সায়ক চক্রবর্তীর নামকে ঘিরে বিতর্ক যেন কিছুদিন পরপরই নতুন করে ফিরে আসে। অভিনেতা ও কনটেন্ট ক্রিয়েটর হিসেবে পরিচিত সায়ক চলতি বছরের শুরুতে কলকাতার পার্ক স্ট্রিটের অলিপাবের মাংস বিতর্কে শিরোনামে এসেছিলেন। সেই ঘটনার কয়েক মাস পর এবার ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনে বিজেপির নির্বাচনী খরচের হিসাব সংক্রান্ত তথ্য সামনে আসায় ফের সমাজমাধ্যমে তাঁকে নিয়ে জোর চর্চা শুরু হয়েছে। প্রকাশিত প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, বিজেপির জমা দেওয়া নির্বাচনী ব্যয়ের নথিতে ‘বিজ্ঞাপন ও প্রচার’ খাতে সায়কের নামে আড়াই লক্ষ টাকা দেওয়ার উল্লেখ রয়েছে। তবে এই তথ্যের স্বাধীন সত্যতা যাচাই করা সম্ভব হয়নি।
বিতর্কের সূত্রপাত হয় জানুয়ারির শেষ দিকে। সায়ক তাঁর দুই বন্ধুকে নিয়ে পার্ক স্ট্রিটের অলিপাবে গিয়ে মাটন স্টেক অর্ডার করেছিলেন বলে দাবি করেন। তাঁর অভিযোগ ছিল, তাঁদের না জানিয়েই মাটনের বদলে বিফ স্টেক পরিবেশন করা হয় এবং তাঁরা বিষয়টি বুঝতে পারেন পরে দ্বিতীয় একটি মাটনের প্লেট আসার পর। ঘটনাটি ক্যামেরাবন্দি করে সমাজমাধ্যমে প্রকাশ করেন সায়ক। এরপর বিষয়টি দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে এবং ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাতের অভিযোগে সংশ্লিষ্ট ওয়েটারের বিরুদ্ধে পুলিশে অভিযোগ দায়ের হয়। ওয়েটার গ্রেফতারও হন। তবে অলিপাব কর্তৃপক্ষ পরে ঘটনাটিকে ‘অনিচ্ছাকৃত ভুল’ বলে ক্ষমা চায় এবং তদন্তে ইচ্ছাকৃত কাজের প্রমাণ না পাওয়ার কথা আদালতে জানানো হয়।
এবার সেই পুরনো ঘটনাই নতুন করে আলোচনায় এসেছে বিজেপির নির্বাচনী খরচের নথিতে সায়কের নাম থাকার দাবিকে ঘিরে। সমাজমাধ্যমে প্রশ্ন উঠছে, অলিপাবের সেই মাংস বিতর্কটি কি নিছকই একটি ভুল বোঝাবুঝির ঘটনা ছিল, নাকি সেটিকে কেন্দ্র করে তৈরি হওয়া প্রচারমূলক আবহের পিছনে কোনও পরিকল্পনা ছিল? এমনকী, সায়কের ওই সময়কার কর্মকাণ্ড এবং পরে বিজেপির প্রচারের জন্য টাকা পাওয়ার তথ্যকে পাশাপাশি রেখে নানা ধরনের রাজনৈতিক উদ্দেশ্যের অভিযোগও উঠছে। তবে এই দুই ঘটনার মধ্যে সরাসরি যোগসূত্র রয়েছে, এমন কোনও প্রমাণ প্রকাশ্যে আসেনি। অন্যদিকে বিজেপির পক্ষে বলা হয়েছে, ডিজিটাল বা সমাজ মাধ্যমে প্রচারের জন্য পেশাদার কনটেন্ট ক্রিয়েটরদের পারিশ্রমিক দেওয়া স্বাভাবিক নির্বাচনী খরচের অংশ হতে পারে।
ফলে অভিযোগ, পাল্টা বক্তব্য এবং নথিতে থাকা তথ্য এই তিনটি বিষয় নিয়েই তৈরি হয়েছে নতুন বিতর্ক। অলিপাব-কাণ্ডের সময় ঘটনাটি আরও বড় আকার নিয়েছিল সংশ্লিষ্ট ওয়েটার গ্রেফতার হওয়ার পর। সমাজমাধ্যমে একাংশের প্রশ্ন, একটি রেস্তোরাঁয় অর্ডার ভুল হওয়ার ঘটনায় একজন সাধারণ কর্মীকে কেন এত বড় আইনি পরিস্থিতির মুখে পড়তে হল? সেই সময় ওয়েটারকে গ্রেফতার করা হলেও পরে তিনি জামিনে মুক্তি পান। প্রকাশিত প্রতিবেদনে আরও জানা যায়, অলিপাব কর্তৃপক্ষ তাঁর পাশে ছিল এবং তাঁর চাকরি বহাল থাকার কথাও জানানো হয়েছিল। ফলে ‘চাকরি চলে গিয়েছিল’ এমন দাবি নিশ্চিত তথ্য হিসেবে বলা যাচ্ছে না। তবে এখন সমাজ মাধ্যমে নতুন করে কটাক্ষ ছড়াচ্ছে।
কেউ বলছেন সাধারণ একজন কর্মীর বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপের পরিস্থিতি তৈরি হওয়ার পরও যদি পরবর্তীতে নির্বাচনী প্রচারের জন্য টাকা নেওয়ার তথ্য সামনে আসে, তাহলে গোটা ঘটনাটিকে কীভাবে দেখা উচিত? কেউ কেউ আরও কটাক্ষ করছেন, সাধারণ মানুষের জীবিকা নিয়ে তৈরি হওয়া সমস্যার পর সেই বিতর্কিত মুখই যদি পরে রাজনৈতিক প্রচার থেকে পারিশ্রমিক পান, তাহলে প্রশ্ন উঠবেই। এগুলি অবশ্য সমাজ মাধ্যমে ওঠা প্রতিক্রিয়া, প্রমাণিত তথ্য নয়। বিগ বস বাংলার ঘরে সায়ক চক্রবর্তীর মাত্র তিন সপ্তাহের সফর শেষ হয়েছে। শো চলাকালীন নিজের পুরনো বিতর্কিত ভাবমূর্তি থেকে বেরিয়ে এসে একেবারে অন্য সায়ককে দর্শকদের সামনে তুলে ধরার চেষ্টা করেছিলেন তিনি এমন আলোচনা ছিল নেটপাড়ায়।
যদিও সায়ক নিজেই জানিয়েছেন, কোনও নির্দিষ্ট ছক কষে তিনি বিগ বসের ঘরে যাননি। কিন্তু শো থেকে বেরনোর পরই ফের নতুন বিতর্কে তাঁর নাম জড়ানোয় সমাজ মাধ্যমে উঠছে অন্য প্রশ্ন। এমনই একটি পোস্টে কটাক্ষ করে লেখা হয়েছে, “সায়ক নাকি বিগ বসে নিজের ইমেজ ঠিক করতে গেছিল? এবং সফলও হয়েছে…কিন্তু বিগ বস ছেড়ে বেরিয়ে আসার দু’দিনের মধ্যে আবারও ইমেজ ডাউন হয়ে গেল ছেলেটার!” ফলে বিগ বসে সায়কের ইমেজ বদলের চেষ্টা কতটা সফল হয়েছিল, তা নিয়েও শুরু হয়েছে নতুন জল্পনা। তবে এগুলি নেটিজেনদের মন্তব্য ও কটাক্ষ, কোনও প্রমাণিত মূল্যায়ন নয়।
আরও পড়ুনঃ শর্বরীকে সরিয়ে বিজেপিতে বড় পদে অঞ্জনা বসু! রূপা-লকেটের বহু আগে দলে যোগ, ২০২১-এ ছিলেন বিধানসভার প্রার্থী! ভোটে হেরেও সঙ্গ ছাড়েননি, এবার মিলল সেই আনুগত্যের পুরস্কার! এবার কাঁধে নতুন দায়িত্ব, পাকাপাকিভাবে ছাড়ছেন কী অভিনয়?
Disclaimer: এই প্রতিবেদনে ব্যবহৃত কোনও উক্তি আমাদের নিজস্ব নয়। সমাজ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া নেটিজেনদের মন্তব্য ও প্রকাশিত সংবাদসূত্রের ভিত্তিতে এই বিষয়টি তুলে ধরা হয়েছে, কাউকে আঘাত বা ছোট করাও আমাদের উদ্দেশ্য নয়। উল্লেখিত ব্যক্তিত্বদের নামে উত্থাপিত অভিযোগ বা বক্তব্যগুলির স্বাধীনভাবে প্রমাণিত নয়।






