উলট রথের দিন কলকাতায় বিরোধী দলগুলির ডাকে ছাত্র আন্দোলনের আয়োজন করা হয়েছিল। কলেজ স্ট্রিট থেকে শুরু হয়ে সেই মিছিল পৌঁছয় এসপ্ল্যানেড এলাকায়। এই কর্মসূচিতে সাধারণ মানুষের পাশাপাশি বেশ কয়েকজন তারকাকেও দেখা যায়। সেখানেই অভিনেত্রী শ্রীলেখা মিত্রের হাতে থাকা একটি পোস্টার ঘিরে তৈরি হয় বিতর্ক। পোস্টারে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর একটি বিতর্কিত কার্টুন ব্যবহার করা হয়েছিল বলে অভিযোগ ওঠে। ছবিটি সামনে আসার পর অভিনেত্রীকে ঘিরে রাজনৈতিক চাপ তৈরি হয়। এই ঘটনায় শ্রীলেখার বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপের কথাও সামনে আসে।
বিষয়টি নিয়ে বিজেপির একাধিক নেতা শ্রীলেখা মিত্রের সমালোচনা করেন। সোমবার ‘আরশোলা’দের অরাজকতার প্রতিবাদে বিজেপির পক্ষ থেকে কলকাতায় মিছিল করা হয়। দলীয় পতাকা বাদ দিয়ে জাতীয় পতাকা হাতে নিয়ে বিজেপি নেতা, কর্মী ও সমর্থকরা পথে নামেন। দুটি আলাদা জায়গা থেকে এই মিছিল বের হয়। একটি মিছিল শুরু হয় শিয়ালদহ থেকে এবং শেষ হয় ধর্মতলায়। অন্য মিছিলটি গোলপার্ক থেকে শুরু হয়ে যাদবপুর পর্যন্ত যায়। সেই মিছিল থেকেই শ্রীলেখাকে আক্রমণ করেন বিজেপি বিধায়ক সজল ঘোষ।
বরানগরের বিজেপি বিধায়ক সজল ঘোষ মিছিল থেকে অভিনেত্রীকে ‘বয়কট’ করার আহ্বান জানান। তিনি বলেন, “ও শ্রীলেখা নয়, ও ছিলেখা! ওটা ছিলেখা! ওটা একটা বিকৃতকাম মহিলা। ওর নারীত্ব নিয়ে প্রশ্ন থাকবে লোকের। অবস্থা খারাপ। সিনেমা তো আর চলে না। ওর সিরিয়ালও কেউ দেখে না। ওকে বয়কট করুন। বয়কট শ্রীলেখা, ছিলেখা! বয়কট।” এই মন্তব্য ঘিরেও রাজনৈতিক মহলে নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। বিজেপির এই আক্রমণের পর বিষয়টি আরও আলোচনায় আসে।
অন্যদিকে, শ্রীলেখা মিত্র নিজের অবস্থান স্পষ্ট করেছেন। তাঁর দাবি, ঘটনাটি মূলত ভুল বোঝাবুঝির কারণে হয়েছে। তিনি জানান, পোস্টারগুলি দিল্লিতেই তৈরি করা হয়েছিল এবং তিনি ভালোভাবে দেখেননি তাতে কী লেখা বা ছবি ছিল। অভিনেত্রীর বক্তব্য, সেই সময় তাঁর চোখে চশমা ছিল না, তিনি সানগ্লাস পরে ছিলেন। এছাড়া পুলিশের লাঠিচার্জ ও প্রচণ্ড গরমের মধ্যে পোস্টার খুঁটিয়ে দেখার পরিস্থিতি ছিল না বলেও জানান তিনি। শ্রীলেখা বলেন, “চশমা ছাড়া গেছিলাম, সানগ্লাস পরে। ওইরকম একটা ছোট পোস্টারে, মোদিজির বিলো-দ্য-বেল্টে চোখ যায়নি…কী করব বলুন তো।”
আরও পড়ুনঃ “মেয়ে খাওয়ায় বলেই এখন খেতে পাই, ওর রোজগারেই আমার সব চলে…” চার দশকের অভিনয় জীবনের পরও কেন এমন অবস্থা শঙ্কর চক্রবর্তীর? অপূর্ণ স্বপ্ন থেকে স্ত্রীকে হারানোর যন্ত্র’ণা মিলিয়ে ঠিক কতটা কঠিন সময়ের সাক্ষী তিনি? জীবনের অজানা অধ্যায় ও বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে কথা বলতে গিয়ে কেঁদে ফেললেন বর্ষীয়ান অভিনেতা!
শ্রীলেখা আরও বলেন, “পোস্টারটা হাতে নিয়ে ছবি তুলেছি। পোস্টারটাকে ঘুরিয়ে দেখিইনি। সময়ও ছিল না, কারণ তখন পুলিশের লাঠিচার্জ হচ্ছিল।” নিজের বিরুদ্ধে এফআইআর হওয়ার পর তিনি পালটা চ্যালেঞ্জও জানান। তিনি বলেন, “কী করবে? গ্রেফতার করবে তো আমাকে? করুক। তারপর আবার একটা আন্দোলন হবে।” বিজেপি নেত্রী কেয়া ঘোষ-সহ বিভিন্ন জেলার থানায় অভিনেত্রীর বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের হয়েছে। তাঁকে গ্রেপ্তারের দাবিও তুলেছেন বিজেপির কয়েকজন নেতা। এর পাশাপাশি রবিবার শ্রীলেখা মিত্রের বাড়ির সামনে কালো পতাকা নিয়ে বিক্ষোভও দেখানো হয়।






