টলিউডের অন্দরে কাজের সুযোগ এবং সংগঠনের ভূমিকা নিয়ে বিতর্কের মধ্যেই ফের আলোচনায় রূপসজ্জাশিল্পী সিমরন পাল (Simran Paul)। প্রায় দু’বছর ধরে কাজ না পাওয়ার অভিযোগ তুলে তিনি এর আগে ফেডারেশনের কাছে লিখিত অভিযোগ জানিয়েছিলেন। তাঁর দাবি ছিল, বারবার গিল্ডের সম্পাদক বাপি মালাকারকে জানিয়েও সমস্যার সমাধান হয়নি। এরপর ফেডারেশন সভাপতি স্বরূপ বিশ্বাসকে বিষয়টি জানিয়ে চিঠি দেন তিনি। সেই সময় অভিযোগ ওঠে, চিঠি দেওয়ার পর থেকেই সিমরনকে প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হচ্ছে। পরিস্থিতির মধ্যে ব্যক্তিগত নিরাপত্তা চেয়ে থানাতেও লিখিত অভিযোগ জানিয়েছিলেন তিনি। পরে সমাজ মাধ্যমে নিজের কর্মহীনতা এবং হুমকির কথা জানিয়ে একটি ভিডিয়ো প্রকাশ করেন সিমরন।
সেই ভিডিয়োই নজরে আসে অভিনেতা দেবের। বিষয়টি প্রকাশ্যে আসার পর সিমরনের পাশে দাঁড়িয়ে তাঁকে কাজ দিয়ে সহযোগিতা করার আশ্বাস দিয়েছিলেন দেব। পাশাপাশি তিনি প্রশ্ন তুলেছিলেন, একজনের পর একজনকে ব্যক্তিগতভাবে কাজ দেওয়া কারও পক্ষেই সম্ভব নয়। তাঁর মতে, কাজ আনা এবং নতুন প্রযোজক নিয়ে আসার মাধ্যমে ইন্ডাস্ট্রিতে কাজের সুযোগ বাড়ানোই বড় সমাধান। ফেডারেশনের উদ্দেশে দেবের আবেদন ছিল, নতুন কাজ নিয়মের অজুহাতে যেন আটকে না দেওয়া হয়। তাঁর বক্তব্য ছিল, কাজ বন্ধ করে দেওয়া বা নিষেধাজ্ঞার সংস্কৃতি চলতে থাকলে শেষ পর্যন্ত গোটা ইন্ডাস্ট্রিই ক্ষতিগ্রস্ত হবে। এই পরিস্থিতির মধ্যেই এবার পুরনো অভিযোগের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ নিয়ে সম্পূর্ণ নতুন বক্তব্য সামনে আনলেন সিমরন।
সম্প্রতি নিজের সমাজ মাধ্যমের পাতায় একটি ভিডিয়ো প্রকাশ করে সিমরন জানান, স্বরূপ বিশ্বাসের বিরুদ্ধে করা অভিযোগ তিনি তুলে নিয়েছেন। তাঁর দাবি, “স্বরূপ বিশ্বাসের বিরুদ্ধে করা কেস তুলে নিয়েছি। কারণ স্বরূপ বিশ্বাস আমার শ্লী*লতাহানি করেননি। ওনার সঙ্গে আমার কোনোদিন সামনাসামনি কথাই হয়নি।” সিমরনের বক্তব্য অনুযায়ী, কিছু মানুষের প্ররোচনা এবং তাঁদের বোঝানো কথায় বিশ্বাস করেই তিনি ওই অভিযোগ করেছিলেন। পরে বিষয়টি বুঝতে পারার পর থেকেই মামলা তুলে নেওয়ার চেষ্টা করছিলেন বলে দাবি করেন তিনি। তবে ভয় এবং পরিস্থিতির কারণে এতদিন তা করতে পারেননি বলেও জানান। শেষ পর্যন্ত সাহস করে মামলা তুলে নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন বলে ভিডিয়োতে জানান সিমরন।
নিজের বক্তব্যে সিমরন স্বরূপ বিশ্বাসের কাছে ক্ষমাও চেয়েছেন। তাঁর কথায়, তাঁর অভিযোগের কারণে স্বরূপকে অকারণে জেল খাটতে হয়েছে এবং কিছু না করেও তাঁর বদনাম হয়েছে। তাই তাঁকে হাতজোড় করে ক্ষমা চেয়ে সিমরন বলেন, “পারলে ছোটো বোন মনে করে আমাকে মাফ করে দেবেন। আপনার সঙ্গে খুব অন্যায় হয়েছে।” তবে কারা তাঁকে দিয়ে এই অভিযোগ করিয়েছিল, তাঁদের নাম তিনি প্রকাশ্যে আনতে চাননি। তাঁর বক্তব্য, আর কোনও ঝামেলা বা অশান্তি চান না, তিনি শুধু কাজ করতে চান। একইসঙ্গে স্বরূপ বিশ্বাসের বিরুদ্ধে যে অভিযোগ তিনি করেছিলেন, তা আদৌ সত্যি ছিল না বলেই নিজের ভিডিয়োতে দাবি করেছেন সিমরন। এই বক্তব্য প্রকাশ্যে আসার পর আগের ঘটনাপ্রবাহ নিয়েও নতুন করে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে।
আরও পড়ুনঃ “উনি আমার বাবা, আমি ওঁর ছেলে…রাজনীতি আলাদা হতে পারে, কিন্তু এই সম্পর্ক কোনওদিন বদলাবে না!” কলকাতায় ফিরেই আর এক মুহূর্ত দেরি নয়, মিঠুনকে দেখতে হাসপাতালে ছুটলেন দেব! আবেগঘন বার্তায় কী জানালেন? এখন কেমন আছেন তিনি?
ভিডিয়োতে সিমরন আরও দাবি করেন, যে ব্যক্তির (বাপি মালাকার) বিরুদ্ধে তাঁর আসল অভিযোগ ছিল, তাঁর বিরুদ্ধে কোনও শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। বরং তিনি যে অভিযোগ করেননি, সেটিকেই অন্যভাবে দেখিয়ে স্বরূপ বিশ্বাসকে গ্রেফতার করা হয়েছিল বলে দাবি তাঁর। থানায় যে চিঠি জমা দেওয়া হয়েছিল, সেটিও নিজের হাতে লেখা নয় বলে অভিযোগ করেন সিমরন। এমনকি সেই চিঠিতে থাকা স্বাক্ষরও তাঁকে জোর করে করানো হয়েছিল বলে দাবি করেছেন তিনি। পাশাপাশি তাঁর বক্তব্য, রাজনৈতিক পরিস্থিতি এবং কিছু ব্যক্তির কথায় প্রভাবিত হয়ে তিনি তাড়াহুড়ো করে সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন। তবে স্বরূপ বিশ্বাসের সঙ্গে কোনওদিন তাঁর সামনাসামনি দেখা হয়নি বলেও স্পষ্ট জানিয়েছেন সিমরন। ফলে তাঁর নতুন বক্তব্য ঘিরে টলিপাড়ার অন্দরমহলে ফের শুরু হয়েছে জোর আলোচনা।






