বর্তমান সময়ে প্রেম, সম্পর্ক এবং ব্যক্তিগত স্বাধীনতার ধারণা অনেকটাই বদলে গিয়েছে। বিশেষ করে নতুন প্রজন্মের ছেলে-মেয়েরা সম্পর্কের পাশাপাশি নিজেদের ভবিষ্যৎ, আর্থিক নিরাপত্তা এবং ভালো থাকাকেও সমান গুরুত্ব দিচ্ছেন। প্রেম থাকলেই বিয়ে করতে হবে, কিংবা সম্পর্ক ভেঙে গেলে জীবন থমকে যাবে এমন ধারণা থেকে অনেকটাই বেরিয়ে আসছেন তাঁরা। ব্যক্তিগত পছন্দ ও নিজের জীবনের সিদ্ধান্তকে গুরুত্ব দেওয়ার এই পরিবর্তন নিয়েই এবার খোলামেলা কথা বললেন অভিনেত্রী কাঞ্চনা মৈত্র। তাঁর কথায় উঠে এল বর্তমান প্রজন্মের সম্পর্ক, প্রেম, শরীর ও মনের স্বাধীনতা থেকে শুরু করে মেয়েদের নিজেদের অগ্রাধিকার দেওয়ার প্রসঙ্গ।
এক সাক্ষাৎকারে বর্তমান প্রজন্মের মেয়েদের মানসিকতা নিয়ে বলতে গিয়ে কাঞ্চনা মৈত্র জানান, এখনকার ছেলে-মেয়েরা আগের তুলনায় অনেক বেশি ‘ফোকাসড’ এবং ‘প্র্যাক্টিক্যাল’। তাঁর মতে, তাঁরা জানেন আগে নিজের জন্য একটি ফ্ল্যাট কিনতে হবে, ভবিষ্যতের জন্য এসআইপি করতে হবে। অর্থাৎ প্রেমের পাশাপাশি নিজের আর্থিক নিরাপত্তা এবং ভবিষ্যৎ নিয়েও তাঁরা যথেষ্ট সচেতন। কাঞ্চনার কথায়, নিজের ভালো থাকার জন্য প্রেম যেমন প্রয়োজনীয় হতে পারে, তেমনই প্রেম না থাকলেও নিজের ব্যক্তিগত সিদ্ধান্ত নেওয়া নিয়ে বর্তমান প্রজন্ম আগের মতো সমাজের বিচারকে ভয় পায় না।
সম্পর্ক ও শারীরিক ঘনিষ্ঠতা নিয়েও নিজের সময়ের সঙ্গে বর্তমান প্রজন্মের পার্থক্য তুলে ধরেন অভিনেত্রী। তাঁর কথায়, তাঁদের সময়ে প্রেমের বাইরে কারও হাত ধরা বা চুমু খাওয়াকে খুব অদ্ভুত বিষয় হিসেবে দেখা হত। এমনকী সেটাকে এক ধরনের ‘পারভারশন’ বলেও মনে করা হত। কিন্তু এখনকার প্রজন্ম বিষয়টিকে অন্যভাবে দেখে। কাঞ্চনা বলেন, মন এবং শরীর দুটি বিষয় আলাদা হতে পারে। তাঁর মতে, প্রেম মানেই যে চিরস্থায়ী সম্পর্ক, বিয়ে এবং সন্তানের দিকে এগিয়ে যেতে হবে, এমনটা নয়। মানসিক সম্পর্ক না থাকলেও শারীরিক ঘনিষ্ঠতা হতে পারে, সেটি বন্ধুত্ব থেকেও তৈরি হতে পারে। এই প্রসঙ্গেই তিনি মজার ছলে এক সিনিয়রের কথা স্মরণ করে বলেন, বাঙালি মেয়েদের নিয়ে আগে এমন ধারণা ছিল যে কাউকে চুমু খেলেই নাকি তাঁকে বিয়ে করতে হবে!
কাঞ্চনার মতে, বাঙালি মেয়েরা এখন আর আগের মতো নেই। বিশেষ করে শহুরে মেয়েরা নিজেদের জীবন, পছন্দ এবং ভালো থাকাকে অনেক বেশি গুরুত্ব দিচ্ছেন। তাঁর বক্তব্য, মেয়েরা এখন মন, শরীর এবং নিজের জীবন এই বিষয়গুলিকে আলাদা করে দেখতে শিখছেন। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হল, এই পরিবর্তন কোনও নির্দিষ্ট বয়সের মধ্যে আটকে নেই। ১৮ বছরের মেয়ের মধ্যেও যেমন নিজের প্রতি এই অগ্রাধিকার দেখা যাচ্ছে, তেমনই ২৮ বা ৫০ বছরের মহিলার মধ্যেও সেই মানসিকতা তৈরি হচ্ছে। তাঁর মতে, এভাবেই মেয়েদের নিজস্ব স্বাধীনতার ‘রেভলিউশন’ ধীরে ধীরে এগিয়ে যাচ্ছে। তবে নতুন প্রজন্মের মেয়েদের নিয়ে যে সমালোচনা হয়, সেই প্রসঙ্গও এড়িয়ে যাননি কাঞ্চনা।
আরও পড়ুনঃ “নিরীহ লোকটার পেটে লা’থি মা’রার টাকায় আমোদ-প্রমোদ করছেন, বিদেশ যাচ্ছেন আর ওই গরিব ওয়েটারের ছেলেকে শুনতে হয়েছে বাবা জেলখাটা আসামি!” “বিগ বসে গিয়েছিলেন ইমেজ ক্লিয়ার করতে, বেরোনোর দু’দিনেই তো শেষ হয়ে গেল!” ইচ্ছাকৃত ছিল ‘গো*মাং’স বিতর্ক’? বিজেপির নির্বাচনী নথিতেই জ্বলজ্বল করছে টাকার অঙ্ক, তাতেই প্রমাণিত আসল ঘটনা? ফের নেটপাড়ায় তিরস্কৃত সায়ক চক্রবর্তী!
বিশেষ করে বিনোদন জগতে কেউ সিরিয়ালে কাজ শুরু করেই ফ্ল্যাট, বাড়ি কিংবা দামি গাড়ির মালিক হয়ে গেলে তা অনেকের চোখে অস্বাভাবিক বলে মনে হয়। কেউ কেউ প্রশ্ন তোলেন, এত অল্প সময়ে কীভাবে এত সম্পত্তি বা বিলাসবহুল গাড়ি এল। এই প্রসঙ্গে কাঞ্চনার বক্তব্য, ‘কিনে ফেলেছে’ বলার আগে এটাও দেখতে হবে, কেউ হয়তো তাঁকে কিনে দিয়েছে। আর যদি কারও সেই ক্ষমতা থাকে যে তাঁকে একটি মার্সিডিজ কিংবা চারতলা বাড়ি করে দিতে পারেন, তাহলে তাঁর জন্য সেটি নিয়ে অভিনন্দনই প্রাপ্য। অর্থাৎ সম্পত্তি বা বিলাসিতা নিয়ে বিচার করার আগে ব্যক্তির পরিস্থিতিটাও দেখা প্রয়োজন বলেই ইঙ্গিত করেছেন অভিনেত্রী।






