স্বামীর কাজ নেই, অভিনয়ের টাকাতেই এতদিন সংসারের খরচ চালিয়েছেন রমা গুহ! বর্তমানে শরীরে বাসা বেঁধেছে নানান অসু’খ, নিজেও আর কাজ করতে পারেন না! ওষুধ ও অপারেশনের খরচ বহন করতেই হিমশিম খাচ্ছেন, পাননি মেডিক্লেমের টাকাও! জমানো অর্থও শেষের পথে, কীভাবে দিন কাটাচ্ছেন প্রসেনজিতের মায়ের চরিত্রে দাপট দেখানো বর্ষীয়ান অভিনেত্রী?

বিনোদন জগতের পর্দায় যাঁদের দেখে দর্শক মুগ্ধ হন, তাঁদের জীবনের গল্প সবসময় ক্যামেরার সামনে ধরা পড়ে না। ঝলমলে আলো, জনপ্রিয়তা আর অসংখ্য চরিত্রের আড়ালে অনেক শিল্পীকেই জীবনের কঠিন সময় একাই সামলাতে হয়। অভিনয়ের মাধ্যমে বছরের পর বছর দর্শককে বিনোদন দেওয়া শিল্পীদের অনেকেরই একটা সময় বয়স, অসুস্থতা কিংবা কাজের অভাবের সঙ্গে লড়াই করতে হয়। তখন আর পর্দার সেই পরিচিতি দিয়ে সংসারের যাবতীয় দায়িত্ব সামলানো সহজ হয় না। বাংলা বিনোদন জগতের বর্ষীয়ান অভিনেত্রী রমা গুহর জীবনেও যেন সেই কঠিন বাস্তবতারই ছায়া দেখা দিয়েছে। একসময় যাঁর অভিনয়ে পর্দার চরিত্র প্রাণ পেত, আজ তাঁকেই নিজের সংসার, চিকিৎসা এবং ভবিষ্যৎ নিয়ে একাধিক চিন্তার মধ্যে দিন কাটাতে হচ্ছে।

বাংলা সিনেমা ও টেলিভিশনের দর্শকদের কাছে রমা গুহ অত্যন্ত পরিচিত মুখ। বিশেষ করে নব্বইয়ের দশকে একাধিক বাংলা ছবিতে প্রসেনজিৎ চট্টোপাধ্যায়ের মায়ের চরিত্রে অভিনয় করে তিনি দর্শকের নজর কেড়েছিলেন। তবে শুধু মায়ের চরিত্র নয়, বহু ছবিতে তাঁকে নেতিবাচক বা খলনায়িকার ভূমিকাতেও দেখা গিয়েছে। তাঁর অভিনয়ের বিশেষত্ব ছিল চরিত্রের মধ্যে আবেগ, কঠোরতা এবং বাস্তবতার ছাপ ফুটিয়ে তোলা। কিন্তু তাঁর অভিনয়জীবনের শুরু হয়েছিল মঞ্চ থেকে। অল্প বয়সেই নাটকের সঙ্গে যুক্ত হন তিনি। পরবর্তীকালে থিয়েটারের অভিজ্ঞতাকে সঙ্গে নিয়েই সিনেমা ও টেলিভিশনে নিজের জায়গা তৈরি করেন। দীর্ঘ অভিনয়জীবনে বহু চরিত্রে অভিনয় করলেও আজ তাঁর জীবনের গল্পের কেন্দ্রবিন্দুতে উঠে এসেছে অভিনয়ের সাফল্যের চেয়ে অনেক বেশি কঠিন এক বাস্তবতা।

সংসারের কঠিন সময়ে রমা গুহকে নিজের অভিনয়ের উপার্জনের উপরেই অনেকটা নির্ভর করতে হয়েছিল। স্বামীর নিয়মিত কাজ না থাকায় সংসারের দায়িত্বও নিজের কাঁধে তুলে নিয়েছিলেন তিনি। নিজের অভিনয়ের উপার্জন দিয়েই ফ্ল্যাটের খরচ থেকে শুরু করে সংসারের যাবতীয় প্রয়োজন মেটানোর চেষ্টা করেছেন। অর্থাৎ পর্দায় যে অভিনেত্রীকে দর্শক কখনও মায়ের ভূমিকায়, কখনও আবার কঠিন চরিত্রে দেখেছেন, বাস্তব জীবনে সেই মানুষটিকেই পরিবারের আর্থিক দায়িত্ব সামলাতে হয়েছে। বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে কাজের সুযোগ কমে যাওয়ায় সেই লড়াইটাই আরও কঠিন হয়ে উঠেছে। এখন হাতে আগের মতো কাজ নেই। ফলে একসময় যে অভিনয় ছিল তাঁর আয়ের প্রধান অবলম্বন, সেই জায়গাটিই আজ অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে। আর এখানেই তৈরি হয়েছে ভবিষ্যৎ নিয়ে বড় দুশ্চিন্তা।

এর মধ্যেই শারীরিক সমস্যাও তাঁর জীবনে নতুন চাপ তৈরি করেছে। গলব্লাডারে স্টোন ধরা পড়ার পর অস্ত্রোপচার করাতে হয়েছে তাঁকে। চিকিৎসার খরচ, নিয়মিত ওষুধের খরচ এবং তার পাশাপাশি সংসারের দৈনন্দিন ব্যয় সবকিছুই সামলাতে হয়েছে একাই। পরিস্থিতি আরও কঠিন হয়ে ওঠে যখন আর্টিস্ট ফোরাম থেকে পাওয়া মেডিক্লেমের টাকাও আর পাওয়া যাচ্ছিল না বলে জানা যায়। ফলে চিকিৎসা এবং সংসারের খরচের চাপ একসঙ্গে এসে পড়েছে তাঁর উপর। একদিকে কাজের অভাব, অন্যদিকে বয়স ও অসুস্থতার কারণে বাড়তে থাকা খরচ সব মিলিয়ে পরিস্থিতি সামলাতে গিয়ে নাজেহাল হয়ে পড়েছেন বর্ষীয়ান অভিনেত্রী। এত বছর অভিনয় করে যে অর্থ তিনি সঞ্চয় করেছিলেন, সেই জমানো টাকাও ধীরে ধীরে বিভিন্ন প্রয়োজন মেটাতে খরচ হয়ে যাচ্ছে। ফলে আগামী দিন নিয়ে উদ্বেগ ক্রমশ বাড়ছে।

আরও পড়ুনঃ “স্বস্তিকার মতো এতগুলো সম্পর্ক নিয়ে শিরোনামে উঠিনি, তাই আজকে…” “পরিচালককে সেই চরিত্রের জন্য যথেষ্টভাবে ‘কনভেন্স’ করতে…” নতুন ‘দিদি নাম্বার ওয়ান’কে নিয়ে বি*স্ফোরক শ্রীলেখা মিত্র! এতদিন নিজে কীভাবে কাজ পেয়েছেন, সেই উদাহরণ টেনে হঠাৎ স্বস্তিকা মুখোপাধ্যায়কে নিয়ে কেন একের পর এক চাঞ্চল্যকর দাবি অভিনেত্রীর? প্রকাশ্যে এল কোন তিক্ত অভিজ্ঞতা?

রমা গুহর জীবনের এই অধ্যায় যেন বিনোদন জগতের সেই বাস্তব ছবিটাই সামনে আনে, যা পর্দার ঝলমলে আলোর আড়ালে থেকে যায়। একসময় যাঁর অভিনয় দর্শকের বিনোদনের কারণ ছিল, আজ সেই শিল্পীকেই নিজের জীবনের কঠিন হিসেব মেলাতে হচ্ছে। সংসারের খরচ, নিজের চিকিৎসা, ওষুধ এবং অনিশ্চিত ভবিষ্যৎ সবকিছু একসঙ্গে সামলে চলা তাঁর জন্য ক্রমশ কঠিন হয়ে উঠছে। হাতে থাকা সঞ্চয়ও যদি এভাবেই শেষ হতে থাকে এবং ভবিষ্যতে নতুন করে কাজের সুযোগ না আসে, তাহলে আর্থিক সংকট আরও গভীর হতে পারে। তাই প্রশ্নটা শুধু একজন অভিনেত্রীর কাজ পাওয়ার নয়, বরং দীর্ঘ অভিনয়জীবন কাটানো এক বর্ষীয়ান শিল্পীর ভবিষ্যৎ নিরাপত্তারও। যে রমা গুহ একসময় পর্দায় অন্যের জীবনের গল্প বলতেন, আজ তাঁর নিজের জীবনই যেন হয়ে উঠেছে এক কঠিন, আবেগঘন বাস্তব গল্প।

You cannot copy content of this page