিনী পালের স্মৃতিতে উঠে এল অজানা সব তথ্য! অভিনেত্রীর শেষ কয়েকদিন নিয়ে কী জানালেন তাঁরা?

মহিলা নিরাপত্তার প্রসঙ্গেও সরব হয়েছেন লকেট চট্টোপাধ্যায়। তাঁর মতে, নারী নির্যাতন ও ধর্ষণের মতো ঘটনা কোনও রাজনৈতিক রঙে বিচার করা উচিত নয়। এটি সমাজের একটি গভীর ব্যাধি, যা দূর করতে ছোটবেলা থেকেই সঠিক শিক্ষা ও মূল্যবোধের প্রয়োজন। তিনি বলেন, অপরাধী যে রাজনৈতিক দলেরই হোক না কেন, তার বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া উচিত। পাশাপাশি বারুইপুরের সাম্প্রতিক ঘটনার প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, সমাজে এখন এমন পরিবর্তন এসেছে যেখানে অপরাধীর পরিবারের সদস্যরাও ন্যায়বিচারের দাবিতে সরব হচ্ছেন। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের রাজনৈতিক যাত্রার প্রতি সম্মান জানালেও বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে সমালোচনা করেছেন লকেট। তাঁর দাবি, মানুষের ভোটই শেষ কথা বলে এবং সাধারণ মানুষের প্রত্যাশা পূরণ করতে না পারলে কোনও রাজনৈতিক দলই দীর্ঘদিন ক্ষমতায় টিকে থাকতে পারে না। নারী স্বনির্ভরতা, কর্মসংস্থান এবং নিরাপদ সমাজ গঠনের প্রতিশ্রুতিকেই আগামী দিনের বাংলার সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ এবং লক্ষ্য হিসেবে তুলে ধরেছেন তিনি।

You cannot copy content of this page