ক্যা*ন্সারের পাশাপাশি কিডনিও অকেজো, মহানায়কের সঙ্গে পর্দা ভাগ করা অভিনেত্রীর শেষ জীবন কেটেছিল চরম ক’ষ্টে! মায়ের দায়িত্ব নিতে অস্বীকার করে সন্তানরা, হাতে গোনা কয়েকজন ছাড়া পাশে দাঁড়ায়নি ইন্ডাস্ট্রিরও! আজ প্রথম মৃ’ত্যুবার্ষিকীতে বাসন্তী চট্টোপাধ্যায়কে আমাদের বিনম্র শ্রদ্ধাঞ্জলি! জানুন, তাঁর জীবনের শুরু থেকে অন্তিম দিন পর্যন্ত সবটা!

বাংলা অভিনয় জগতের বর্ষীয়ান অভিনেত্রী বাসন্তী চট্টোপাধ্যায়ের (Basanti Chatterjee) আজ প্রথম মৃত্যুবার্ষিকী। মহানায়ক উত্তম কুমারের সঙ্গে পর্দা ভাগ করে নেওয়া এই অভিনেত্রী ছোটবেলা থেকেই অভিনয়ের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। দীর্ঘ অভিনয় জীবনে একাধিক চরিত্রে নিজের দক্ষতার ছাপ রেখে গিয়েছেন তিনি। অভিনয়কে শুধু পেশা হিসেবে নয়, জীবনের অবিচ্ছেদ্য অংশ হিসেবেই দেখেছিলেন বাসন্তী দেবী। জীবনের শেষ দিন পর্যন্ত সেই ভালোবাসা থেকে নিজেকে সরিয়ে নেননি। তবে জীবনের শেষ অধ্যায়টা মোটেই সহজ ছিল না তাঁর জন্য। একাধিক শারীরিক সমস্যায় জর্জরিত হয়ে শেষ বয়সে তাঁকে দীর্ঘ সময় চিকিৎসার মধ্যে থাকতে হয়েছিল।

বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে একের পর এক অসুস্থতা বাসন্তী চট্টোপাধ্যায়ের শরীরকে দুর্বল করে দেয়। ক্যা*ন্সারের পাশাপাশি তাঁর কিডনিও অকেজো হয়ে গিয়েছিল বলে জানা যায়। এমনকি এক সময় পড়ে গিয়ে কোমরে মারাত্মক চোট লাগায় বিছানা বন্দি হয়ে থাকেন কিছুদিন।এছাড়াও বার্ধক্যজনিত নানান জটিলতায় ভুগছিলেন তিনি। এই কঠিন সময়ে সবচেয়ে বেদনাদায়ক বিষয় হয়ে উঠেছিল কাছের মানুষদের কাছ থেকে প্রয়োজনীয় সাহায্য না পাওয়া। জানা যায়, তাঁর ছেলে-মেয়ের কেউই সেই সময়ে চিকিৎসার দায়িত্ব নেননি। ফলে শারীরিক কষ্টের পাশাপাশি মানসিকভাবেও কঠিন পরিস্থিতির মধ্যে দিয়ে যেতে হয়েছিল অভিনেত্রীকে। তবে সম্পূর্ণ একা ছিলেন না তিনি, কারণ রক্তের সম্পর্ক না থাকা কয়েকজন মানুষ শেষ পর্যন্ত তাঁর পাশে দাঁড়িয়েছিলেন।

বাসন্তী দেবীর চিকিৎসার দায়িত্ব অনেকটাই নিজের কাঁধে তুলে নিয়েছিলেন তাঁর গাড়ির চালক। নিজের সামর্থ্যের সবটুকু দিয়ে তিনি চিকিৎসার খরচ জোগাড় করার চেষ্টা করেছিলেন। প্রয়োজনে বন্ধুদের কাছ থেকেও ধার করে অভিনেত্রীর চিকিৎসা চালিয়ে গিয়েছিলেন তিনি। এমনকি কখনও কখনও প্রযোজক স্নেহাশিস চক্রবর্তী ও ভাস্বর চট্টোপাধ্যায়ও সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দিয়েছিলেন। হাসপাতালের বিল মেটানোর ক্ষেত্রেও তিনি এগিয়ে এসেছিলেন বলে জানা যায়। রক্তের সম্পর্কের মানুষদের কাছ থেকে প্রয়োজনীয় সহযোগিতা না পেলেও এই মানুষগুলির মানবিকতাই শেষ জীবনে বাসন্তী দেবীর বড় ভরসা হয়ে উঠেছিল।

তাঁর জীবনের শেষ সময় তাই একদিকে যেমন নিঃসঙ্গতা ও কষ্টের ছবি দেখিয়েছে, তেমনই অন্যদিকে কয়েকজন মানুষের নিঃস্বার্থ সহানুভূতির কথাও মনে করিয়ে দিয়েছে। শৈশব থেকে অভিনয়ের শুরু, তারপর বাংলা চলচ্চিত্রের স্বর্ণযুগের অন্যতম নায়ক উত্তম কুমারের সঙ্গে কাজ, সব মিলিয়ে বাসন্তী চট্টোপাধ্যায়ের অভিনয় জীবন ছিল দীর্ঘ ও স্মরণীয়। বয়সের ভার এবং নানান অসুস্থতা তাঁকে দুর্বল করলেও অভিনয়ের প্রতি তাঁর টান শেষ পর্যন্ত অটুট ছিল। জীবনের শেষ দিনগুলিতেও তিনি চিকিৎসাধীন অবস্থায় ছিলেন। অবশেষে ২০২৫ সালের ১৩ অগস্ট, ৮৮ বছর বয়সে চিকিৎসাধীন অবস্থায় প্র’য়াত হন এই বর্ষীয়ান অভিনেত্রী।

আরও পড়ুনঃ ‘নিজেকে আমার শাশুড়ি বলে, ব্যবহারও ঠিক তেমন!’ কাঞ্চনের মায়ের সঙ্গে বিশেষ দেখা-সাক্ষাৎই হয়নি, তবু কৃষভির আচরণ হুবহু তাঁর মতো! একরত্তির অদ্ভুত স্বভাব, মেয়ের মুখে কোন কথাটা বারবার শুনে অবাক অভিনেত্রী?

তাঁর চলে যাওয়ার সঙ্গে বাংলা অভিনয় জগতের আরও একটি স্মরণীয় অধ্যায়ের অবসান ঘটে। পর্দায় তাঁর কাজ আজও দর্শকদের মনে জায়গা করে রয়েছে। তবে তাঁর শেষ জীবনের লড়াই এবং পাশে দাঁড়ানো কয়েকজন মানুষের মানবিকতার ঘটনাও তাঁর জীবনকাহিনির গুরুত্বপূর্ণ অংশ হয়ে থাকবে। আজ, ১৩ অগস্ট ২০২৬, বাসন্তী চট্টোপাধ্যায়ের প্রথম মৃত্যুবার্ষিকী। এই বিশেষ দিনে ফিরে দেখলে তাঁর জীবনের সাফল্যের পাশাপাশি শেষ সময়ের কঠিন বাস্তবতাও সামনে আসে। অভিনয়ের প্রতি ভালোবাসা এবং মানুষের পাশে দাঁড়ানোর এই স্মৃতি তাঁর চলে যাওয়ার পরেও থেকে গিয়েছে। প্রথম মৃত্যুবার্ষিকীতে তাই বর্ষীয়ান অভিনেত্রী বাসন্তী চট্টোপাধ্যায়ের প্রতি রইল গভীর শ্রদ্ধা ও স্মরণ।

You cannot copy content of this page