“নিঃসন্দেহে সেরা অভিনেত্রী…সকালবেলা নায়িকা আর বিকেলবেলা ভিলেন!” “মমতাদি সৌজন্য দেখিয়েছিলেন, বিশ্বাসঘাত’করা প্রমাণ করেছে…” হাওয়া বুঝে কোয়েলের বিজেপিতে যোগদান নিয়ে মুখ খুলেই নজিরবিহীন আক্র’মণ কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের! দলবদলু নায়িকাকে দেখালেন নিজের জায়গা?

টলিউড অভিনেত্রী কোয়েল মল্লিককে ঘিরে রাজ্য রাজনীতিতে বিতর্ক আরও তীব্র হয়েছে। তৃণমূল কংগ্রেসের রাজ্যসভার সাংসদ পদ থেকে ইস্তফা দিয়ে সোমবার আনুষ্ঠানিকভাবে বিজেপিতে যোগ দিয়েছেন কোয়েল। এরপরই ফের তাঁকে রাজ্যসভার প্রার্থী করেছে গেরুয়া শিবির। মাত্র কয়েক মাসের মধ্যেই তাঁর রাজনৈতিক অবস্থান বদল নিয়ে শুরু হয়েছে জোর চর্চা। এই দলবদলকে একেবারেই ভালো চোখে দেখছেন না তৃণমূলের শ্রীরামপুরের বর্ষীয়ান সাংসদ কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়। কোয়েলের রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত নিয়ে প্রকাশ্যেই ক্ষোভ উগরে দিয়েছেন তিনি। শুধু রাজনৈতিক সিদ্ধান্তের সমালোচনা নয়, কোয়েলের অভিনয় জীবনকেও টেনে এনে কটাক্ষ করেছেন তৃণমূলের এই নেতা। ফলে নতুন করে উত্তপ্ত হয়েছে বঙ্গ রাজনীতির আবহ।

কোয়েলকে সরাসরি নিশানা করে কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় বলেছেন, রূপালী পর্দায় তিনি নায়িকার চরিত্রে অভিনয় করলেও বাস্তবের রাজনৈতিক ময়দানে তাঁর ভূমিকা একেবারেই আলাদা। তাঁর মন্তব্য, “সে তো শুভেন্দু অধিকারীও আগে তৃণমূলে ছিল, এরা সবাই ভালো অভিনেত্রী। সকালবেলা নায়িকা, বিকালবেলা ভিলেন।” অর্থাৎ কোয়েলের দলবদলকে স্বাভাবিক রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত হিসেবে না দেখে সুযোগসন্ধানী পদক্ষেপ হিসেবেই দেখছেন তিনি। তৃণমূল থেকে রাজ্যসভার সাংসদ হওয়ার পর বিজেপিতে যোগ দেওয়া এবং ফের বিজেপির টিকিটে রাজ্যসভায় যাওয়ার ঘটনাই তাঁর ক্ষোভের মূল কারণ। কোয়েলের এই সিদ্ধান্তের পিছনে রাজনৈতিক সুবিধা নেওয়ার প্রবণতা রয়েছে বলেই ইঙ্গিত করেছেন কল্যাণ। তাঁর এই মন্তব্য প্রকাশ্যে আসতেই নতুন করে শুরু হয়েছে বিতর্ক।

শুধু কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় নন, কোয়েলের রাজনৈতিক অবস্থান বদল নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন মমতার বিধায়ক কুণাল ঘোষও। তাঁর বক্তব্যের মূল প্রশ্ন, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় মুখ্যমন্ত্রী থাকাকালীন তৃণমূলের হয়ে সাংসদ হওয়ার সুযোগ নেওয়ার পর মুখ্যমন্ত্রী বদলাতেই কেন বিজেপিতে যেতে হল। কুণালের দাবি, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সমাজের বিভিন্ন ক্ষেত্রের পরিচিত মানুষদের রাজনীতিতে এনেছিলেন এবং জনপ্রতিনিধি হওয়ার সুযোগ দিয়েছিলেন। তাঁর কথায়, তৃণমূলে সমাজের বিভিন্ন ক্ষেত্রের মানুষের প্রতিনিধিত্ব ছিল এবং মমতা সৌজন্য দেখিয়েছিলেন। কিন্তু কয়েকজন সেই সৌজন্যের বদলে বিশ্বাসঘাতকতার প্রমাণ দিয়েছেন বলেই তাঁর মন্তব্য। ফলে কোয়েলের দলবদলকে কেন্দ্র করে তৃণমূলের অন্দরেই যে প্রবল ক্ষোভ তৈরি হয়েছে, তা স্পষ্ট।

এর আগেও বিজেপির তরফে রাজ্যসভার প্রার্থী হওয়ার পর থেকেই কোয়েল মল্লিককে নিয়ে নেটমাধ্যমে শুরু হয়েছিল নানা ধরনের আলোচনা। নেটিজেনদের একাংশ তাঁকে ‘দলবদলু’ বলে কটাক্ষ করেছিলেন। এবার তৃণমূলের হেভিওয়েট সাংসদ কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরাসরি আক্রমণের পর সেই বিতর্ক আরও বেড়েছে। কোয়েলের রাজনৈতিক অবস্থান বদলকে ঘিরে ইতিমধ্যেই রাজ্য রাজনীতিতে নানা প্রশ্ন উঠছে। বিশেষ করে তৃণমূলের সাংসদ পদ ছেড়ে বিজেপিতে যোগ দেওয়ার পর ফের রাজ্যসভার টিকিট পাওয়ার বিষয়টি নিয়েই সবচেয়ে বেশি আলোচনা হচ্ছে। রাজ্যসভা ভোটের আগে টলিউডের পরিচিত মুখের এই রাজনৈতিক যাত্রা তাই ক্রমশ বড় রাজনৈতিক বিতর্কের জায়গা নিচ্ছে। একইসঙ্গে অভিনেত্রী কোয়েল এবং রাজনৈতিক নেত্রী কোয়েলকে আলাদা করে দেখার প্রশ্নও সামনে এসেছে।

আরও পড়ুনঃ বিগ বস বাংলার ঘরে ঝিলমের ‘ইঁদুর’ গান নিয়ে এত মাতামাতি, কিন্তু জানেন কি এই ভাইরাল গানের নেপথ্যে আসলে কে? যাকে কৃতিত্ব দিয়েছিলেন ঝিলাম, এবার ফাঁস হল সেই ‘বিশেষ মানুষ’-এর পরিচয়!

তবে কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় এবং কুণাল ঘোষের এই আক্রমণের এখনও প্রকাশ্য পালটা জবাব দেননি কোয়েল মল্লিক। বিজেপি নেতৃত্বের তরফ থেকেও এই মন্তব্য নিয়ে কোনও প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। ফলে আপাতত একদিকে তৃণমূলের কড়া সমালোচনা, অন্যদিকে কোয়েলের নীরবতা, এই দুইয়ের মধ্যেই বিতর্ক চলছে। কোয়েলের দলবদলকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক মহলে যে আলোচনা শুরু হয়েছে, তা রাজ্যসভা ভোটের আগে আরও বাড়তে পারে বলেই মনে করা হচ্ছে। একজন জনপ্রিয় টলিউড অভিনেত্রীর সরাসরি সক্রিয় রাজনীতিতে অবস্থান বদল নিঃসন্দেহে নজর কেড়েছে। তার উপর তৃণমূলের শীর্ষ নেতাদের একের পর এক কড়া মন্তব্য সেই বিতর্ককে আরও উস্কে দিয়েছে।

You cannot copy content of this page