‘১ টাকার কার্ডে লেখা…ঢুকতে দিতেই হবে!’ স্বেচ্ছাসেবকদের ধাক্কা দিয়ে প্রবেশপথের দড়ি ছিঁড়ে হুড়োহুড়ি, চোরবাগান কাণ্ডে এবার দর্শনার্থীদের ভূমিকা নিয়েই সরব ঊষসী চক্রবর্তী! ম’র্মান্তিক দুর্ঘ’টনার দায় কি শুধুই পুজো কমিটির, নাকি বিশৃঙ্খলা সৃষ্টিকারীরাও সমান দায়ী? জনসাধারণকে কাঠগড়ায় দাঁড় করিয়ে কী বললেন অভিনেত্রী?

উত্তর কলকাতার চোরবাগান সর্বজনীনের পুজো মণ্ডপে ঘটে যাওয়া মর্মান্তিক দুর্ঘটনা ঘিরে শোকের পাশাপাশি উঠছে একাধিক প্রশ্ন। বৃষ্টির মধ্যে মণ্ডপে প্রবেশের সময় হুড়োহুড়ি ও পদপিষ্ট হওয়ার ঘটনায় প্রাণ হারিয়েছেন একাধিক দর্শনার্থী। আহত হয়েছেন আরও অনেকে। এই ঘটনার পর থেকেই পুজো উদ্যোক্তাদের ভূমিকা, ভিড় সামলানোর ব্যবস্থা এবং পুলিশের নজরদারি নিয়ে শুরু হয়েছে আলোচনা। ঠিক কী কারণে পরিস্থিতি এতটা ভয়াবহ হয়ে উঠল, তা নিয়ে যখন নানা মহলে চর্চা চলছে, তখনই সমাজমাধ্যমে নিজের বক্তব্য তুলে ধরলেন অভিনেত্রী ঊষসী চক্রবর্তী। তাঁর মতে, ঘটনার দায় শুধু একটি পক্ষের উপর চাপিয়ে দিলে পুরো বিষয়টি বোঝা যাবে না। দুর্ঘটনার আগে থেকে তৈরি হওয়া বিশৃঙ্খলার দিকেও নজর দেওয়া জরুরি।

চোরবাগানের ঘটনা নিয়ে সমাজমাধ্যমে একটি দীর্ঘ পোস্ট করেছেন অভিনেত্রী। সেখানে পুজো কমিটির ভূমিকা, দর্শনার্থীদের আচরণ এবং প্রশাসনকে সময়মতো পরিস্থিতির কথা না জানানোর বিষয়টি তুলে ধরেছেন তিনি। ঊষসীর বক্তব্য অনুযায়ী, দুর্ঘটনার আগের দিন থেকেই মণ্ডপে প্রবেশ নিয়ে সমস্যা তৈরি হচ্ছিল। সেই পরিস্থিতি সামলাতে গিয়ে একাধিক জটিলতা দেখা দেয়। তাঁর দাবি, পুরো ঘটনাকে শুধুমাত্র সরকারের গাফিলতি হিসেবে দেখার আগে দুর্ঘটনার আগের পরিস্থিতি এবং বিভিন্ন পক্ষের ভূমিকা খতিয়ে দেখা উচিত। একই সঙ্গে পুজো কমিটির দায়ও এড়িয়ে যাওয়া যায় না বলে নিজের পোস্টে স্পষ্ট করেছেন অভিনেত্রী।

ঊষসী চক্রবর্তীর পোস্ট অনুযায়ী, চোরবাগান সর্বজনীনের পুজো কমিটির পক্ষ থেকে জানানো হচ্ছিল, তাদের নিজস্ব ক্লাবের নির্দিষ্ট পরিচয়পত্র ছাড়া অন্য কোনও কার্ড দেখিয়ে দর্শনার্থীদের বিশেষ প্রবেশপথ দিয়ে ঢুকতে দেওয়া হবে না। সাধারণ প্রবেশপথেও ভিড়ের চাপ ক্রমশ বাড়ছিল বলে দাবি করেছেন তিনি। তাঁর বক্তব্য, সাধারণ লাইনে দাঁড়ানো মানুষকে অনেক সময় অপেক্ষা করতে নিষেধ করা হচ্ছিল, কারণ মণ্ডপের ভিতরে বারবার অতিরিক্ত ভিড় তৈরি হচ্ছিল। অর্থাৎ, দুর্ঘটনার আগেই দর্শনার্থীদের প্রবেশ নিয়ন্ত্রণ করা নিয়ে সমস্যা দেখা দিয়েছিল বলে মনে করছেন অভিনেত্রী। এই পরিস্থিতিতে ভিড় সামলানোর জন্য আরও কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন ছিল কি না, সেই প্রশ্নও স্বাভাবিকভাবেই উঠে আসছে।

আরও পড়ুন: “নন্দিনী যেভাবে রাজবীরের সঙ্গে কথা বলে, সেটা খুবই ডিমিনিং…ওদের সম্পর্কটা পুশ রিলেশন, ত্যাগ ছাড়া প্রেম হয় না!” “ভাই বলে রাজকে দিয়ে কাজগুলো করে নিচ্ছে জিতুও” সম্পর্কের সমীকরণ নিয়ে বি*স্ফোরক অনীক ধর! বিগ বস বাংলার ঘরে কি তবে চলছে রাজবীরের সরলতা নিয়ে নোংরা খেলা? সৃজলার দুর্ঘ’টনা থেকে জিতুর কৌশল, কী মতামত দিলেন প্রথম সিজনের চ্যাম্পিয়ন?

এরপরের ঘটনা নিয়েও নিজের পোস্টে বিস্তারিত লিখেছেন ঊষসী। তাঁর দাবি, একদল দর্শনার্থী ফ্লিপকার্টের ৪৯ টাকা বা ১ টাকার কার্ডে বিশেষ প্রবেশের সুবিধা পাওয়ার কথা উল্লেখ করে মণ্ডপে ঢোকার দাবি জানান। এই নিয়ে তর্কাতর্কি শুরু হয়। অভিনেত্রীর বক্তব্য অনুযায়ী, একসময় স্বেচ্ছাসেবকদের ধাক্কা দিয়ে ফেলে প্রবেশপথের দড়ি ছিঁড়ে হুড়োহুড়ি করে ভিতরে ঢুকতে থাকেন কয়েকজন। ঊষসীর অভিযোগ, তাঁদের মধ্যে কেউ কেউ সেই ঘটনার ভিডিয়ো করে নিজেদের নায়ক হিসেবে তুলে ধরার চেষ্টা করেছিলেন। তাঁর মতে, এ ধরনের আচরণও পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছিল। পাশাপাশি, সাধারণ দর্শনার্থীদের একাংশ পুলিশের কথা না শুনে ব্যারিকেড উল্টে হুড়মুড়িয়ে ঢোকার চেষ্টা করেছিলেন বলেও দাবি করেছেন তিনি। তবে এই অভিযোগগুলির স্বাধীনভাবে যাচাই করা তথ্য তাঁর পোস্টে উল্লেখ করা হয়নি।

সবশেষে পুজো কমিটির ভূমিকা নিয়ে সরব হয়েছেন অভিনেত্রী। ঊষসীর মতে, পরিস্থিতি যখন নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাচ্ছিল, তখনই প্রশাসনকে বিষয়টি জানানো উচিত ছিল। প্রয়োজনে পুলিশের সাহায্য নিয়ে মণ্ডপে প্রবেশ সাময়িকভাবে বন্ধ করে দেওয়া যেত। তাঁর বক্তব্য, আগের দিনই যদি এই ধরনের পদক্ষেপ করা হত, তাহলে হয়তো পরের দিনের মর্মান্তিক পরিস্থিতি এড়ানো সম্ভব হতে পারত। একই সঙ্গে তিনি মনে করেন, বিশৃঙ্খলা তৈরি করা দর্শনার্থীদেরও নিজেদের দায় স্বীকার করতে হবে। পুজো কমিটির গাফিলতির কথাও অস্বীকার করা যায় না। তবে আগে থেকে প্রশাসনকে পরিস্থিতির কথা জানানো হয়েছিল কি না, সেই প্রশ্নের উত্তর না জেনে পুরো ঘটনার দায় সরাসরি সরকারের উপর চাপিয়ে দেওয়া ঠিক নয় বলেই মত ঊষসীর। তাঁর এই বক্তব্য ঘিরে এখন মূল প্রশ্ন, চোরবাগানের দুর্ঘটনা এড়াতে কি আরও আগে কঠোর পদক্ষেপ করা সম্ভব ছিল? নাকি পরিস্থিতি সামলাতে একাধিক পক্ষের ব্যর্থতাই এমন মর্মান্তিক পরিণতির পথ তৈরি করেছিল?

You cannot copy content of this page