“সালমান খানের মতো ব্যক্তিত্ব বা মেজাজ আমার নেই, ফাস্ট ও স্পিন বোলিং সম্পূর্ণ আলাদা দক্ষতার…ওঁর মতো হতে পারবই না!” বিগ বস বাংলায় সঞ্চালনা নিয়ে বারবার ভাইজানের সঙ্গে তুলনা, যোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন ও পক্ষপাতিত্বের অভিযোগ মানতে নারাজ সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায়? সমালোচকদের উদ্দেশে এবার সপাটে কী জবাব দিলেন দাদা?

বিগ বস বাংলার মঞ্চে সঞ্চালক হিসেবে সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায়ের উপস্থিতি দর্শকদের মধ্যে ইতিমধ্যেই যথেষ্ট চর্চার বিষয় হয়ে উঠেছে। ক্রিকেটের মাঠে দীর্ঘদিন দাপট দেখানোর পর এবার রিয়্যালিটি শোয়ের মঞ্চে নিজের আলাদা পরিচিতি তৈরি করছেন বাংলার মহারাজ। তাঁর সঞ্চালনায় কখনও উঠে আসছে বুদ্ধিদীপ্ত প্রশ্ন, কখনও প্রতিযোগীদের সঙ্গে মজার কথোপকথন, আবার কখনও কঠিন পরিস্থিতিতে তাঁর নিজস্ব বিচারবোধ। তবে বিগ বস বাংলার সঞ্চালনা ঘিরে দর্শকদের মধ্যে প্রশংসার পাশাপাশি শুরু হয়েছে তুলনাও। বিশেষ করে হিন্দি বিগ বসের দীর্ঘদিনের সঞ্চালক সালমান খানের সঙ্গে বারবার তুলনায় টেনে আনা হচ্ছে সৌরভকে।

আসলে সালমান খান দীর্ঘ সময় ধরে হিন্দি বিগ বসের সঞ্চালনার দায়িত্ব সামলাচ্ছেন। প্রতিযোগীদের সঙ্গে তাঁর কথা বলার ধরন, ভুল ধরিয়ে দেওয়া কিংবা বিশেষ পরিস্থিতিতে নিজের ব্যক্তিত্বের ছাপ রাখার বিষয়গুলি দর্শকদের কাছে বেশ পরিচিত। তাই বিগ বস বাংলায় সৌরভকে দেখার পর অনেকেরই প্রশ্ন, সালমান খান থাকলে হয়তো অন্যভাবে বিষয়গুলি সামলাতেন! এমনকী সোশ্যাল মিডিয়ায় মাঝেমধ্যেই শোনা যাচ্ছে, সালমান থাকলে এই পরিস্থিতিতে কী করতেন, কোন প্রতিযোগীকে কীভাবে সামলাতেন! এই তুলনা এবং পক্ষপাতিত্বের অভিযোগের প্রসঙ্গেই এবার নিজের অবস্থান স্পষ্ট করলেন সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায়।

এক সাক্ষাৎকারে সৌরভ বুঝিয়ে দিয়েছেন, তাঁর এবং সালমান খানের ব্যক্তিত্ব সম্পূর্ণ আলাদা। ছাড়াও পুরনো প্রসঙ্গ উঠে এসেছে অর্থাৎ দাদাগিরির মঞ্চে তিনি কিভাবে সব কিছু সামলাতে সেটাও তার কথায় উঠে এসেছে। তাঁর কথায়, দাদাগিরি অনেক বেশি বৌদ্ধিক, অন্যদিকে বিগ বস অনেক বেশি হিউম্যানশিপ বা মানবিক সম্পর্কের খেলা। দুটো অনুষ্ঠানকে একই মাপকাঠিতে বিচার করা যায় না। বিষয়টি বোঝাতে ক্রিকেটের উদাহরণও টেনেছেন তিনি। সৌরভের মতে, ফাস্ট বোলিং এবং স্পিন বোলিং যেমন সম্পূর্ণ আলাদা দক্ষতার খেলা, তেমনই দুটি রিয়্যালিটি শোয়ের সঞ্চালনাতেও আলাদা দক্ষতা প্রয়োজন। সালমান খান যেভাবে প্রতিযোগীদের সঙ্গে মিশতে পারেন, যেভাবে তাঁদের সঙ্গে কথা বলেন, সৌরভের স্বভাব তার থেকে একেবারেই আলাদা।

তিনি স্পষ্ট জানিয়েছেন, সালমানের মতো ব্যক্তিত্ব বা মেজাজ তাঁর নেই। দুজনের কাজের ধরন আলাদা হলেও দুজনেই নিজেদের জায়গায় সফল। নিজের বক্তব্যের ব্যাখ্যা দিতে গিয়ে ক্রিকেট জীবনের একটি গুরুত্বপূর্ণ অভিজ্ঞতাও ভাগ করে নিয়েছেন সৌরভ। জানিয়েছেন, দীর্ঘ ১৫ বছর সচিন তেন্ডুলকরের সঙ্গে একসঙ্গে খেলেছেন তিনি। কিন্তু কখনও সচিনের মতো হওয়ার চেষ্টা করেননি। বরং নিজের মনে স্থির করেছিলেন, সচিন হওয়া তাঁর পক্ষে সম্ভব নয়, তাই নিজের মতো করেই সফল হতে হবে। বিরাট কোহলি, শুভমন গিল, ব্রায়ান লারা কিংবা শিবনারায়ণ চন্দরপলের উদাহরণ টেনেও তিনি বুঝিয়েছেন, প্রত্যেকের খেলার ধরন, প্রতিভা এবং সাফল্যের পথ আলাদা।

অন্যের সঙ্গে তুলনা না করে নিজের দক্ষতা অনুযায়ী নিজেকে উন্নত করাই আসল বিষয়। একইভাবে বিগ বস শুরু করার আগে অমিতাভ বচ্চনের কেবিসি এবং সালমান খানের বিগ বসের কয়েকটি পর্ব দেখেছিলেন তিনি। উদ্দেশ্য ছিল, এই ধরনের অনুষ্ঠানের দর্শকদের মনস্তত্ত্ব এবং সঞ্চালনার ধরন বোঝা। কিন্তু কাউকে নকল করা নয়, নিজের স্বকীয়তা বজায় রাখাই ছিল তাঁর লক্ষ্য। এমনকী সালমান খানের জনপ্রিয়তার কারণ ব্যাখ্যা করতেও সৌরভ বাস্তবসম্মত মন্তব্য করেছেন। তাঁর মতে, সালমান যেভাবে মানুষের সঙ্গে মিশতে পারেন, যেভাবে পরিস্থিতি সামলান, সেটা তাঁর নিজস্ব বৈশিষ্ট্য। সৌরভের পক্ষে সেই একইভাবে প্রতিযোগীদের সঙ্গে আচরণ করা সম্ভব নয়।

আরও পড়ুনঃ নিজের স্বামী নয়, রাজবীরের খেলায় মুগ্ধ দর্শনা! তবে কি সৌরভের হাতে বিগ বস বাংলার ট্রফি দেখতে চান না তিনি? এই শোয়ে যোগ দিতে একের পর এক কাজ ছাড়ার সিদ্ধান্ত, কেন এতটা মরিয়া হয়েছিলেন অভিনেতা? ফাঁস করলেন অভিনেত্রী?

পাশাপাশি তিনি মনে করেন, সফল হতে গেলে মানুষের কাছে পৌঁছতে হয়, মাঠে নেমে পরিস্থিতির সঙ্গে মানিয়ে নিতে হয়। শুধু এসি ঘরে বসে থেকে ব্যবসা করা যায় না, বাজারে নেমে মানুষের সঙ্গে যোগাযোগ করতে হয়। অর্থাৎ বিগ বস বাংলায় তাঁর সঞ্চালনার ধরনও দর্শকদের সঙ্গে সেই সংযোগ তৈরিরই একটি নিজস্ব প্রচেষ্টা। তাহলে সালমান খানের সঙ্গে তুলনা করে সৌরভের সঞ্চালনাকে বিচার করা কতটা যুক্তিযুক্ত? দর্শকদের একাংশের মনে এই প্রশ্ন থাকলেও সৌরভের বক্তব্য স্পষ্ট, অন্যের মতো নয়, নিজের মতো করেই সফল হতে চান তিনি।

You cannot copy content of this page