টাস্ক চলাকালীন নিশ্চিন্তে ঘুম! ‘বিগ বস’-এর সদস্যদের পাশে নেই অনিন্দ্য, অভিনেতার আচরণে বেজায় চটেছেন দর্শক! সবার আগে তাঁকেই এলিমিনেট করার দাবি উঠছে, আপনারাও কি তাই চাইছেন?

ক্যাপ্টেন ভরত কলের নির্দেশে ‘বিগ বস’ বাংলায় ২ সেপ্টেম্বর শুরু হয়েছে প্রথম টাস্ক। লাক্সারি বাজেট পাওয়ার পাশাপাশি মূল ঘরে ঢোকার সুযোগ পেতেই ডাগহাউসের সদস্যদের এই কঠিন টাস্কে অংশ নিতে হয়েছে। এই মুহূর্তে ডাগহাউসে রয়েছেন দুর্নিবার সাহা, দীপেন্দু বিশ্বাস, ঝিলাম গুপ্ত, সোহিনী পাল, তনুশ্রী রায় দাস এবং জয়িতা চ্যাটার্জি। প্রায় সারাদিন ধরে তাঁদের একের পর এক কাজ করতে দেখা যায়। কখনও নোংরা পরিষ্কার করা, কখনও রাস্তা মেরামত করা, আবার কখনও মাঝরাতে চাকা ঘুরিয়ে আলো জ্বালানোর মতো কঠিন টাস্কও করতে হয়েছে তাঁদের। ভরত কল এবং ‘বিগ বস’-এর মূল ঘরের সদস্যদের তত্ত্বাবধানেই চলেছে এই সমস্ত কাজ।

টাস্ক চলাকালীন কখনও মনামী, সায়ক, কখনও নন্দিনী ও সোনামণি, আবার কখনও নিরঞ্জনকে ডাগহাউসের সদস্যদের পাশে থাকতে দেখা গিয়েছে। বিশেষ করে রাত দেড়টা থেকে ভোর তিনটে পর্যন্ত যখন দুর্নিবার, দীপেন্দু, সোহিনী, তনুশ্রী এবং জয়িতা শেষ টাস্কে ব্যস্ত ছিলেন, তখনও মূল ঘরের বেশ কয়েকজন সদস্য তাঁদের মনোবল বাড়াতে পাশে ছিলেন। কিন্তু দর্শকদের নজরে পড়েছে অন্য একটি বিষয়। এত কিছুর মধ্যেও অনিন্দ্য সেনগুপ্তকে কার্যত কোথাও দেখা যায়নি। বরং শেষ টাস্ক চলার সময় অন্যরা যখন নিজেদের সহ প্রতিযোগীদের উৎসাহ দিচ্ছিলেন, তখন অনিন্দ্য নিজের বিছানায় নিশ্চিন্তে ঘুমোচ্ছিলেন বলেই দেখা যায়। তাঁর এই আচরণই এখন ‘বিগ বস’ দর্শকদের একাংশের ক্ষোভের কারণ হয়ে উঠেছে।

অনিন্দ্য সেনগুপ্তের এই আচরণ নিয়ে ইতিমধ্যেই সোশ্যাল মিডিয়ায় শুরু হয়েছে নানা আলোচনা এবং কটাক্ষ। দর্শকদের একাংশের প্রশ্ন, যখন ডাগহাউসের সদস্যরা দিনের পর দিন কঠিন পরিশ্রম করছেন, তখন তাঁদের পাশে থাকার জন্য কেন অনিন্দ্যকে দেখা গেল না? অন্য সদস্যরা যদি মাঝরাতেও তাঁদের সহ প্রতিযোগীদের উৎসাহ দিতে পারেন, তাহলে অনিন্দ্য কেন নিজের ঘরে ঘুমিয়ে থাকলেন, তা নিয়েই উঠছে প্রশ্ন। অন্যদিকে, ‘বিগ বস’-এর ঘরের ভিতরের সমীকরণও ক্রমশ জটিল হচ্ছে। ঝগড়া, মন কষাকষি এবং ভুল বোঝাবুঝির কারণে প্রতিটি পর্বেই তৈরি হচ্ছে নতুন চর্চা। ইতিমধ্যেই নন্দিনী ও জয়িতার কথাকাটাকাটি নিয়ে দর্শকদের মধ্যে শুরু হয়েছে বিস্তর আলোচনা। তবে অনিন্দ্যকে নিয়ে ক্ষোভের মাত্রাই এখন বেশি নজরে পড়ছে।

আরও পড়ুনঃ দেব, জুন, সায়নী, রচনা ও শতাব্দি সহ ২০ বিদ্রোহী সাংসদকে আপাতত স্বস্তি! তিন সপ্তাহ বাড়তি সময় দিলেন স্পিকার! ২২ সেপ্টেম্বরের মধ্যে জবাব দিতেই হবে, নিয়ম লঙ্ঘনের ফল নচেৎ আরও হবে খারাপ? দলত্যাগী তারকা সাংসদদের বিরুদ্ধে তৃণমূলের করা অযোগ্যতার আবেদনে কী হবে পরবর্তী পদক্ষেপ?

জয়িতাকে বলতে শোনা যায়, নন্দিনী নাকি তাঁকে ভরত কলকে ক্যাপ্টেন হিসেবে ভোট দেওয়ার জন্য কথা শুনিয়েছেন। ভরত কলকে ‘ফাদার ফিগার’ বলায় নন্দিনী নাকি জয়িতাকে প্রশ্ন করেছিলেন, এখানে কি তিনি বাবা-মা বানাতে এসেছেন? তবে জয়িতার এই বক্তব্যের প্রতিবাদ করেন নন্দিনী। তাঁর দাবি, তাঁর কথাকে ভুলভাবে তুলে ধরা হচ্ছে। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে মনামীর সঙ্গেও নন্দিনীর কিছুটা ভুল বোঝাবুঝি তৈরি হয়। যদিও পরে জয়িতা এবং নন্দিনীর মধ্যেকার সেই ভুল বোঝাবুঝি মিটেও যায়। সব মিলিয়ে ‘বিগ বস’ বাংলার শুরুতেই টাস্ক, ঝগড়া এবং ব্যক্তিগত সমীকরণ নিয়ে জমে উঠেছে পর্বগুলি। এর মধ্যেই অনিন্দ্যর টাস্ক চলাকালীন ঘুমিয়ে থাকার দৃশ্য নিয়ে দর্শকদের একাংশের ক্ষোভ প্রকাশ্যে এসেছে। তাহলে কি এই আচরণের জেরে অনিন্দ্যকে নিয়েই এবার কঠিন সিদ্ধান্ত চাইছেন দর্শকরা, সবার আগে কি তাঁকেই এলিমিনেট করা হোক?

You cannot copy content of this page