ছোটপর্দার জনপ্রিয় অভিনেত্রী শ্বেতা ভট্টাচার্য এবং অভিনেতা রুবেল দাসের দাম্পত্য জীবন নিয়ে অনুরাগীদের কৌতূহলের শেষ নেই। ২০২৫ সালের জানুয়ারি মাসে বৈদিক রীতি মেনে বিয়ে করেন এই তারকা জুটি। বিয়ের পর থেকে দুজনের নানা মুহূর্ত মাঝেমধ্যেই উঠে আসে সমাজমাধ্যমে। বর্তমানে ছোটপর্দা থেকে কিছুটা দূরে রয়েছেন শ্বেতা। তাঁর অভিনীত জনপ্রিয় ধারাবাহিক ‘কোন গোপনে মন ভেসেছে’ শেষ হওয়ার পর আপাতত নতুন কোনও ধারাবাহিকে দেখা যাচ্ছে না তাঁকে। তবে পর্দায় অনুপস্থিত থাকলেও ব্যক্তিগত জীবনের নানা মুহূর্ত দিয়ে অনুরাগীদের সঙ্গে যোগাযোগ বজায় রেখেছেন অভিনেত্রী। সম্প্রতি অভিনেত্রী ও নেটপ্রভাবী লাবণী ভট্টাচার্যের সঙ্গে একটি ঘরোয়া আড্ডায় দেখা যায় শ্বেতা ও রুবেলকে। আর সেই আড্ডাতেই তাঁদের আগামী দিনের সংসার পরিকল্পনা নিয়ে উঠে আসে মজার কথাবার্তা।
প্রায় ১৪ বছর পর মুখোমুখি হয়েছিলেন শ্বেতা ও লাবণী। দুজনেই একসময় ‘ভালোবাসা ডট কম’ ধারাবাহিকে একসঙ্গে কাজ করেছিলেন। দীর্ঘদিন পর দেখা হওয়ায় আড্ডায় পুরনো দিনের স্মৃতিও ফিরে আসে। বর্তমানে শ্বেতা সংসার নিয়ে ব্যস্ত থাকলেও লাবণীর জীবনে এসেছে নতুন দায়িত্ব। তিনি এখন ছোট্ট অশ্লেষার মা। কথার ফাঁকেই লাবণী মজা করে শ্বেতাকে প্রশ্ন করেন, অশ্লেষার ভাই বা বোন কবে আসছে? অর্থাৎ শ্বেতা ও রুবেলের পরিবারে নতুন সদস্য আসার পরিকল্পনা কবে করছেন, তা জানতে চান তিনি। দুই বছর আগে বিয়ে করা এই তারকা দম্পতির কাছে এমন প্রশ্ন আসতেই আড্ডার পরিবেশ আরও জমে ওঠে। শুধু শ্বেতাকে প্রশ্ন করেই থেমে থাকেননি লাবণী। পিছনে বসে থাকা রুবেলকে দেখিয়েও জানতে চান, তাঁদের পরিবারে নতুন অতিথি আসার বিষয়ে কী ভাবনা রয়েছে।
লাবণীর প্রশ্ন শুনে দূর থেকেই হাসতে হাসতে উত্তর দেন রুবেল। মজার ছলে তিনি বলেন, ‘সেটা তো একা আমার দ্বারা সম্ভব নয়, শ্বেতা দিদি যদি একটু সহযোগিতা করেন!’ স্বামীর মুখে এমন কথা শুনে হেসে ফেলেন শ্বেতা ও লাবণী দুজনেই। তবে সেখানেই থেমে থাকেননি অভিনেত্রী। রুবেলের মন্তব্যের পাল্টা জবাব দিতে গিয়ে নিজের স্বভাবসিদ্ধ রসিক ভঙ্গিতে শ্বেতা বলেন, ‘আমি কোনও হেল্পিং ডিপার্টমেন্টে (Helping Department) নেই! আমি কাউকে কোনো সহযোগিতা করছি না আজকাল। আমার অভিধানে সহযোগিতা বলে কোনো শব্দই নেই!’ শ্বেতার এই জবাবে আড্ডার পরিবেশ আরও হাসিখুশি হয়ে ওঠে। স্বামী-স্ত্রীর এমন মজার কথোপকথনই এখন অনুরাগীদের আলোচনার বিষয় হয়ে উঠেছে। সন্তান পরিকল্পনার মতো ব্যক্তিগত বিষয়কেও তাঁরা যেভাবে হাসি-ঠাট্টার মধ্যে তুলে ধরেছেন, তা নজর কেড়েছে।
শ্বেতা, রুবেল ও লাবণীর এই আড্ডার ভিডিয়ো সমাজমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়তেই তা নিয়ে অনুরাগীদের মধ্যে বেশ সাড়া পড়ে যায়। ছোটপর্দায় দীর্ঘদিন দেখা না গেলেও শ্বেতা ও রুবেলের এমন খুনসুটিতে ভরা মুহূর্ত দেখতে পছন্দ করেন তাঁদের অনুরাগীরা। দম্পতির সহজ স্বভাব এবং একে অপরকে নিয়ে মজা করার ধরনও দর্শকদের নজর কেড়েছে। উল্লেখ্য, শ্বেতা ও রুবেলের প্রেমের শুরু হয়েছিল ‘যমুনা ঢাকি’ ধারাবাহিকের সেটে। যদিও তাঁদের পরিচয় আরও অনেক আগে, কৈশোরে নাচের ক্লাসে একসঙ্গে সময় কাটানোর সূত্রে। পরবর্তী সময়ে রুবেল কাজের সন্ধানে মুম্বই পাড়ি দেন এবং শ্বেতা টলিউডে নিজের অভিনয়ের জায়গা তৈরি করতে শুরু করেন। পরে রুবেল মুম্বই থেকে ফিরে বাংলা বিনোদন জগতে কাজ শুরু করেন। এরপর ‘যমুনা ঢাকি’র সেটেই আবার কাছাকাছি আসেন তাঁরা। বন্ধুত্ব ধীরে ধীরে প্রেমের সম্পর্কে পরিণত হয় এবং প্রায় পাঁচ বছর প্রেম করার পর বিয়ের সিদ্ধান্ত নেন দুজনে।
আরও পড়ুনঃ রুপোলি পর্দার মহানায়িকাও রেহাই পাননি কুসংস্কারের হাত থেকে! দিবানাথের সঙ্গে বিয়ের বছর ঘুরতে না ঘুরতেই জন্ম ফুটফুটে পুত্রসন্তানের, তারপর কী এমন হয় সেই শিশুর যে শ্বশুরবাড়িতে অভিনেত্রীকে শুনতে হয়েছিল ‘অপয়া’ অপবাদ? প্রথম সন্তানকে নিয়ে সুচিত্রা সেনের জীবনের বেদনাদায়ক অধ্যায় আজও রয়ে গিয়েছে আড়ালে?
২০২৫ সালের জানুয়ারি মাসে বৈদিক রীতি মেনে চার হাত এক হয় শ্বেতা ও রুবেলের। বিয়ের পর তাঁদের সম্পর্ক নিয়ে অনুরাগীদের আগ্রহ আরও বেড়েছে। এর আগেও একাধিকবার এই দম্পতির সন্তান পরিকল্পনা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। বিশেষ করে শ্বেতার দীর্ঘদিন ছোটপর্দায় অনুপস্থিতি ঘিরে নানা জল্পনা তৈরি হয়েছিল। তবে এই আড্ডায় রুবেলের মজার মন্তব্য এবং শ্বেতার পাল্টা জবাব থেকেই বোঝা যায়, আপাতত বিষয়টি নিয়ে তাঁরা হাসি-ঠাট্টার মধ্যেই রয়েছেন। লাবণীর প্রশ্নের উত্তরে নতুন অতিথি আসার কোনও নির্দিষ্ট সময় বা পরিকল্পনার কথা জানাননি তাঁরা। বরং নিজেদের দাম্পত্যের মজার সমীকরণ তুলে ধরেছেন দুজনে। ফলে কবে শ্বেতা ও রুবেলের সংসারে নতুন সদস্য আসবে, সেই প্রশ্নের উত্তর এখনও অধরা। আপাতত তাঁদের এমন খুনসুটিই মনোরঞ্জন করছে অনুরাগীদের।






