“কাকে বোকা বানাচ্ছেন শ্রীলেখা? প্রতিবাদ করতেই পারেন, কিন্তু তা যেন সমাজে অ’শ্লীলতা বা বিকৃতি না ছড়ায়!” নজর কাড়তে ‘ঠুনকো গিমিক’-এর আশ্রয়ের প্রয়োজন হয় না! শ্রীলেখা মিত্রের ‘চশমা পরিনি, তাই দেখিনি’ দাবিকে প্রশ্নবিদ্ধ করে প্রধানমন্ত্রীকে নিয়ে কু’রুচিকর পোস্টার বিতর্কে মুখ খুললেন ববি চক্রবর্তী! একহাত নিয়ে কী বললেন অভিনেতা?

কলকাতার ছাত্র আন্দোলনে প্রধানমন্ত্রীকে নিয়ে একটি কুরুচিকর কার্টুন-সহ পোস্টার হাতে দেখা যাওয়ার পর থেকেই বিতর্কের কেন্দ্রে রয়েছেন অভিনেত্রী শ্রীলেখা মিত্র। ঘটনাটি প্রকাশ্যে আসার পর সোশ্যাল মিডিয়া থেকে শুরু করে রাজনৈতিক মহল এবং বিনোদন জগতের একাংশের তরফেও তাঁকে নিয়ে সমালোচনা শুরু হয়। শ্রীলেখা মিত্রের দাবি, তিনি সেই সময় চশমা পরেননি, তাই পোস্টারে কী ছবি ছিল তা তাঁর নজরে আসেনি। তবে তাঁর এই ব্যাখ্যা অনেকেই মেনে নিতে পারেননি। একজন জনসম্মুখে পরিচিত ব্যক্তিত্ব হিসেবে পোস্টার হাতে নেওয়ার আগে তাঁর আরও সতর্ক হওয়া উচিত ছিল বলেও মত প্রকাশ করেছেন অনেকে।

এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে ইতিমধ্যেই নানা মহলে আলোচনা শুরু হয়েছে। সাধারণ মানুষ যেমন বিষয়টি নিয়ে নিজেদের মতামত জানিয়েছেন, তেমনই বিনোদন জগতের বহু পরিচিত মুখও এই বিতর্কে প্রতিক্রিয়া দিয়েছেন। কেউ শ্রীলেখা মিত্রের বক্তব্যকে সমর্থন করেছেন, আবার কেউ তাঁর দায়িত্ববোধ নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। প্রতিবাদ করার অধিকার সবার থাকলেও সেই প্রতিবাদের ভাষা ও উপস্থাপনা কতটা শালীন হওয়া উচিত, তা নিয়েও নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। এবার এই বিষয়েই মুখ খুলেছেন অভিনেতা ববি চক্রবর্তী। একটি সাক্ষাৎকারে তিনি স্পষ্ট ভাষায় বলেন, দুর্নীতির বিরুদ্ধে আন্দোলন অবশ্যই দীর্ঘস্থায়ী হওয়া উচিত। তাঁর কথায়, সমাজের একেবারে শিকড় পর্যন্ত দুর্নীতি ছড়িয়ে পড়েছে।

তাই এই ধরনের আন্দোলনের প্রয়োজন রয়েছে এবং তা বন্ধ হয়ে যাওয়া উচিত নয়। তবে প্রতিবাদের ধরন নিয়ে তিনি নিজের অবস্থানও স্পষ্ট করেছেন। ববি চক্রবর্তী বলেন, “উইথ গ্রেট পাওয়ার, কামস্ গ্রেটার রেস্পন্সিবিলিটি” এই কথাটিই তিনি বারবার মনে করিয়ে দিতে চান। তাঁর মতে, একজন জনসম্মুখে পরিচিত ব্যক্তিত্বের কাঁধে সাধারণ মানুষের তুলনায় অনেক বেশি দায়িত্ব থাকে। তাই প্রতিবাদ করতে গিয়েও কী বার্তা মানুষের কাছে পৌঁছাচ্ছে, সে বিষয়ে সচেতন থাকা অত্যন্ত জরুরি। শ্রীলেখা মিত্রের প্রসঙ্গে অভিনেতা বলেন, তিনি ব্যক্তিগতভাবে শ্রীলেখাকে অত্যন্ত সম্মান করেন। তাঁরা একসঙ্গে কাজও করেছেন। শ্রীলেখা একজন ভালো অভিনেত্রী এবং সুবক্তা বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

তবে এই ঘটনায় তাঁর কিছুটা দুঃখ হয়েছে বলে জানান ববি। তাঁর মতে, শুধুমাত্র নজর কাড়ার জন্য বা “ঠুনকো গিমিক”-এর আশ্রয় নেওয়ার কোনও প্রয়োজন ছিল না। একজন জনসম্মুখে পরিচিত মানুষ হিসেবে প্রতিবাদের ভাষা আরও গঠনমূলক হওয়া উচিত ছিল। তিনি আরও বলেন, শ্রীলেখা মিত্র যে কোনও রাজনৈতিক মতাদর্শকে সমর্থন করতেই পারেন এবং যে কোনও অন্যায়ের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানানোর পূর্ণ অধিকার তাঁর রয়েছে। কিন্তু সেই প্রতিবাদ যেন সমাজে অশ্লীলতা বা বিকৃতিকে উৎসাহিত না করে, সেই দায়িত্বও তাঁরই। অভিনেতার কথায়, “আমি যদি প্রতিবাদ করি, তাহলে সেই প্রতিবাদ যেন সমাজের প্রতি কোনও ভুল বার্তা না দেয়।” ববি চক্রবর্তীর দাবি, ওই পোস্টারটি শুধু শ্রীলেখা মিত্রের হাতেই ছিল না, আন্দোলনে অংশ নেওয়া বহু ছাত্র-ছাত্রীর হাতেও একই ধরনের পোস্টার দেখা গিয়েছিল।

আরও পড়ুনঃ হাসপাতালে দেড় মাস মৃ’ত্যুর সঙ্গে লড়াই, তবু একবারও দেখতে আসেননি স্ত্রী-মেয়ে! কথা বলার শক্তিও ছিল না! কী এমন ঘটেছিল তাঁর জীবনে, যে শেষে সময়ে সবচেয়ে আপন মানুষগুলোকেও পাশে পাননি তিনি? চার দশকের জনপ্রিয় অভিনেতা, শেষ জীবনের নিঃসঙ্গতার গল্প আজও চোখে জল আনে! মনে পড়ে পার্থসারথী দেবকে?

তাই সমস্ত দোষ শুধুমাত্র শ্রীলেখা মিত্রের উপর চাপিয়ে দেওয়াও ঠিক নয়। কিন্তু তিনি যেহেতু একজন পরিচিত মুখ, তাই স্বাভাবিকভাবেই মানুষের নজর তাঁর দিকেই বেশি গিয়েছে। এর ফলেই তাঁর বিরুদ্ধে একাধিক অভিযোগ এবং এফআইআর দায়ের হয়েছে বলে মত অভিনেতার। সবশেষে ববি বলেন, একজন অভিনেতা বা অভিনেত্রী সবসময়ই মানুষের নজরে থাকেন। তাঁদের প্রতিটি পদক্ষেপ সাধারণ মানুষের কাছে একটি বার্তা পৌঁছে দেয়। তাই প্রতিবাদ অবশ্যই হওয়া উচিত, কিন্তু তা যেন শালীন, সচেতন এবং সমাজের জন্য ইতিবাচক বার্তা বহন করে এই বিষয়টিই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।

You cannot copy content of this page