ব্যস্ত কেরিয়ার আর ব্যক্তিগত জীবন একসঙ্গে সামলানো সহজ নয়। বিশেষ করে শ্রেয়া ঘোষালের মতো গায়িকার ক্ষেত্রে কাজের ব্যস্ততা প্রায় সারা বছরই থাকে। রেকর্ডিং, অনুষ্ঠান এবং একের পর এক সফরের কারণে অনেক সময় দীর্ঘদিন বাড়ির বাইরে থাকতে হয় তাঁকে। তবু স্বামী শিলাদিত্য মুখোপাধ্যায়ের সঙ্গে তাঁর দাম্পত্যে সেই ব্যস্ততা বাধা হয়ে দাঁড়ায়নি। সম্প্রতি নিজের দাম্পত্য জীবন নিয়ে বেশ খোলামেলা কথা বলেছেন শ্রেয়া। গায়িকা জানিয়েছেন, এই সম্পর্কে শারীরিকভাবে অনুপস্থিত থাকার জায়গাটা অনেক সময় তাঁরই। তবে তাঁদের সম্পর্কের ভিত শক্ত হওয়ার পিছনে বন্ধুত্ব, বোঝাপড়া এবং পারস্পরিক সম্মানের বড় ভূমিকা রয়েছে।
শ্রেয়ার সঙ্গে শিলাদিত্যের সম্পর্কের শুরু অবশ্য অনেক দিনের। তাঁরা একে অপরকে ছোটবেলা থেকেই চেনেন এবং তাঁদের সম্পর্কের ভিত গড়ে উঠেছে বন্ধুত্বের উপর। পরবর্তীতে সেই বন্ধুত্বই প্রেমের সম্পর্কে পরিণত হয় এবং শেষ পর্যন্ত তাঁরা বিয়ে করেন। শ্রেয়ার পেশাগত জীবন যত ব্যস্ত হয়েছে, তাঁদের সম্পর্কেও ততই প্রয়োজন হয়েছে পারস্পরিক বোঝাপড়ার। ‘ইন্ডিয়ান আইডল’-এর ১৫তম সিজনে নিজের সম্পর্ক নিয়ে কথা বলতে গিয়ে শ্রেয়া জানিয়েছেন, তাঁদের দাম্পত্যের মূল ভিত্তিই হল গভীর বন্ধুত্ব। তাঁর কথায়, “আমাদের সম্পর্কের ভিত্তি খুব শক্ত একটা বন্ধুত্ব। ও সবসময় আমার পাশে থেকেছে।” তিনি আরও জানান, তাঁর জীবনে কাজের ব্যস্ততা সবসময়ই ছিল এবং সেই কারণেই সম্পর্কের ক্ষেত্রে তিনিই অনেক সময় অনুপস্থিত থাকেন।
নিজের অনুপস্থিতি নিয়েও কোনও রাখঢাক করেননি শ্রেয়া। তিনি জানিয়েছেন, এমনও হয় যে কাজের কারণে টানা দু’তিন মাস বাড়িতে থাকতে পারেন না। কিন্তু তাঁর এই ব্যস্ততা নিয়ে শিলাদিত্য কখনও তাঁকে প্রশ্নের মুখে ফেলেননি। বরং শ্রেয়ার পেশাগত জীবনের ব্যস্ততা এবং দায়িত্বকে তিনি শুরু থেকেই বুঝেছেন। শ্রেয়ার মতে, তাঁদের মধ্যে বোঝাপড়া, মানিয়ে নেওয়ার ক্ষমতা, বন্ধুত্ব এবং পারস্পরিক সম্মানই সম্পর্কটাকে শক্ত করে রেখেছে। তাঁর বক্তব্য, “আমি প্রায়ই এই সম্পর্কের অনুপস্থিত মানুষ, কারণ আমার জীবন সবসময় কাজ নিয়ে ব্যস্ত। কিন্তু আমাদের বোঝাপড়া আর বন্ধুত্বই সবকিছু সামলে দিয়েছে।” এই সম্পর্কেরই পরিণতি হিসেবে তাঁদের জীবনে এসেছে ছেলে দেব্যান, যে তাঁর জীবনকে সম্পূর্ণ বদলে দিয়েছে বলেও জানিয়েছেন শ্রেয়া।
শ্রেয়ার কথায়, পরিবার পাওয়াকে তিনি নিজের জীবনের বড় আশীর্বাদ হিসেবেই দেখেন। দীর্ঘ ব্যস্ততার মধ্যেও স্বামী এবং সন্তানের সঙ্গে তাঁর সম্পর্ক যে এতটা সুন্দরভাবে এগিয়ে চলেছে, তার পিছনে রয়েছে পারস্পরিক সম্মান। শ্রেয়া মনে করেন, সবসময় একসঙ্গে থাকা বা প্রতিটি মুহূর্তে পাশে থাকা কোনও সম্পর্ক টিকিয়ে রাখার একমাত্র শর্ত নয়। বরং দুজনের মধ্যে যত্ন, বোঝাপড়া এবং একে অপরের মানসিক অবস্থাকে গুরুত্ব দেওয়াটাই বেশি জরুরি। তাঁর বক্তব্যের সঙ্গে সম্পর্ক বিশেষজ্ঞ ডেলনা রাজেশের কথাতেও মিল রয়েছে। তাঁর মতে, শক্ত সম্পর্কের জন্য সবসময় পাশাপাশি থাকা জরুরি নয়, বরং দূরে থেকেও সঙ্গীর আবেগ এবং প্রয়োজনকে বুঝতে হয়। ব্যস্ততার মধ্যেও নিয়মিত কথা বলা, নিজেদের সময় ও মানসিক অবস্থার কথা জানানো এবং একে অপরের জীবনের লক্ষ্যকে সম্মান করা সম্পর্ককে দৃঢ় রাখতে সাহায্য করে।
আরও পড়ুনঃ “আমাকে আন্টি বললে খুব ক’ষ্ট পেয়েছি, তার বদলে…” ‘সুগার আন্টি’ বলে বিদ্রুপ, পোশাক নিয়েও কটা’ক্ষ! ‘৪০ বছর বয়সী’ বলতেই আপত্তি ইন্দ্রাণী হালদারের, ট্রোলারকে কড়া জবাব দিতে গিয়ে ফাঁস করলেন কোন তথ্য? ভাইরাল হতেই ফের চর্চায় অভিনেত্রী!
সম্পর্কে বন্ধুত্বটাও ধরে রাখা জরুরি বলে মনে করেন বিশেষজ্ঞ ডেলনা রাজেশ। জীবন যত ব্যস্তই হোক, হাসি, পুরনো স্মৃতি এবং নিজেদের মধ্যে থাকা সহজ বন্ধুত্ব সম্পর্ককে অনেকটা শক্ত করে। তাঁর মতে, ভালোবাসাকে সবসময় একসঙ্গে থাকার সঙ্গে মিলিয়ে দেখা ঠিক নয়। বরং সম্পর্ক টিকিয়ে রাখতে দুজনের সচেতনভাবে একে অপরের সঙ্গে যুক্ত থাকার চেষ্টা প্রয়োজন। শ্রেয়ার নিজের অভিজ্ঞতাতেও সেই বিষয়টিরই প্রতিফলন দেখা যায়। তাঁর কথায়, “বোঝাপড়া, মানিয়ে নেওয়া, বন্ধুত্ব আর পারস্পরিক সম্মানের কারণেই আমাদের সন্তান দেব্যান আমাদের জীবনে এসেছে। দেব্যান আমার জীবন বদলে দিয়েছে। এমন একটা পরিবার পাওয়া সত্যিই আশীর্বাদ।” অর্থাৎ কাজের ব্যস্ততা এবং দীর্ঘ অনুপস্থিতির মাঝেও তাঁদের দাম্পত্যে যে বোঝাপড়া রয়েছে, সেটাকেই সম্পর্ক টিকে থাকার অন্যতম কারণ হিসেবে দেখছেন শ্রেয়া।






