“মাত্র ৫ হাজার থেকে এক লাফে ১ লক্ষ!” সুচিত্রা সেনের সেই এক ফোনে কীভাবে রাতারাতি বদলে গেল উত্তম কুমারের পারিশ্রমিকের অঙ্ক? ১৯৫৮ সালে ‘ইন্দ্রাণী’-র জন্য এমন কী করেছিলেন মহানায়িকার, যা বদলে দিয়েছিল মহানায়কের পরিচিতি?

বিনোদন জগতের ঝলমলে পর্দার আড়ালে এমন বহু অজানা অধ্যায় লুকিয়ে থাকে, যা সাধারণ দর্শকের কাছে সহজে পৌঁছয় না। তারকাদের জনপ্রিয়তা, সাফল্য কিংবা জুটির রসায়নের গল্প আমরা জানলেও, সেই সাফল্যের পিছনে থাকা ছোট ছোট ঘটনা অনেক সময় থেকে যায় আড়ালেই। বিশেষ করে বাংলা সিনেমার স্বর্ণযুগের শিল্পীদের জীবন ঘিরে এমন অনেক গল্প রয়েছে, যা আজও সিনেমাপ্রেমীদের কৌতূহলী করে। তেমনই এক চর্চিত ঘটনা উত্তম কুমার ও সুচিত্রা সেনকে ঘিরে। তাঁদের জুটির জনপ্রিয়তার গল্পের পাশাপাশি পারিশ্রমিকের ক্ষেত্রেও কীভাবে একে অপরের পাশে দাঁড়িয়েছিলেন, সেই কাহিনি আজও আলোচনায় আসে।

বাংলা চলচ্চিত্রের ইতিহাসে উত্তম কুমার ও সুচিত্রা সেন নাম দুটি যেন একে অপরের পরিপূরক। পর্দায় তাঁদের রোম্যান্টিক রসায়ন একসময় দর্শকের মনে আলাদা জায়গা তৈরি করেছিল। ‘সাড়ে চুয়াত্তর’ থেকে শুরু করে একের পর এক ছবিতে তাঁদের জুটি জনপ্রিয়তার নতুন সংজ্ঞা তৈরি করে। তবে তাঁদের ক্যারিয়ারের শুরুটা কিন্তু একরকম ছিল না। উত্তম কুমার ধীরে ধীরে নিজের জায়গা তৈরি করছিলেন, অন্যদিকে সুচিত্রা সেন তখনই প্রতিষ্ঠিত তারকা। সেই সময় তাঁদের পারিশ্রমিকের ব্যবধানও ছিল চোখে পড়ার মতো। আর ‘ইন্দ্রাণী’ ছবিকে ঘিরেই নাকি সেই ব্যবধান রাতারাতি বদলে যায়।

তথ্য অনুযায়ী, উত্তম কুমার যখন চলচ্চিত্রে আসেন, তখন ছবি প্রতি তাঁর পারিশ্রমিক ছিল প্রায় ৫ হাজার টাকা। অন্যদিকে সুচিত্রা সেন ছবি প্রতি নিতেন প্রায় ১ লক্ষ টাকা। ‘সাড়ে চুয়াত্তর’-এর পর ‘বসু পরিবার’-এর মতো ছবির মাধ্যমে উত্তম কুমার নিজের পরিচিতি আরও মজবুত করে তুললেও সুচিত্রা তখনও ছিলেন প্রতিষ্ঠিত নায়িকা। ১৯৫৮ সালে পরিচালক নীরেন লাহিড়ী ‘ইন্দ্রাণী’ ছবির জন্য উত্তম-সুচিত্রাকে জুটি হিসেবে ভাবেন। প্রযোজকের তরফে সুচিত্রা সেনের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি পারিশ্রমিক হিসেবে ১ লক্ষ টাকা দাবি করেন। সেই সময়ের হিসেবে অঙ্কটি যে কতটা বড় ছিল, তা সহজেই অনুমেয়। শেষ পর্যন্ত তাঁর দাবি মেনে নেওয়া হয়।

এরপর আসে উত্তম কুমারের পালা। প্রযোজক তাঁর কাছে যাওয়ার আগেই সুচিত্রা সেন নাকি উত্তম কুমারকে ফোন করে একই অঙ্কের পারিশ্রমিক নিতে বলেন। প্রযোজক যখন উত্তম কুমারের কাছে পারিশ্রমিকের কথা জানতে চান, তখন তিনিও ১ লক্ষ টাকা দাবি করেন। এতে স্বাভাবিকভাবেই অবাক হয়ে যান প্রযোজক। তিনি উত্তম কুমারকে জিজ্ঞাসা করেন, সুচিত্রা সেন তাঁকে কিছু বলেছেন কি না। উত্তম কুমার অবশ্য জানান, সুচিত্রা এ বিষয়ে তাঁকে কিছু বলেননি। এভাবেই প্রচলিত এই কাহিনি অনুযায়ী, সুচিত্রা সেনের উদ্যোগেই উত্তম কুমারের পারিশ্রমিক ৫ হাজার টাকা থেকে এক লাফে ১ লক্ষ টাকায় পৌঁছেছিল।

আরও পড়ুনঃ মাটির ভাঁড়ে চা নয়, তাঁর চাই রেড ওয়াইন! ‘বিগ বস বাংলা’র ঘরে পা রাখতেই যাঁকে ঘিরে এত চর্চা, মনামী-সৃজলাদের ভিড়ে নজর কাড়ছেন কে এই বাঙালি কন্যা, জয়িতা চট্টোপাধ্যায়? জানুন, তাঁর আসল পরিচয়ের খুঁটিনাটি!

‘ইন্দ্রাণী’ ছবির সঙ্গে আরও একটি উল্লেখযোগ্য তথ্য জড়িয়ে রয়েছে। এই ছবিতে প্রথমবারের মতো হিন্দি গান অন্তর্ভুক্ত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল বলে জানা যায়। সুরকার নচিকেতা ঘোষ এবং হেমন্ত মুখোপাধ্যায়ের সঙ্গে সেই গানের প্রসঙ্গও উঠে আসে। তৎকালীন বোম্বের জনপ্রিয় গায়ক মোহাম্মদ রফির কাছে গানটির জন্য ৫০০ টাকা পারিশ্রমিক চাওয়া হয়েছিল বলে প্রচলিত আছে। কিন্তু গানটির কথা ও সুর শোনার পর রফি সাহেব নাকি বিনা পারিশ্রমিকেই গানটি গেয়ে দেন। ফলে উত্তম-সুচিত্রার জনপ্রিয় জুটির পাশাপাশি ‘ইন্দ্রাণী’ বাংলা সিনেমার ইতিহাসে আরও একটি স্মরণীয় অধ্যায় হিসেবেও উঠে আসে।

You cannot copy content of this page