নিজের স্বামী নয়, রাজবীরের খেলায় মুগ্ধ দর্শনা! তবে কি সৌরভের হাতে বিগ বস বাংলার ট্রফি দেখতে চান না তিনি? এই শোয়ে যোগ দিতে একের পর এক কাজ ছাড়ার সিদ্ধান্ত, কেন এতটা মরিয়া হয়েছিলেন অভিনেতা? ফাঁস করলেন অভিনেত্রী?

ছোটপর্দা থেকে সমাজ মাধ্যম, সর্বত্রই এখন আলোচনার কেন্দ্রে রয়েছে ‘বিগ বস বাংলা’। প্রতিযোগীদের ঝগড়া, বন্ধুত্ব, ব্যক্তিগত সমীকরণ এবং নানা কৌশল নিয়ে প্রতিদিনই নতুন নতুন চর্চা শুরু হচ্ছে। এরই মধ্যে প্রায় দু’সপ্তাহ আগে ওয়াইল্ড কার্ড প্রতিযোগী হিসেবে বিগ বসের ঘরে প্রবেশ করেছেন অভিনেতা সৌরভ দাস। তাঁর সঙ্গে একই সময়ে ঘরে ঢুকেছেন রণিতা দাসও। প্রথম থেকেই সৌরভের খেলা নিয়ে কৌতূহল তৈরি হয়েছে দর্শকদের মধ্যে। যদিও ঘরের কয়েক জন প্রতিযোগীর দাবি, এখনও পর্যন্ত নিজের আসল খেলা শুরু করেননি অভিনেতা। নিরাপদে থাকার জন্যই কি এমন কৌশল নিচ্ছেন তিনি, তা নিয়েও আলোচনা চলছে। এবার স্বামীর বিগ বসের সফর এবং তাঁর খেলার ধরন নিয়ে মুখ খুললেন অভিনেত্রী দর্শনা বণিক।

সৌরভের বিগ বসে প্রবেশের আগে পর্যন্ত এই রিয়্যালিটি শো দেখার অভ্যাস ছিল না দর্শনার। এমনকি আগে কখনও বিগ বসের কোনও সিজনও দেখেননি তিনি। কিন্তু স্বামী প্রতিযোগী হিসেবে যোগ দেওয়ার পর থেকেই প্রথমবারের মতো নিয়মিত এই অনুষ্ঠানের সঙ্গে পরিচিত হচ্ছেন অভিনেত্রী। দর্শনার কথায়, সৌরভের খেলা তাঁর বেশ ভালো লাগছে। তাঁর মনে হয়েছে, বিগ বসের বাড়িতে এত দিন যে বিনোদন বা মজার কিছুটা অভাব ছিল, সৌরভ প্রবেশ করার পর তা অনেকটাই পূরণ হয়েছে। অভিনেত্রীর কথায়, “আমার মনে হয়, এত দিন যে বিনোদন বা মজাটা মিসিং ছিল ‘বিগ বস’-এর বাড়িতে, সেটা সৌরভ যাওয়ার পর পূরণ হয়েছে।” অর্থাৎ স্বামীর উপস্থিতিতে শোয়ের পরিবেশ আরও জমে উঠেছে বলেই মনে করছেন তিনি। তবে সৌরভ ছাড়া অন্য প্রতিযোগীদের মধ্যেও একজনের খেলা বিশেষ ভাবে নজর কেড়েছে দর্শনার।

সেই প্রতিযোগী হলেন রাজবীর দে। সৌরভকে বাদ দিলে বিগ বসের বাড়িতে রাজবীরের খেলাই ব্যক্তিগত ভাবে সবচেয়ে বেশি পছন্দ দর্শনার। রাজবীরের খেলার ধরন এবং প্রতিযোগিতায় তাঁর পারফরম্যান্স ভালো লেগেছে অভিনেত্রীর। তবে অন্য প্রতিযোগীর খেলা পছন্দ হলেও নিজের স্বামীর প্রতি সমর্থনে কোনও খামতি নেই তাঁর। দর্শনা স্পষ্ট জানিয়েছেন, শেষ পর্যন্ত সৌরভই যেন বিগ বসের বিজয়ী হন, সেটাই তাঁর ইচ্ছা। অন্যদিকে বিগ বসের বাড়ির বেশ কিছু বিষয়ও অভিনেত্রীর ভালো লেগেছে। বিশেষ করে প্রতিযোগীদের মধ্যে ঝগড়া হওয়ার পরেও আবার একসঙ্গে মিশে যাওয়া, দল বেঁধে বিভিন্ন টাস্কে অংশ নেওয়া এবং খাওয়াদাওয়ার সময় একে অপরের পাশে থাকার বিষয়টি তাঁর নজর কেড়েছে। এই পারস্পরিক সম্পর্ক এবং বন্ধুত্বের দিকটিই দর্শনার কাছে সবচেয়ে ভালো লেগেছে।

বিগ বসের বাড়িতে প্রতিযোগীদের মধ্যে ঝগড়া বা মতবিরোধ নতুন কিছু নয়। কিন্তু সেই ঝামেলা ভুলে আবার স্বাভাবিক সম্পর্কে ফিরে আসার বিষয়টি দর্শনাকে অবাক করেছে। অভিনেত্রীর কথায়, “বিগ বসের বাড়ি গিয়ে মানুষ নিজেদের অহংবোধটা বাইরেই রেখে আসে।” নিজের বাস্তব জীবনের অভিজ্ঞতার সঙ্গে তুলনা করে তিনি জানিয়েছেন, কারও সঙ্গে ঝগড়া হলে সাধারণত তাঁরা অন্তত সাত দিন কথা বলেন না। অথচ বিগ বসের বাড়িতে প্রতিযোগীরা কিছুক্ষণ কথা বন্ধ রাখলেও পরে নিজেরাই সব মিটিয়ে নেন। এই বিষয়টিই তাঁর কাছে বেশ ভালো লেগেছে। একদিকে মতের অমিল, অন্যদিকে আবার একসঙ্গে কাজ করা এবং একে অপরকে সাহায্য করা, প্রতিযোগীদের মধ্যে এই পরিবর্তনশীল সম্পর্কের সমীকরণ উপভোগ করছেন দর্শনা। তাঁর মতে, বিগ বসের বাড়িতে মানুষের ব্যক্তিত্বের পাশাপাশি সম্পর্ক সামলানোর একটি আলাদা দিকও প্রকাশ পায়।

আরও পড়ুনঃ ‘আমার একার দ্বারা তো সম্ভব নয়…’ বিয়ের পর কাটিয়ে ফেলেছেন প্রায় দু’বছর, সন্তান পরিকল্পনা নিয়ে প্রশ্ন করতেই রুবেলের মন্তব্য! কী পাল্টা জবাবে শ্বেতার? দাম্পত্যের দু’বছর পূর্ণ হওয়ার আগেই দেবেন নতুন সদস্যের সুখবর, কী বললেন তারকা দম্পতি?

তবে শুধু সৌরভের খেলা দেখাই নয়, চলতি সিজনে নিজেও বিগ বসের প্রতিযোগী হওয়ার প্রস্তাব পেয়েছিলেন দর্শনা। অভিনেত্রী জানিয়েছেন, এই মরসুমের আগেও একবার তাঁর কাছে অনুষ্ঠানে যোগ দেওয়ার প্রস্তাব এসেছিল। কিন্তু এখনও পর্যন্ত এই ধরনের প্রতিযোগিতায় অংশ নেওয়ার জন্য নিজেকে পুরোপুরি প্রস্তুত বলে মনে করেন না তিনি। তাই আপাতত সেই প্রস্তাবে রাজি হননি। অন্যদিকে সৌরভের ইচ্ছা ছিল বিগ বসের বাড়িতে গিয়ে সম্পূর্ণ আলাদা একটি অভিজ্ঞতা অর্জন করা। ফোন ছাড়া, বাইরের কারও সঙ্গে যোগাযোগ না রেখে একেবারে অচেনা কিছু মানুষের সঙ্গে নির্দিষ্ট নিয়মের মধ্যে দিন কাটানো কেমন, তা নিজের অভিজ্ঞতায় বুঝতে চেয়েছিলেন অভিনেতা। বিশেষ করে এবারের সিজনে অংশ নেওয়ার জন্য তাঁর আগ্রহ ছিল অনেক বেশি। শেষ পর্যন্ত সেই ইচ্ছা পূরণ হওয়ায় খুশি দর্শনাও। এখন স্বামীর খেলা উপভোগ করার পাশাপাশি অন্য প্রতিযোগীদের পারফরম্যান্সের দিকেও নজর রাখছেন তিনি। শেষ পর্যন্ত সৌরভ কতটা এগোতে পারেন, সেটাই দেখার অপেক্ষা।

You cannot copy content of this page