“আমি তো সিঙ্গেল, আমার তো বর নেই!” অবিবাহিত হয়েও সিঁথিভরা সিঁদুর, হাতে মোটা শাঁখা-পলা! লক্ষ্মীপুজোয় প্রসেনজিতের বোন পল্লবী চট্টোপাধ্যায়ের এমন সাজ ঘিরে তুমুল চর্চা, স্বামী না থাকলেও কেন বিবাহিত নারীর মতো সেজে থাকেন অভিনেত্রী? নিজেই করলেন ফাঁস, এই বিশেষ পছন্দের নেপথ্যে রয়েছে কোন কারণ?

বিনোদন জগতের তারকারা পর্দায় কখনও প্রেমিকা, কখনও স্ত্রী, আবার কখনও মায়ের চরিত্রে অভিনয় করেন। গল্পের প্রয়োজনে বদলে যায় তাঁদের সাজপোশাক, বদলে যায় পরিচয়ও। কিন্তু পর্দার বাইরেও তারকাদের নিজস্ব পছন্দ, ভালো লাগা এবং জীবনদর্শন থাকে, যা অনেক সময় সমাজের প্রচলিত ধারণাকে প্রশ্নের মুখে দাঁড় করায়। বিশেষ করে বিয়ে, সিঁদুর কিংবা শাঁখা-পলার মতো প্রথাগত বাঙালি সাজ নিয়ে আজও সমাজে নানা ধারণা রয়েছে। আর সেই প্রচলিত ভাবনাতেই যেন নতুন করে প্রশ্ন তুললেন অভিনেত্রী পল্লবী চট্টোপাধ্যায়। কোজাগরী লক্ষ্মীপুজোয় তাঁর সিঁথিভরা সিঁদুর আর হাতে শাঁখা-পলা দেখে অনেকের মনেই কৌতূহল, অবিবাহিত হয়েও কেন এমন সাজে ধরা দিলেন তিনি?

অভিনেতা প্রসেনজিৎ চট্টোপাধ্যায়ের বোন এবং অভিনেত্রী পল্লবী নিজেও বাংলা বিনোদন জগতের পরিচিত মুখ। লক্ষ্মীপুজোর দিনে তাঁকে দেখা গেল একেবারে সাবেকি বাঙালি বধূর সাজে। পরনে শাড়ি, হাতে শাঁখা-পলা আর সিঁথিজুড়ে সিঁদুর। সাধারণত বিবাহিত নারীদের সঙ্গেই এই সাজকে জুড়ে দেখেন অনেকে। তাই পল্লবীর এমন সাজ স্বাভাবিকভাবেই কৌতূহল তৈরি করেছে। তবে অভিনেত্রীর কাছে এই সাজের অর্থ একেবারেই আলাদা। এর জন্য স্বামী থাকা বাধ্যতামূলক, এমন ধারণায় বিশ্বাস করেন না তিনি। বরং নিজের পছন্দকে গুরুত্ব দিয়েই সাজতে ভালোবাসেন পল্লবী।

কেন অবিবাহিত হয়েও সিঁদুর ও শাঁখা-পলা পরেন তিনি? এই প্রশ্নের উত্তরে পল্লবী জানিয়েছেন, অভিনয়ের প্রয়োজনে তাঁকে বহুবার বিয়ের সাজে সাজতে হয়েছে। চরিত্রের প্রয়োজনে পরতে হয়েছে শাঁখা-পলা, সিঁদুর। এমনকী, শুটিংয়ে ফুলসজ্জার দৃশ্যেও অভিনয় করতে হয়েছে তাঁকে। তাহলে বাস্তব জীবনে নিজের পছন্দের দিনে নিজের ইচ্ছেমতো সাজতে বাধা কোথায়? অভিনেত্রীর যুক্তি, যে সাজ তাঁর এত ভালো লাগে, তা পরার জন্য কেন তাঁকে অন্য কোনও পরিচয়ের উপর নির্ভর করতে হবে? তাঁর কাছে লক্ষ্মীপুজো অত্যন্ত প্রিয় একটি দিন। আর সেই বিশেষ দিনে নিজের পছন্দের বাঙালি বধূর সাজে সাজতে ভালোবাসেন তিনি। অর্থাৎ, সিঁদুর পরার সঙ্গে বৈবাহিক পরিচয়কে বাধ্যতামূলকভাবে জুড়ে দেখতে নারাজ পল্লবী।

অভিনেত্রীর এই সাজের সঙ্গে জড়িয়ে রয়েছে তাঁর ব্যক্তিগত ভালো লাগাও। পল্লবীর কথায়, সিঁদুর ও শাঁখা-পলা পরে বাঙালি বধূর মতো সাজতে তাঁর ভীষণ ভালো লাগে। এই সাজে নিজেকে পরিপূর্ণ নারী বলে মনে হয় তাঁর। তবে নিজের এই পছন্দের পিছনে কোনও স্বামীর উপস্থিতি বা বৈবাহিক সম্পর্ককে কারণ হিসেবে দেখেন না তিনি। বরং নিজেকে ভালোবাসার উপরেই জোর দিয়েছেন অভিনেত্রী। তাঁর বিশ্বাস, আগে নিজেকে ভালোবাসতে শিখতে হয়, তবেই অন্যদের ভালোবাসা সম্ভব। নিজের সাজ নিয়ে অন্যের ধারণার কাছে মাথা নত না করে নিজের আনন্দকে গুরুত্ব দেওয়ার কথাই যেন বুঝিয়ে দিয়েছেন তিনি।

আরও পড়ুনঃ “আপনি তাড়াতাড়ি স্পটে চলে আসুন….সবটা ক্লিয়ার করে দেবো” ‘অনুরাগের ছোঁয়া’ থেকেই অংশ নিয়েছেন ৫০০-রও বেশি মাচা শোয়ে, এবার আরামবাগে শো করতে গিয়ে ভয়ঙ্কর অভিজ্ঞতা অহনা দত্তের! কোনমতে বেঁচেছেন, কী ঘটেছিল অষ্টমীর রাতে? সবটা খুলে বললেন অভিনেত্রী?

সিঁদুরের প্রসঙ্গে পল্লবীর কথায় উঠে এসেছে বলিউড অভিনেত্রী রেখার নামও। কিংবদন্তি অভিনেত্রী রেখার ভক্ত পল্লবী জানিয়েছেন, রেখাও সিঁদুর পরেন। তবে তিনি কার নামে সিঁদুর পরেন, তা তাঁর জানা নেই। নিজের ক্ষেত্রে অবশ্য পল্লবীর বক্তব্য স্পষ্ট, তিনি সিঁদুর পরেন নিজের ভালো লাগা থেকেই। আর সেই ভাবনাকেই এক বাক্যে তুলে ধরেছেন অভিনেত্রী, “বর না হয় নাই থাকল, আমি তো বধূ হয়ে থাকলাম।” সমাজের প্রচলিত ধারণার বাইরে গিয়ে নিজের পছন্দকে গুরুত্ব দেওয়ার এই বার্তাই এখন পল্লবীর সাজকে ঘিরে আলোচনার কেন্দ্রে। তাঁর এই বক্তব্যে একদিকে যেমন রয়েছে ব্যক্তিগত স্বাধীনতার কথা, অন্যদিকে তেমনই রয়েছে নিজের মতো করে বাঁচার সহজ অথচ স্পষ্ট দর্শন।

You cannot copy content of this page