দীর্ঘ দুই দশকেরও বেশি সময় ধরে বাংলা টেলিভিশনের পরিচিত মুখ মাফিন চক্রবর্তী (Mafin Chakraborty)। একসময় একের পর এক ধারাবাহিকে, বিশেষ করে খল চরিত্রে অভিনয় করে তিনি দর্শকদের নজর কেড়েছিলেন। বর্তমানে স্টার জলসার ‘গৃহপ্রবেশ’ ধারাবাহিকে অভিনয়ের পাশাপাশি নিজের ‘নবরঙ ড্যান্স অ্যাকাডেমি’ নিয়েও ব্যস্ত রয়েছেন। সম্প্রতি সেনাবাহিনীর নাম ভাঙিয়ে প্রতারণার চেষ্টার অভিজ্ঞতা সমাজ মাধ্যমে ভাগ করে নিয়ে সাধারণ মানুষকে সতর্ক করেছিলেন তিনি। এবার আরও এক সামাজিক ইস্যুতে সরব হয়ে ভাইরাল একটি ভিডিও নিয়ে নিজের স্পষ্ট অবস্থান জানিয়েছেন অভিনেত্রী।
সম্প্রতি সমাজ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিও ঘিরে শুরু হয়েছে তুমুল বিতর্ক। সেই ভিডিওতে এক যুবককে দিল্লি পুলিশ, ভারতীয় সেনাবাহিনী এবং বিজেপিকে উদ্দেশ্য করে অশালীন ও কুরুচিকর মন্তব্য (ফা*ক পুলিশ, আর্মি…) করতে দেখা যায়। ভিডিওটি ভাইরাল হওয়ার পর বিষয়টি নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেন বহু নেটিজেন। তাঁদেরই সঙ্গে সরব হন মাফিন চক্রবর্তীও। নিজের ভিডিও বার্তায় তিনি বলেন, প্রতিবাদ বা আন্দোলন অবশ্যই করা যায়, কিন্তু তার জন্য দেশের সেনাবাহিনীকে অপমান করা কোনওভাবেই গ্রহণযোগ্য হতে পারে না।
ভিডিও বার্তায় অভিনেত্রী বলেন, “আন্দোলন করতে গেলে প্রশ্ন করো। শান্তিপূর্ণ আন্দোলন করো। কি চাও সেটা বলো কিন্তু এটা কি ধরনের প্রতিবাদ! একজন ইন্ডিয়ান আর্মি সম্পর্কে এত বাজে কথা বলা! যাঁরা আমাদের দেশের আসল হিরো তাঁরা আছেন বলে আমরা আজ শান্তিতে ঘুমাতে পারছি। আমাদেরকে কোটি টাকা দিলেও আমরা পারব বর্ডারে গিয়ে যুদ্ধ করতে? সেই সাহসটা আছে? যুদ্ধ তো ছেড়ে দিলাম, তাঁরা যেই ট্রেনিংটার মধ্যে দিয়ে যায়, সেই ট্রেনিংটা করতে পারব ৭ দিন? কি স্বার্থত্যাগের জীবন তাঁদের! তাঁদের বাবা মায়ের কি স্বার্থত্যাগের জীবন! খুব আশ্চর্যের ব্যাপার যাঁরা আর্মি হন তাঁরা কিন্তু তোমাদেরই প্রজন্মের।
১৪, ১৯, ২০, ২১ এরকম বছরেরই তো, ছেলে, মেয়েরা গিয়ে যোগদান করেন আর্মিতে। না, আমাদের দেশের আসল হিরোদের সম্পর্কে এরকম ভাষা মেনে নিলাম না!” তাঁর এই বক্তব্য ইতিমধ্যেই সমাজ মাধ্যমে ব্যাপকভাবে শেয়ার হয়েছে। অভিনেত্রীর বক্তব্যে স্পষ্ট, তিনি মত প্রকাশের স্বাধীনতার বিরোধী নন। বরং তাঁর মতে, কোনও দাবি বা প্রতিবাদ থাকলে তা শান্তিপূর্ণভাবে জানানো উচিত। কিন্তু সেই প্রতিবাদের নামে দেশের নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা সেনা সদস্যদের নিয়ে অবমাননাকর মন্তব্য করা উচিত নয়। দেশের জন্য তাঁদের আত্মত্যাগ, কঠোর প্রশিক্ষণ এবং পরিবারের ত্যাগের কথাও নিজের বক্তব্যে তুলে ধরেন তিনি। সেনাবাহিনীর প্রতি সম্মান দেখানোর আহ্বান জানিয়ে তিনি।
আরও পড়ুনঃ “ছিঃ ছিঃ! পারিবারিক ধারাবাহিকে এমন অশা’লীন সংলাপ জীবনেও শুনানি!” “অতীতের বহু জনপ্রিয় ধারাবাহিকে পারিবারিক দ্বন্দ্ব, সম্পর্কের জটিলতা তুলে ধরা হয়েছে, এমন কুরুচিকর শব্দ ব্যবহার করতে হয়নি!” এই অশ্রাব্য ভাষা মানা যায় না, ‘বাবলি সুন্দরী’তে বিনায়কের মেয়ের সংলাপ ঘিরে ক্ষো’ভে ফুঁসছেন দর্শকরা!
তাঁর কথায়, যাঁরা সীমান্তে দাঁড়িয়ে দেশের নিরাপত্তা নিশ্চিত করেন, তাঁদের সম্পর্কে এমন ভাষা ব্যবহার কখনও সমর্থন করা যায় না। এদিকে ভিডিওটি নিয়ে দেশজুড়ে সমালোচনা বাড়ার পর অভিযুক্ত যুবক বিভু গৌতম প্রকাশ্যে ক্ষমা চেয়েছেন। নতুন একটি ভিডিও বার্তায় তিনি স্বীকার করেন, আন্দোলনের উত্তেজনার মধ্যেই তিনি ওই অনুপযুক্ত মন্তব্য করেছিলেন। নিজের বক্তব্যের জন্য অনুশোচনা প্রকাশ করে সকলের কাছে ক্ষমাও চান তিনি। তবে এই ঘটনার পর মাফিন চক্রবর্তীর ভিডিও বার্তাও নেটিজেনদের মধ্যে ব্যাপক সাড়া ফেলেছে। অনেকেই তাঁর বক্তব্যকে সমর্থন জানিয়ে লিখেছেন, মত প্রকাশের অধিকার থাকলেও দেশের বীর জওয়ানদের সম্মান অক্ষুণ্ণ রাখা প্রত্যেক নাগরিকের দায়িত্ব।






