চলচ্চিত্র জগতের নানান বিতর্কের মধ্যে এমন কিছু ঘটনা রয়েছে, যা দশকের পর দশক পেরিয়েও মানুষের আগ্রহের কেন্দ্রবিন্দু হয়ে থাকে। তেমনই এই কিংবদন্তি অভিনেত্রীর জীবনেও ঘটেছিল তেমনই এক ঘটনা, যা একসময় গোটা ইন্ডাস্ট্রিকে নাড়িয়ে দিয়েছিল। অভিনয়ের সাফল্য, বিপুল জনপ্রিয়তা এবং আর্থিক সমৃদ্ধি সবই ছিল তাঁর ঝুলিতে। তাঁর পারিশ্রমিক সেই সময় বহু তারকার তুলনায় বেশি ছিল বলেও জানা যায়। কিন্তু কেরিয়ারের একেবারে সাফল্যের শিখরে দাঁড়িয়ে এমন এক বিতর্কে জড়িয়ে পড়েন, যা তাঁর ভবিষ্যৎ বদলে দেয়। একটি ঘটনার পর তাঁকে নিয়ে শুরু হয় তুমুল আলোচনা। আজও সেই ঘটনাকে ঘিরে নানান তথ্য ও কাহিনি সামনে আসে।
বিনোদন জগতের অন্যতম আলোচিত বিতর্ক হিসেবেই বিষয়টি স্মরণ করা হয়। অভিনেত্রী হিসেবে তিনি ছিলেন অত্যন্ত সফল এবং দীর্ঘ সময় ধরে দর্শকদের প্রিয় মুখ। একের পর এক জনপ্রিয় ছবিতে অভিনয় করে তিনি নিজের আলাদা জায়গা তৈরি করেছিলেন। তাঁর আয়ও ছিল সেই সময়ের তুলনায় বেশ উল্লেখযোগ্য। তবে ব্যক্তিগত জীবনে তিনি নাকি খুব হিসেবি স্বভাবের ছিলেন বলে বিভিন্ন সূত্রে উল্লেখ পাওয়া যায়। অর্থ সঞ্চয়ের ব্যাপারে তিনি বিশেষভাবে সচেতন ছিলেন। এমনও বলা হয়, প্রচুর সম্পত্তি ও আয় থাকা সত্ত্বেও অযথা খরচ পছন্দ করতেন না।
নিজের অনেক কাজ নিজেই করতেন বলেও নানান প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে। এই কারণেই তাঁকে নিয়ে মানুষের কৌতূহল ছিল বরাবরই। এরপর আসে সেই ঘটনা, যা তাঁর জীবন ও কেরিয়ারের মোড় ঘুরিয়ে দেয়। একদিন হঠাৎ তাঁর বাড়িতে তল্লাশি চালানো হয়। সেই অভিযানের সময় এমন কিছু উদ্ধার হয়, যা মুহূর্তে শিরোনামে উঠে আসে। বাড়ির একটি বাথরুমের দেওয়ালের ভেতর থেকে উদ্ধার করা হয় বিপুল অঙ্কের নগদ টাকা, প্রায় ১২ লক্ষ টাকা। ঘটনার খবর ছড়িয়ে পড়তেই শুরু হয় জোর চর্চা। কীভাবে ওই অর্থ সেখানে এল, তা নিয়ে নানা প্রশ্ন উঠতে থাকে। সেই সময় সংবাদ মাধ্যমেও বিষয়টি ব্যাপকভাবে প্রচারিত হয়েছিল।
আরও পড়ুন: “মায়ের সঙ্গে দেবলীনার নিত্যদিন অস্ব’স্তিকর ঝামেলা হতো ওটা নিয়ে” “সব ব্যাপারেই সিদ্ধান্ত নিত, আমাদের সম্পর্কে তৃতীয় ব্যক্তি হয়ে…” দাম্পত্য ভাঙনের নেপথ্যে ফের চাঞ্চল্যকর দাবি প্রবাহ নন্দীর! দেবলীনা নন্দীর সঙ্গে আইনি লড়াইয়ের মাঝেই, কাকে দায়ী করলেন গায়িকার স্বামী?
ধীরে ধীরে ঘটনাটি আরও বড় বিতর্কের রূপ নেয়। টাকার উৎস নিয়ে শুরু হয় তদন্ত এবং বিষয়টি আদালত পর্যন্ত গড়ায়। সেখানে অভিনেত্রীর বক্তব্য নিয়ে নতুন করে শোরগোল শুরু হয়। তিনি যে ব্যাখ্যা দিয়েছিলেন, তা অনেকের কাছেই বিস্ময়কর বলে মনে হয়েছিল। ‘দেহ ব্যবসায় পেয়েছি…’ তাঁর এই মন্তব্য প্রকাশ্যে আসতেই আলোচনা আরও তীব্র হয়ে ওঠে। সেই বক্তব্যকে কেন্দ্র করে তাঁর ভাবমূর্তিতেও বড় ধাক্কা লাগে। অনেকেই সেই সময় বিষয়টি নিয়ে সমালোচনা করেছিলেন। ঘটনার পর বিনোদন জগতে তাঁর অবস্থান আগের মতো থাকেনি বলেও দাবি করা হয়। ক্রমশ তাঁর কেরিয়ারে এর প্রভাব পড়তে শুরু করে।
ভাবছেন তো কে? এই অভিনেত্রী আর কেউ নন, বরং বলিউডের জনপ্রিয় তারকা মালা সিনহা। পাঁচ ও ছয়ের দশকে তিনি ইন্ডাস্ট্রির অন্যতম সফল এবং ধনী অভিনেত্রী হিসেবে পরিচিত ছিলেন। ১২০টিরও বেশি ছবিতে অভিনয় করেছিলেন তিনি। প্রায় দুই দশক ধরে পর্দায় নিজের দাপট বজায় রেখেছিলেন। ১৯৭৮ সালে তাঁর বাড়িতে আয়কর বিভাগের অভিযানের সময় বাথরুমের দেওয়াল থেকে ১২ লক্ষ টাকা উদ্ধার হয়েছিল বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে উল্লেখ রয়েছে। ঘটনার পর আদালতে দাঁড়িয়ে তিনি বলেছিলেন, “এই টাকা আমি দেহব্যবসা করে উপার্জন করেছি।” এই মন্তব্যই পরে সবচেয়ে বেশি বিতর্কের জন্ম দেয়। মুহূর্তের মধ্যে খবরটি দেশজুড়ে আলোচনার বিষয় হয়ে ওঠে।

পরবর্তীতে বিভিন্ন সূত্রে দাবি করা হয়, ওই বক্তব্য দেওয়ার জন্য তাঁকে তাঁর বাবা এবং আইনজীবী পরামর্শ দিয়েছিলেন। তাঁরা নাকি তাঁকে ওই অর্থের উৎস ব্যাখ্যা করতে এমন বক্তব্য দিতে বলেছিলেন। যদিও এই বিতর্কের পর তাঁর কেরিয়ারে বড় ধাক্কা লাগে বলে বহু প্রতিবেদনে উল্লেখ রয়েছে। একাধিক গুরুত্বপূর্ণ প্রজেক্ট থেকে তাঁর নাম বাদ পড়তে শুরু করে। প্রযোজক, পরিচালক এবং সহকর্মীদের অনেকেই দূরত্ব বজায় রাখতে শুরু করেন বলে শোনা যায়। যে অভিনেত্রী একসময় বছরে পাঁচ থেকে ছয়টি ছবিতে অভিনয় করতেন, তাঁর কাজের সংখ্যা ধীরে ধীরে কমে আসে। শেষ পর্যন্ত তিনি অভিনয় জগত থেকে অনেকটাই সরে যান। আজও তাঁর জীবনের এই বিতর্কিত অধ্যায় নিয়ে আলোচনা থামেনি।






