মহানায়ক উত্তম কুমার ও অভিনেত্রী সুপ্রিয়া দেবীর সম্পর্ক নিয়ে নতুন করে শুরু হয়েছে জোর বিতর্ক। সম্প্রতি চক্র প্রোডাকশনকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে উত্তম কুমারের নাতনি নবমিতা চট্টোপাধ্যায় সুপ্রিয়া দেবীকে নিয়ে একাধিক মন্তব্য করেন। সেই সাক্ষাৎকার প্রকাশ্যে আসতেই নেটমাধ্যমে শুরু হয় তীব্র আলোচনা। বহু মানুষ নবমিতার বক্তব্যের সঙ্গে একমত না হয়ে পাল্টা প্রশ্ন তুলেছেন। বিশেষ করে সুপ্রিয়া দেবী ও উত্তম কুমারের সম্পর্ক এবং সম্পত্তি সংক্রান্ত প্রসঙ্গ নিয়ে তাঁর মন্তব্য ঘিরেই বিতর্ক আরও বেড়েছে। সামাজিক মাধ্যমে এখন সেই সাক্ষাৎকারের বিভিন্ন অংশ ভাইরাল হয়ে ঘুরছে। অনেকেই এই বিষয়ে নিজেদের মতামতও প্রকাশ করছেন।
সাক্ষাৎকারে নবমিতা বলেন, ‘সুপ্রিয়া আন্টির একটা মালা পরা ছবি তোমরা দেখেছ, ওটা কিন্তু সত্যিকারের ছবি নয়। ফিল্মের সময় তোলা ছবি। ওটা উনি দাদু মারা যাওয়ার পর দাবি করেছিলেন, ওঁকে বিয়ে করেছিল। কিন্তু প্রথম বউ থাকার পর তো বিয়ে করা যায় না হিন্দুশাস্ত্র মতে।’ এরপর তিনি সম্পত্তি নিয়ে মামলার প্রসঙ্গও তোলেন। তাঁর কথায়, ‘ওঁর দাবি ছিল আমি লিগাল ওয়াইফ, আর আমার সঙ্গে যেহেতু লিভ ইন করেছে, আমি সম্পত্তির ভাগিদার।’ নবমিতা আরও বলেন, বাবার একমাত্র ছেলে হওয়ার কারণে তাঁদের পরিবারকে দীর্ঘদিন আদালতের লড়াইয়ের মধ্যে থাকতে হয়েছিল। তাঁর দাবি, মহানায়কের মৃত্যুর এক সপ্তাহের মধ্যেই আদালত থেকে চিঠি পাঠানো হয়েছিল এবং প্রায় ১২ বছর ধরে সেই মামলা চলেছিল।
নবমিতার দাবি, শেষ পর্যন্ত আদালতে সুপ্রিয়া দেবী নিজেকে আইনত স্ত্রী হিসেবে প্রমাণ করতে পারেননি, কারণ তাঁর ঠাকুমাই ছিলেন উত্তম কুমারের বৈধ স্ত্রী। তিনি আরও বলেন, ‘শেষের দিকে উনি বুঝেও গিয়েছিলেন যে হেরে যাবেন, এসে বাবার কাছে ক্ষমাও চান।’ নবমিতার কথায়, সুপ্রিয়া দেবী তাঁর বাবাকে বলেছিলেন, ‘বাবি আমার ভুল হয়ে গিয়েছে। ভালোবাসা তো ভালোবাসার জায়গায়। আমার এটা করা উচিত হয়নি। আসলে ওকে এত ভালোবাসতাম, মনে হয়েছিল আমার ভাগের জিনিসটা আমার পাওয়া উচিত।’ জবাবে তাঁর বাবা নাকি বলেছিলেন, ‘আমি তোমায় ক্ষমা করে দিচ্ছি, কারণ ক্ষমা করা আমার হাতে নয়, ভগবানের উপর। ক্ষমা মহৎ গুণ।’ এরপর থেকেই দুই পরিবারের মধ্যে আবার যাতায়াত শুরু হয় বলেও জানান নবমিতা।
এখানেই শেষ নয়। নবমিতা আরও বলেন, তাঁর বাবা মজা করে সুপ্রিয়া দেবীকে বলতেন, ‘উফফফ তুমি যা রান্না করো না, এই কারণেই আমার বাবা এখানে আটকে ছিল। এত ভালো রান্না করলে তো আমিও আটকে পড়ব।’ তাঁর দাবি, সেই সময়ের পর থেকে দুই পরিবারের সম্পর্ক স্বাভাবিক হয়ে যায় এবং এখনও সেই যোগাযোগ বজায় রয়েছে। তবে এই বক্তব্য প্রকাশ্যে আসতেই নেটিজেনদের একাংশ নবমিতার মন্তব্য নিয়ে প্রশ্ন তুলতে শুরু করেন। অনেকেই বলেন, তিনি এমন একটি ঘটনার কথা বলছেন, যার সময় তাঁর বয়স ছিল খুবই কম। তাই তিনি পরিবারের কাছ থেকে শোনা তথ্যই তুলে ধরেছেন বলে মন্তব্য করেন অনেকে।
একজন নেটিজেন লেখেন, ‘বেনু আন্টির কাছে শুনেছি, ইন্টারভিউতেও পড়েছি ওনারা শাস্ত্রীয় মতে বিয়ে করেন কারণ বেনু আন্টির বাবা তাই চেয়েছিলেন। ওই ছবিটি ঐ দিনের ছবি, কোনও শুটিংয়ের নয়, এমনটাই দেবী হালদারের কাছেও শুনেছি। এসব তথ্যের সত্যতার সমস্যা আছে। মহানায়কের মৃত্যু সময় তো ওঁর নাতনির বয়স এক বছরও হয়নি। তিনি তো পরিবারের থেকে শোনা কথা বলছেন। ওঁর বাবার দুটো বিয়ে, তাহলে সেই প্রসঙ্গেও বলুন!’ আরেকজন লেখেন, ‘আমার একটা প্রশ্ন আছে। নবমিতা বললেন যে হিন্দু শাস্ত্রমতে একজন লিগ্যাল ওয়াইফ থাকতে আর একজনকে বিয়ে করা যায় না। কিন্তু ওনার বাবাও কি সেটা মনে রেখেছিলেন? গৌতম চট্টোপাধ্যায় নিজেও তো দু’বার বিয়ে করেছিলেন, তাও একজনকে ডিভোর্স না করে। তাহলে বাবা বলেই কি এই দোষটা চোখে পড়েনি নবমিতার?’
আরও পড়ুনঃ “ওঁদের ছাড়া আমরা কিচ্ছু নই, আগের প্রজন্ম থেকে এই প্রজন্ম…” ঊষা উত্থুপের কণ্ঠে ‘জেন-জি’দের জয়গান! তরুণদের নিয়ে যা বললেন পদ্মভূষণ শিল্পী, তাঁর কথার সঙ্গে কি একমত আপনিও?
প্রসঙ্গত, গৌতম চট্টোপাধ্যায়ের প্রথম স্ত্রী ছিলেন সুমনা দেবী। তাঁদের বিয়েতে উপস্থিত ছিলেন স্বয়ং উত্তম কুমার। এই দম্পতির সন্তান জনপ্রিয় অভিনেতা গৌরব চট্টোপাধ্যায়। পরে একাধিক সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, গৌতম গন্ধর্ব মতে মহুয়া চট্টোপাধ্যায়কে দ্বিতীয়বার বিয়ে করেন। জানা যায়, সুমনা দেবী ও মহুয়া চট্টোপাধ্যায় দীর্ঘদিন একই বাড়িতে কোনও প্রকাশ্য বিরোধ ছাড়াই বসবাস করেছেন। সেই কারণেই নেটিজেনদের একাংশ প্রশ্ন তুলেছেন, সুপ্রিয়া দেবীর সম্পর্ক নিয়ে মন্তব্য করার আগে নবমিতার নিজের পরিবারের অতীত নিয়েও একইভাবে কথা বলা উচিত ছিল কি না। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে সামাজিক মাধ্যমে বিতর্ক এখনও অব্যাহত রয়েছে।






