রাজবীরকে ঘিরে সোনামণির একের পর এক অভিযোগে এবার প্রশ্ন তুলছেন দর্শকদের একাংশ। ‘বিগ বস বাংলা’র ঘরে নতুন টাস্ক চলাকালীন রাজবীরের সঙ্গে সোনামণির ফের বিবাদ বাধে। সেই সময় কোনও কারণে রাজবীরের হাত সোনামণির পায়ে লেগেছিল বলেই ফুটেজে দেখা যায়। দর্শকদের একাংশের দাবি, সম্ভবত সোফা ঠিক করার সময়ই এমনটা হয়ে থাকতে পারে। কিন্তু সেই ঘটনাকেই সোনামণি ‘খারাপ স্পর্শ’ হিসেবে দেখেছেন বলে তাঁদের বক্তব্য। এরপরই রাজবীরের বিরুদ্ধে এমন অভিযোগ তোলার বিষয়টি নিয়ে আপত্তি জানিয়েছেন অনেকে। তাঁদের প্রশ্ন, পরিস্থিতি স্বাভাবিক থাকলেও কেন বারবার রাজবীরের বিরুদ্ধে একই ধরনের অভিযোগ সামনে আসছে? ঘটনাটি নিয়ে দর্শকদের একাংশের বক্তব্য, কাজের মধ্যে রাজবীরের হাত সোনামণির পায়ে লেগে যাওয়া মাত্রই সেটিকে খারাপ স্পর্শ বলা যায় না।
তাঁদের দাবি, ওই মুহূর্তের পরিস্থিতিতে ইচ্ছাকৃতভাবে খারাপভাবে স্পর্শ করার মতো কোনও বিষয় তাঁরা দেখেননি। এমনকি ব্যক্তিগত কোনও জায়গায় ভুল করেও স্পর্শ লেগে গেলেও সেটিকে সঙ্গে সঙ্গে ইচ্ছাকৃত খারাপ স্পর্শ হিসেবে দেখার প্রয়োজন নেই বলেই মত তাঁদের। এই প্রসঙ্গেই একজন দর্শক প্রশ্ন তুলেছেন, “সব জায়গায় মহিলা হওয়ার বিষয়টিকে সামনে না আনলে কি আর চলবে না? স্বাভাবিকভাবে যে পরিস্থিতি ছিল, সেখানে খারাপ স্পর্শের মতো কিছুই তো মনে হয়নি।” আরও এক দর্শকের বক্তব্য, “খারাপ স্পর্শ বলতে ঠিক কী বোঝায়, সেটাই হয়তো নতুন করে বুঝে নেওয়া দরকার।” তাঁদের মতে, কাজের সময় আচমকা হাত লেগে যাওয়ার ঘটনা এবং ইচ্ছাকৃতভাবে অসম্মানজনক স্পর্শ করার ঘটনা এক করে দেখা ঠিক নয়। এই জায়গাতেই সোনামণির অভিযোগের ধরন নিয়ে দর্শকদের একাংশের আপত্তি তৈরি হয়েছে।
শুধু অভিযোগ তোলাই নয়, পায়ে হাত লাগার পর সোনামণির প্রতিক্রিয়াও দর্শকদের আলোচনায় এসেছে। দর্শকদের একাংশের দাবি, রাজবীরের হাত পায়ে লাগার সঙ্গে সঙ্গেই সোনামণিকে তাঁকে চড় মারতে দেখা যায়। এই আচরণ নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন অনেকে। তাঁদের মতে, বিষয়টি যদি সত্যিই তাঁর অস্বস্তির কারণ হয়ে থাকে, তাহলে প্রথমে নিজের আপত্তির কথা স্পষ্ট করে জানানো যেত। একজন দর্শক বলেছেন, “হাত লাগার সঙ্গে সঙ্গে যেভাবে চড় মারা হল, সেটার কী হবে? বড়জোর বলা যেত, আমার শরীরে এভাবে হাত দিতে পারবে না।” অর্থাৎ অভিযোগ জানানোর অধিকার থাকলেও তার সঙ্গে পরিস্থিতি অনুযায়ী প্রতিক্রিয়ার মাত্রা নিয়েও প্রশ্ন উঠছে। আর সেই কারণেই রাজবীরকে বারবার দোষী করে দেখানোর চেষ্টা হচ্ছে কি না, তা নিয়েও দর্শকদের মধ্যে আলোচনা শুরু হয়েছে।
এর আগেও ‘বিগ বস বাংলা’র ঘরে রাজবীরকে ঘিরে একাধিক মতবিরোধের ঘটনা সামনে এসেছে, যেখানে খাওয়া নিয়ে সোনামণি রাজবীরকে অকথ্য ভাষায় অপমান করেছিলেন। এবারও সঙ্গে তাঁর সমস্যা তৈরি হয়েছে এবং সোনামণি রাজবীরের বিরুদ্ধে তাঁকে খারাপভাবে স্পর্শ করার অভিযোগ তুলেছেন। রাজবীর অবশ্য সেই অভিযোগ অস্বীকার করে নিজের অবস্থান স্পষ্ট করেছেন এবং ঘটনায় ক্ষুব্ধও হয়েছেন। এদিকে রাজবীরের বিশেষ বন্ধু নন্দিনীও বিষয়টি নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন। অন্যদিকে একই কাজের সময় জিতু ও নিরঞ্জনের মধ্যেও তীব্র ধস্তাধস্তি হয়েছিল। সেই সময় নিরঞ্জন অভিযোগ করেন, জিতুর হাত তাঁর সংবেদনশীল অঙ্গে গিয়ে লাগে, যদিও জিতু স্পষ্টভাবে তা অস্বীকার করেন। তাই একই কাজকে কেন্দ্র করে একাধিক অভিযোগ ও পালটা অভিযোগ সামনে আসায় ‘বিগ বস বাংলা’র ঘরের পরিস্থিতি নিয়ে দর্শকদের আলোচনা আরও বেড়েছে।
আরও পড়ুনঃ “হ্যাঁ, টাকা নিয়েছি আর কাজও করেছি…আমি অন্যায় করিনি, বাকিটা সরকার দেখবে” “অলি পাব নিয়ে প্রতিক্রিয়া ছিল তাৎক্ষণিক, রাজনৈতিক না!” সমালোচকদের কথায় কিছু যায় আসে না! বিজেপির থেকে আড়াই লাখ টাকা কেন নিয়েছেন? বিতর্ক বাড়তেই অবশেষে মুখ খুললেন সায়ক চক্রবর্তী!
রাজবীর ও সোনামণির ঘটনাকে কেন্দ্র করে এখন মূল প্রশ্ন উঠছে অভিযোগের ধরন এবং তার পুনরাবৃত্তি নিয়ে। দর্শকদের একাংশ মনে করছেন, পুরুষের কোনও স্পর্শই যদি সোনামণির কাছে খারাপ স্পর্শ বলে মনে হয়, তাহলে এমন শারীরিক যোগাযোগ থাকা কাজের অংশে তিনি কেন যোগ দিলেন। একজন দর্শকের কথায়, “পুরুষের স্পর্শকেই যদি খারাপ স্পর্শ বলে মনে হয়, তাহলে এমন কাজ করতে যাওয়ার কারণ কী?” আরও অনেকে বলছেন, কাজের সময় অনিচ্ছাকৃতভাবে হাত লেগে যাওয়া এবং ইচ্ছা করে কাউকে স্পর্শ করার মধ্যে পার্থক্য রয়েছে। তাঁদের বক্তব্য, “রাজবীরের বিরুদ্ধে অভিযোগ করার আগে পুরো পরিস্থিতিটা দেখা দরকার, শুধু হাত লাগার ঘটনাকে কেন্দ্র করে তাঁকে অপমান করা ঠিক নয়।” এখন রাজবীর এই অভিযোগের জবাবে কী বলেন এবং সোনামণির সঙ্গে তাঁর সম্পর্ক আগামী দিনে কোন দিকে যায়, সেদিকেই নজর দর্শকদের। দুজনের মধ্যে দূরত্ব আরও বাড়ে কি না, সেটাও ‘বিগ বস বাংলা’র পরবর্তী পর্বে নজরে থাকবে।






