‘বিগ বস বাংলা’-র ঘরে যত দিন যাচ্ছে, ততই বদলাচ্ছে প্রতিযোগীদের সমীকরণ। নমিনেশন পর্বকে কেন্দ্র করে ফের এক বার বাড়ির অন্দরে উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। একাধিক সিদ্ধান্ত এবং পরস্পরের বিরুদ্ধে অবস্থান নেওয়ায় প্রতিযোগীদের মধ্যে দূরত্বও বাড়ছে। এই পরিস্থিতিতেই সৃজলা গুহকে নিয়ে নতুন করে চর্চা শুরু হয়েছে। নমিনেশনের আবহে নিজের অবস্থান নিয়ে বেশ আত্মবিশ্বাসী দেখিয়েছে অভিনেত্রীকে। তাঁর কথাতেই স্পষ্ট, এই সপ্তাহে যদি তিনি নিরাপদে থাকেন, তা হলে আগামী দিনে খেলার ধরন আরও বদলাতে পারে। হঠাৎ এমন মন্তব্য কেন করলেন সৃজলা, তা নিয়েই এখন কৌতূহল দর্শকদের মধ্যে। তাঁর একটি মন্তব্যই ফের তাঁকে আলোচনার কেন্দ্রে নিয়ে এসেছে।
সৃজলার মুখে শোনা গিয়েছে, ‘এই সপ্তাহে বেঁচে গেলে সকলের কপালে দুঃখ আছে।’ এই কথার মধ্যেই যেন নিজের পরবর্তী গেম নিয়ে ইঙ্গিত দিয়েছেন অভিনেত্রী। অর্থাৎ এই সপ্তাহের নমিনেশন থেকে বেঁচে গেলে তিনি আর চুপ করে থাকবেন না, এমনই বার্তা দিয়েছেন সৃজলা। তবে ঠিক কার উদ্দেশে এই হুঁশিয়ারি, তা নিয়ে তৈরি হয়েছে নানা প্রশ্ন। বিগ বসের বাড়িতে এর আগেও সৃজলাকে একাধিক প্রতিযোগীর সঙ্গে মতবিরোধে জড়াতে দেখা গিয়েছে। তাঁর সঙ্গে নন্দিনী দত্তের সংঘাতও ইতিমধ্যে শোয়ের অন্যতম আলোচিত বিষয় হয়ে উঠেছে। রাজবীর দে-র সঙ্গেও পোশাক এবং ব্যক্তিগত বিষয়কে কেন্দ্র করে তাঁর তীব্র বাদানুবাদ হয়েছিল। সেই ঘটনার পর রাজবীর শেষ পর্যন্ত সৃজলার কাছে ক্ষমাও চেয়েছিলেন।
সৃজলার এই মন্তব্যের পিছনে তাঁর সাম্প্রতিক অভিজ্ঞতার প্রভাব রয়েছে বলেও মনে করা হচ্ছে। ক্যাপ্টেন্সি টাস্কের সময় নন্দিনীর সঙ্গে ঘটনার পর সৃজলা গুরুতর চোট পেয়েছিলেন। তাঁকে চিকিৎসার জন্য হাসপাতালেও থাকতে হয়েছিল এবং পরে বাড়িতে ফিরে এসেছিলেন তিনি। ফিরে আসার পর নন্দিনী তাঁর কাছে ক্ষমা চাইলেও সৃজলা জানিয়েছিলেন, সেই ঘটনা তিনি সহজে ভুলতে পারছেন না। এমনকী পরে এক পর্বে নিজের চোট কতটা গুরুতর হতে পারত, সেই আশঙ্কার কথাও প্রকাশ্যে জানিয়েছিলেন অভিনেত্রী। তাই নন্দিনীকে ঘিরে তাঁর ক্ষোভ এখনও পুরোপুরি মিটেছে কি না, তা নিয়েও দর্শকদের মধ্যে আলোচনা রয়েছে। এর মধ্যেই ফের নমিনেশনের পর সৃজলার এমন হুঁশিয়ারি পরিস্থিতিকে আরও আকর্ষণীয় করে তুলেছে। আগামী দিনে তাঁর এই বক্তব্যের প্রভাব বাড়ির সমীকরণে কতটা পড়ে, সেটাই এখন দেখার।
অন্য দিকে, বিগ বসের ঘরে সৃজলার অবস্থান নিয়েও নানা ধরনের আলোচনা চলছে। একাধিক প্রতিযোগীর সঙ্গে তাঁর মতের অমিল প্রকাশ্যে এসেছে বিভিন্ন সময়ে। কখনও ব্যক্তিগত বিষয়, কখনও টাস্ক, আবার কখনও বাড়ির নিয়ম নিয়ে তাঁর সঙ্গে অন্যদের বিতর্ক হয়েছে। রাজবীরের সঙ্গে হওয়া সাম্প্রতিক ঝামেলায় নিজের সম্মানের প্রসঙ্গও জোর দিয়ে তুলেছিলেন সৃজলা। তাঁর বক্তব্য ছিল, কোনও সমস্যা থাকলে তাঁকে সরাসরি জানানো উচিত ছিল। সেই ঘটনায় নন্দিনীও সৃজলার বিরুদ্ধে কিছু অভিযোগ করেছিলেন, ফলে দুই পক্ষের মধ্যে দূরত্ব আরও স্পষ্ট হয়ে ওঠে। পরিস্থিতি উত্তপ্ত হওয়ার পরে রাজবীর নিজের আচরণের জন্য ক্ষমা চাইলেও সেই ঘটনার রেশ কিছুটা সময় ছিল। ফলে নমিনেশনের পর সৃজলার নতুন হুঙ্কার সামনে আসতেই পুরনো ঘটনাগুলিও ফের আলোচনায় চলে এসেছে।
আরও পড়ুনঃ “মেয়ের জন্য ভালো একটা পাত্র চাই, সামনের বছরই বিয়ে দিয়ে দেব”, লক্ষ্মীপুজোয় মেয়ের জন্য নারায়ণের মতো স্বামীর প্রার্থনা মা ইন্দ্রানী দত্তের! শুরু হয়ে গেছে প্রস্তুতি, আগামী বছরেই বিয়ের পিঁড়িতে বসতে চলেছেন রাজনন্দিনী পাল? এত তাড়াতাড়ি কেন মেয়েকে সংসারী করতে চান, জানালেন অভিনেত্রী?
সব মিলিয়ে সৃজলার ‘এই সপ্তাহে বেঁচে গেলে সকলের কপালে দুঃখ আছে’ মন্তব্য ঘিরে ‘বিগ বস বাংলা’-র ঘরে নতুন উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। তিনি সত্যিই কোনও নির্দিষ্ট প্রতিযোগীকে নিশানা করে এই কথা বলেছেন কি না, তা এখনও স্পষ্ট নয়। তবে তাঁর বক্তব্য থেকে বোঝা যাচ্ছে, নিরাপদে থাকলে আগামী দিনে নিজের অবস্থান আরও জোরালো ভাবে তুলে ধরতে চান অভিনেত্রী। নমিনেশনের চাপের মধ্যে এমন আত্মবিশ্বাসী মন্তব্য স্বাভাবিক ভাবেই দর্শকদের নজর কেড়েছে। বিশেষ করে এর আগে একাধিক সংঘাতের কারণে সৃজলাকে ঘিরে যে আলোচনা তৈরি হয়েছে, তার পর এই বক্তব্যের গুরুত্ব আরও বেড়েছে। এখন প্রশ্ন একটাই, সত্যিই কি এই সপ্তাহে সৃজলা নিরাপদ থাকবেন? আর যদি থাকেন, তবে কাদের সঙ্গে তাঁর নতুন করে সংঘাত তৈরি হবে? উত্তর মিলবে পরের পর্বগুলিতে, তবে আপাতত সৃজলার এই হুঁশিয়ারিই বিগ বসের ঘরের নতুন চর্চার বিষয়।






“আমি তো সিঙ্গেল, আমার তো বর নেই!” অবিবাহিত হয়েও সিঁথিভরা সিঁদুর, হাতে মোটা শাঁখা-পলা! লক্ষ্মীপুজোয় প্রসেনজিতের বোন পল্লবী চট্টোপাধ্যায়ের এমন সাজ ঘিরে তুমুল চর্চা, স্বামী না থাকলেও কেন বিবাহিত নারীর মতো সেজে থাকেন অভিনেত্রী? নিজেই করলেন ফাঁস, এই বিশেষ পছন্দের নেপথ্যে রয়েছে কোন কারণ?