“আগে বলতাম ক্ষতি হলে তৃণমূল দায়ী থাকবে, এবার আমার কিছু হলে তার দায় বিজেপির!” “আমাকে মে’রে ফেলতে পারেন, কিন্তু আন্দোলন থামবে না…জি-ও-ডি, ডি-ও-জি এমনি তৈরি হয়নি!” বিরুদ্ধে কথা বললে কি ধ*র্ষিতা হতে হবে? প্রশ্ন তুলে বি*স্ফোরক শ্রীলেখা মিত্র! লাগাতার এসএফআইয়ার ঘিরে পাল্টা আইনি লড়াইয়ের হুঁশিয়ারি অভিনেত্রীর!

নিট প্রশ্নপত্র ফাঁসের অভিযোগকে কেন্দ্র করে দিল্লির যন্তরমন্তরে টানা ৩৬ দিন ধরে আন্দোলন চলার পর দেশজুড়ে বিষয়টি নিয়ে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়। আন্দোলনকারীদের দাবি মেনে শেষ পর্যন্ত কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধান পদত্যাগ করেন। সেই আন্দোলনের প্রভাব পড়ে কলকাতাতেও। শুক্রবার এসএফআইয়ের ডাকা বিক্ষোভ কর্মসূচিতে হাজার হাজার মানুষ অংশ নেন। ওই মিছিলে উপস্থিত ছিলেন অভিনেত্রী ‘শ্রীলেখা মিত্র’ও (Sreelekha Mitra)। তবে আন্দোলনের সময় প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর একটি কুরুচিকর ছবি প্রকাশ্যে দেখানোর অভিযোগ উঠতেই নতুন করে বিতর্কের সূত্রপাত হয়। এরপরই বিষয়টি রাজনৈতিক এবং আইনি দুই দিক থেকেই বড় আকার নিতে শুরু করে।

অভিযোগের ভিত্তিতে প্রথমে বিজেপি কর্মী কেয়া ঘোষ আনন্দপুর থানায় শ্রীলেখা মিত্রের বিরুদ্ধে এফআইআর দায়ের করেন। এরপর রাজ্যের বিভিন্ন থানায় বিজেপি নেতা ও কর্মী সমর্থকদের পক্ষ থেকে অভিনেত্রীর বিরুদ্ধে ৫০টিরও বেশি এফআইআর করা হয়েছে বলে জানা যায়। অভিযোগ, শিয়ালদা থেকে ধর্মতলা পর্যন্ত মিছিল চলাকালীন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর একটি মানহানিকর এবং কুরুচিকর ছবি তিনি প্রকাশ্যে প্রদর্শন করেছিলেন। শুধু তাই নয়, তাঁর বিরুদ্ধে মানহানির মামলাও দায়ের করা হয়েছে। এই ঘটনাকে ঘিরে রাজনৈতিক মহলে যেমন আলোচনা শুরু হয়েছে, তেমনই সমাজমাধ্যমেও বিষয়টি নিয়ে তুমুল বিতর্ক চলছে। সেই পরিস্থিতিতেই নিজের অবস্থান স্পষ্ট করতে সামনে এলেন অভিনেত্রী।

সোশ্যাল মিডিয়ায় পোস্ট করা একটি ভিডিওতে শ্রীলেখা মিত্র দাবি করেন, “আমাকে মৃত্যুর হুমকি পর্যন্ত দেওয়া হচ্ছে। বিভিন্ন জায়গা থেকে বিভিন্ন ধরনের থ্রেট কল আসছে। এই পোস্টারগুলো আমি বানাইনি। দিল্লির যন্তরমন্তরের আন্দোলন থেকে নিয়ে আসা হয়েছে। আমার হাতে একটা পোস্টার ধরিয়ে দেওয়া হয়েছে যেটা আমি খুলেও দেখিনি। এটা মনে হচ্ছে একটি পরিকল্পিত ষড়যন্ত্র। আমার ভিতরে তো একটু হলেও শিক্ষা আছে। সমাজ মাধ্যমে আমাকে নোংরা ইঙ্গিত করা হচ্ছে।” একই সঙ্গে তিনি জানান, এই ঘটনার পর থেকে তিনি স্বাভাবিকভাবে বাইরে বেরোতেও পারছেন না এবং বাড়ির সামনে গিয়েও কিছু মানুষ অশান্তি করছেন বলে তাঁর অভিযোগ।

ভিডিয়োতে অভিনেত্রী আরও বলেন, “আমি বাড়ি থেকে বেরোতে পারছি না। বাড়ির সামনে এসে হামলা করছে। আমি যদি ছবিটি দেখতাম, তাহলে কি আমি ওইভাবে তুলে ধরতাম? একটা প্রতিবাদ যখন হয় তার নানা রকম ভাষা হয়। আমাকে গ্রেফতার করলে করুক। আমি একাই লড়ে যাব। আমি যে দলটা করি, তার কর্মী সমর্থকরা সবসময় আমার পাশে রয়েছে। এমনকি দল যদি পাশে না থাকে, তাহলেও আমি লড়াই করব। থানায় এই অভিযোগগুলোর বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপ নেব। আমার আইনজীবী গোটা বিষয়টা দেখছেন। আমি কোনও জেন-জি নই। আমি যদি রেপের বিরুদ্ধে কথা বলি, তাহলে আমাকে কি ধর্ষিতা হতে হবে? সবটা আইন বলবে।” তাঁর এই বক্তব্য প্রকাশ্যে আসার পর তা নিয়েও নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে।

পরে একটি সাক্ষাৎকারেও শ্রীলেখা মিত্র আরও কড়া ভাষায় নিজের বক্তব্য তুলে ধরেন। তিনি বলেন, “আমাকে মেরে ফেলতে চাইলে ফেলুন, ফাঁসিও দিতে পারেন…কিন্তু মনে রাখবেন আবার লোকের রাস্তায় নামবে, আবারও একটা আন্দোলন হবে! এমনি এমনি তো আর জি-ও-ডি, ডি-ও-জি দুটো জিনিস তৈরি হয়নি! ওরাই আমার খেয়াল রাখবে, আমি ভারত বিরোধী নই বা দেশ বিরোধী নই! আমি বলেছি অ্যারেস্ট করতে, যদি দলও না থাকে তবুও আমি একাই লড়ব!” পাশাপাশি তিনি দাবি করেন, তাঁকে রেপ থ্রেট দেওয়া হচ্ছে, অথচ সেই ঘটনায় কেউ কোনও পদক্ষেপ নিচ্ছে না। তাঁর অভিযোগ, যাঁরা এখন তাঁর বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করছেন, তাঁরাই বাড়ির সামনে কালো পতাকা নিয়ে বিক্ষোভ দেখাচ্ছেন।

আরও পড়ুনঃ “বাথরুমের শাওয়ারের নীচে বসে কাঁদতাম…আমার স্বামীর হাসপাতালটা এরা শেষ করে দিয়ে…’’ তৃণমূল জামানায় কোন ভয়’ঙ্কর পরিস্থিতির মুখোমুখি হয়েছিলেন টলিউডের ‘ছোট বউ’, দেবিকা মুখোপাধ্যায়? নিজের হাতে ছিল না একটাও কাজ, শুধুমাত্র স্বামীকে বাঁচাতেই বছরের পর বছর মুখ বুজে কী কী সহ্য করতে হয়েছিল বর্ষীয়ান অভিনেত্রীকে? নিজেই জানালেন সবটা!

সাক্ষাৎকারের শেষ অংশে অভিনেত্রী আরও বলেন, “আমি নিজে ওই আন্দোলনে বারণ করেছি, দেশের পতাকার সঙ্গে কালো কথাটা না ওড়াতে। এখন আমার বাড়ির সামনেই তারা কালো পতাকা ওড়াচ্ছে! সব বিজেপির গুন্ডাগুলো আমার বাড়ির বাইরে উৎপাত করছে…আগে বলতাম আমার ক্ষতি হলে তৃণমূল দায়ী থাকবে, এবার আমার কিছু হলে তার দায় বিজেপির! একটা আরশোলার দল দিল্লির শিক্ষা মন্ত্রীকে পদচ্যুত করে দিল, তখন কিছু করতে পারল না! সবাইকে ছেড়ে এখন শ্রীলেখা মিত্রকে ধর! আর কে কি করে আমি জানি না, তবে আমি কোন পুরুষের প্যান্টের চেনের দিকে তাকাই না!” তাঁর এই সমস্ত মন্তব্য ঘিরে ইতিমধ্যেই রাজনৈতিক মহল এবং সমাজমাধ্যমে জোর চর্চা শুরু হয়েছে। অন্যদিকে, তাঁর বিরুদ্ধে দায়ের হওয়া অভিযোগগুলির তদন্ত এবং আইনি প্রক্রিয়া এখন কীভাবে এগোয়, সেদিকেই নজর রয়েছে সকলের।

You cannot copy content of this page