২০১৮ সালে পাভেল পরিচালিত বাংলা ছবি ‘রসগোল্লা’-য় ক্ষীরোদমণি চরিত্রে অভিনয় করে দর্শকের মনে আলাদা জায়গা করে নিয়েছিলেন অবন্তিকা বিশ্বাস। নবীনচন্দ্র দাসের স্ত্রী ক্ষীরোদমণির চরিত্রে তাঁর অভিনয় ছবিটির আবেগঘন গল্পকে আরও জীবন্ত করে তুলেছিল। খুব অল্প বয়স থেকেই অভিনয় জগতের সঙ্গে যুক্ত অবন্তিকা। মাত্র সাড়ে তিন বছর বয়সে মডেলিং দিয়ে তাঁর পথচলা শুরু। পরবর্তীতে একাধিক বিজ্ঞাপন, সিরিয়াল, টেলিফিল্ম এবং নানা ধরনের কাজে অভিনয়ের অভিজ্ঞতা অর্জন করেন তিনি। তবে ‘রসগোল্লা’ই তাঁকে বৃহত্তর দর্শকের কাছে বিশেষভাবে পরিচিত করে তোলে। ছবির দীর্ঘ অডিশন প্রক্রিয়া পেরিয়ে ক্ষীরোদমণির চরিত্রে চূড়ান্ত হওয়ার গল্পটিও তাঁর অভিনয়জীবনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়।
‘রসগোল্লা’র আগে শিশুশিল্পী হিসেবেও দীর্ঘ সময় কাজ করেছেন অবন্তিকা। ‘ওগো বধূ সুন্দরী’-তে ললিতার ছোটবেলার চরিত্রে অভিনয়ের পাশাপাশি ‘প্রবাহিনী’ ধারাবাহিকে রুপু নামের এক অটিস্টিক শিশুর চরিত্রে অভিনয় করে প্রশংসা পান। সেই চরিত্রটি প্রথমে তিন মাসের জন্য থাকলেও দর্শকের ভালোবাসায় তা প্রায় এক বছর পর্যন্ত গড়ায়। এরপর আরও ধারাবাহিক, বিজ্ঞাপন, টেলিফিল্ম এবং মডেলিংয়ের কাজ করতে করতে তিনি পৌঁছে যান ‘রসগোল্লা’র অডিশনে। তাঁর কথায়, ছবিটির জন্য প্রায় দু’বছর ধরে বিভিন্ন পর্যায়ে অডিশন চলেছিল। প্রথম দিকে ছবিটির বিষয়বস্তু সম্পর্কেও তিনি পুরোপুরি জানতেন না। পরে জানতে পারেন, এটি রসগোল্লার স্রষ্টা নবীনচন্দ্র দাসের জীবন ও সংগ্রামকে কেন্দ্র করে তৈরি একটি পিরিয়ড ড্রামা। ক্ষীরোদমণি চরিত্রে চূড়ান্ত হওয়ার খবর পাওয়ার মুহূর্তটিও তাঁর কাছে ছিল অত্যন্ত আবেগের। এত দীর্ঘ অপেক্ষার পর ফোনে যখন তাঁকে নির্বাচিত হওয়ার কথা জানানো হয়, প্রথমে তিনি সেটিকে মজা মনে করেছিলেন।
তবে ‘রসগোল্লা’র পর অবন্তিকাকে নিয়মিতভাবে বড় পর্দায় দেখা যায়নি। এখানেই স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন ওঠে তাহলে এখন কী করছেন অভিনেত্রী? সাক্ষাৎকারে অবন্তিকা জানিয়েছেন, অভিনয়ের পাশাপাশি তিনি ক্যামেরার পিছনের কাজেও দীর্ঘদিন ধরে আগ্রহী। রবীন্দ্রভারতীতে নাটক নিয়ে পড়াশোনা করেছেন এবং থিয়েটারের সঙ্গেও যুক্ত ছিলেন। অডিও স্টোরির জন্য স্ক্রিপ্ট লিখেছেন, ভয়েস ওভার করেছেন এবং অডিও ড্রামাতেও কাজ করেছেন। পাশাপাশি পরিচালনার ক্ষেত্রেও তাঁর আগ্রহ রয়েছে। পড়াশোনার সময় থেকেই বন্ধুদের নিয়ে ছোট ছোট শর্ট ফিল্ম তৈরি করতেন। পরে ‘ম্যাজিক’ নামে একটি গল্প পরিচালনাও করেছেন। সেই কাজে নিজেই ছোট একটি চরিত্রে অভিনয়ও করেছিলেন। অর্থাৎ পর্দায় তাঁকে নিয়মিত না দেখা গেলেও সৃজনশীল কাজ থেকে নিজেকে সরিয়ে নেননি অবন্তিকা।
অভিনয়ের ভবিষ্যৎ নিয়েও তাঁর ভাবনা যথেষ্ট পরিষ্কার। অবন্তিকা জানিয়েছেন, গল্প বলা তাঁর অত্যন্ত পছন্দের জায়গা এবং আগামী দিনে সুযোগ পেলে বড় পরিসরে পরিচালনার কাজ করতে চান। ভবিষ্যতে ফিচার ছবি তৈরি করার ইচ্ছাও রয়েছে তাঁর। তবে অভিনেত্রী হিসেবে ফেরার সম্ভাবনাও তিনি বন্ধ করে দেননি। বরং ভালো চরিত্র ও ভালো গল্প পেলে অভিনয় করতে তাঁর আপত্তি নেই। স্বাধীনভাবে তৈরি ছোট বাজেটের কাজের অভিজ্ঞতা নিয়ে তাঁর বক্তব্য, সীমাবদ্ধতার মধ্যেও সৃষ্টির একটা আলাদা আনন্দ রয়েছে। আর বড় বাজেটের ছবি পরিচালনা করলে এমন একটি দল তৈরি করতে চান, যেখানে অভিনেতারা নিশ্চিন্তে অভিনয়ে মন দিতে পারবেন এবং পরিচালনার অন্যান্য দায়িত্ব সামলানোর জন্য দক্ষ মানুষ থাকবেন।
আরও পড়ুনঃ বাঁচার চেষ্টা করেছিলেন আপ্রাণ, রাত ২ তে বন্ধুকে শেষ মেসেজ! আসন্ন পরিণতির আভাস পেয়েছিলেন, ৪ দিন আগে কী ইঙ্গিত দিয়েছিলেন নানা পাটেকর? মৃ’ত্যুর পূর্বাভাস নিয়ে আগেই সবাইকে সতর্ক করে যা জানান, শেষ ভিডিয়ো সামনে আসতেই শিউরে উঠছেন অনুরাগীরা! নেটপাড়ায় তোলপাড়, উঠছে একের পর এক প্রশ্ন?
সব মিলিয়ে ‘রসগোল্লা’র ক্ষীরোদমণি হিসেবে পরিচিতি পাওয়া অবন্তিকা বিশ্বাসের পথচলা শুধু অভিনয়ের মধ্যে আটকে নেই। ছোটবেলা থেকে অভিনয়, মডেলিং, থিয়েটার, লেখালেখি, ভয়েস ওভার এবং পরিচালনা বিভিন্ন মাধ্যমে নিজের সৃজনশীলতা প্রকাশ করেছেন তিনি। বর্তমানে পর্দায় তাঁর উপস্থিতি তুলনামূলকভাবে কম হলেও ক্যামেরার পিছনের কাজ এবং গল্প বলার জগতেই তাঁর আগ্রহ আরও গভীর হয়েছে। তাঁর নিজের কথাতেই, জীবনের পরিকল্পনার চেয়ে অনেক সময় ‘উপরে’ লেখা পরিকল্পনা আরও সুন্দর হয়। তাই আগামী দিনে অভিনেত্রী হিসেবে তাঁকে আবার বড় কোনও চরিত্রে দেখা যাবে, নাকি পরিচালক ও গল্পকার হিসেবে নতুন পরিচয়ে দর্শকের সামনে আসবেন সেই উত্তর সময়ই দেবে। তবে ‘রসগোল্লা’র ক্ষীরোদমণি হিসেবে যে ভালোবাসা তিনি পেয়েছেন, সেটিই তাঁর কাছে আজও প্রকৃত ‘স্টারডম’।






