বাংলা বিনোদন জগতের অন্যতম পরিচিত মুখ মীর আফসার আলী (Mir Afsar Ali)। রেডিও জকি, সঞ্চালক, অভিনেতা, কণ্ঠশিল্পী এবং লেখক হিসেবে দীর্ঘদিন ধরে তিনি দর্শক-শ্রোতাদের মন জয় করে চলেছেন। নব্বইয়ের দশকে রেডিওর জগতে যাত্রা শুরু করে নিজের স্বতন্ত্র উপস্থাপনার ভঙ্গিতে তিনি খুব অল্প সময়ের মধ্যেই জনপ্রিয় হয়ে ওঠেন। পরে টেলিভিশন, সিনেমা, মঞ্চ সঞ্চালনা এবং ডিজিটাল মাধ্যমেও সমান দক্ষতার পরিচয় দেন। তবে তাঁর পরিচয়ের সবচেয়ে বড় অংশ জুড়েই রয়েছে রেডিও। সেই কারণেই রেডিও জীবনের প্রথম দিনের স্মৃতি আজও তাঁর কাছে বিশেষ আবেগের। সম্প্রতি সেই স্মৃতিকেই আবারও ফিরিয়ে আনলেন মীর।
আজ নিজের সমাজ মাধ্যমের পাতায় একটি বহু পুরনো ছবি পোস্ট করেছেন মীর। ছবিটির বয়স ঠিক ৩২ বছর। ছবিতে দেখা যাচ্ছে, একটি রেডিও স্টুডিওর ভিতরে তরুণ দাঁড়িয়ে রয়েছেন। সামনে বসে রয়েছেন মীর। তাঁদের সামনে রয়েছে মাইক্রোফোন, অডিও কনসোল, টেপ মেশিন এবং সম্প্রচারের বিভিন্ন যন্ত্রপাতি। স্টুডিওর সেই পরিবেশ যেন নব্বইয়ের দশকের রেডিও সম্প্রচারের এক টুকরো স্মৃতিকে ফিরিয়ে এনেছে। ছবিটির সঙ্গে মীর লিখেছেন, “এই ছবিটার বয়স, আজকেরই দিনে পাক্কা ৩২ বছর। তখন থেকে ৩টে অভ্যাস আমার সকালটার দখল নিল। ১) ভোরবেলা ঘুম থেকে উঠেই দাঁত মাজা/শেভ করা/স্নান ২) এক কাপ দুধ চা, চিনি দিয়ে ৩) রেডিও। ৪ বছর হল, শুধু ৩-টা মিসিং।”
মীরের এই পোস্ট প্রকাশ্যে আসতেই আবেগে ভেসেছেন তাঁর অসংখ্য অনুরাগী। কারণ, দীর্ঘ প্রায় তিন দশকেরও বেশি সময় রেডিওর সঙ্গে তাঁর পথচলা বহু মানুষের প্রতিদিনের জীবনের অংশ হয়ে উঠেছিল। আকাশবাণী দিয়ে শুরু হওয়া সেই সফরের পর তিনি এফএম রেডিওতেও দারুণ জনপ্রিয়তা পান। বিশেষ করে রেডিও মিরচিতে তাঁর অনুষ্ঠান এবং উপস্থাপনার ধরণ তাঁকে বাংলার অন্যতম জনপ্রিয় আরজে হিসেবে প্রতিষ্ঠা দেয়। হাস্যরস, বুদ্ধিদীপ্ত কথা এবং শ্রোতাদের সঙ্গে সহজ যোগাযোগই ছিল তাঁর সবচেয়ে বড় শক্তি। সেই কারণেই তাঁর কণ্ঠ বহু মানুষের সকালের সঙ্গী হয়ে উঠেছিল।
তবে ২০২২ সালে দীর্ঘ পথচলার ইতি টেনে রেডিও মিরচি থেকে বিদায় নেন মীর। সেই সময় তাঁর বিদায়ের খবর শ্রোতাদের মধ্যে যথেষ্ট আবেগের সৃষ্টি করেছিল। এরপর অভিনয়, সঞ্চালনা, ওয়েব কনটেন্ট, সামাজিক উদ্যোগ এবং অন্যান্য সৃজনশীল কাজ নিয়েই নিজেকে ব্যস্ত রেখেছেন তিনি। তবুও রেডিওর সঙ্গে তাঁর আত্মিক সম্পর্ক যে আজও অটুট, তা স্পষ্ট হয়ে উঠেছে এই পোস্টে। চার বছর ধরে রেডিওর সকালের অভ্যাস না থাকলেও, সেই প্রথম দিনের স্মৃতি এখনও তাঁর কাছে সমান উজ্জ্বল। তাই ৩২ বছর আগের সেই ছবিটি ভাগ করে নিয়ে যেন নিজের পথচলার শুরুটাকেই আবার একবার স্মরণ করলেন তিনি।
আরও পড়ুনঃ “তমসা শুধু প্রতিশো’ধ নিচ্ছে না, বরং তিলোত্তমাদের জন্য ন্যায়বিচারের প্রতীক হয়ে উঠছে!” “আইনের ফাঁক গলে যারা পার পেয়ে যায়, তাদের বিরুদ্ধে তমসার লড়াইকে কুর্নিশ!” যেভাবে অ’ত্যা’চার করেছিল, ঠিক সেভাবেই জবাব দিল! প্রশংসায় ভরল নেটপাড়া, ‘তিলোত্তমা’র গতকালের পর্ব ছিল ১০০-তে ১০০! দর্শকদের একটাই দাবি, এমন গল্পই তো চাই বাংলা টেলিভিশনে! আপনারাও কি একমত?
বর্তমানে অভিনয়, সঞ্চালনা এবং বিভিন্ন সামাজিক উদ্যোগে নিয়মিত সক্রিয় থাকলেও মীরের এই পোস্ট অনুরাগীদের কাছে যেন এক টুকরো নস্টালজিয়া হয়ে ধরা দিয়েছে। অনেকেই মন্তব্য করে জানিয়েছেন, তাঁদের সকাল আজও মীরের কণ্ঠস্বরকে মিস করে। আবার কেউ লিখেছেন, রেডিওর সেই সোনালি দিনগুলোর কথা এই পোস্ট নতুন করে মনে করিয়ে দিল। একটি পুরনো ছবি এবং কয়েকটি লাইনের মধ্যেই মীর যেন বুঝিয়ে দিলেন, জীবনের কিছু অভ্যাস বদলে গেলেও, কিছু স্মৃতি কখনও পুরনো হয় না। আর সেই স্মৃতিই আজও তাঁকে ফিরিয়ে নিয়ে যায় ৩২ বছর আগের সেই প্রথম সম্প্রচারের দিনে।






