‘দেবলীনা নন্দী নামী গায়িকা, শুধু মাচা সিঙ্গার নয়! মাচা তো দেব-প্রসেনজিৎও করে, তাহলে কি ওদের মাচা অভিনেতা বলব?’ দেবলীনাকে ছোট করায় পাল্টা, সমালোচকদের কড়া বার্তা দিদির! এবার সমাজ মাধ্যমকে কাঠগড়ায় তুললেন তিনি!

গত কয়েক দিনে ‘দেবলীনা নন্দী’কে (Debolinaa Nandy) ঘিরে যে ঝড় উঠেছে, তা আর শুধুই একটি ব্যক্তিগত ঘটনার মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই। সমাজ মাধ্যম যেন কার্যত আদালতের চেহারা নিয়েছে! কেউ রায় দিচ্ছেন, কেউ প্রশ্ন ছুঁড়ছেন, কেউ আবার কটাক্ষে ভরিয়ে দিচ্ছেন মন্তব্যের ঘর। একজন মানুষের মানসিক ভাঙনের মুহূর্তও যে এভাবে জনসমক্ষে বিনোদনের বিষয় হয়ে উঠতে পারে, সেটাই এই ঘটনার সবচেয়ে অস্বস্তিকর দিক! এত কথা, এত বিশ্লেষণের মাঝেও যেন একটা জিনিস বারবার হারিয়ে যাচ্ছে, দেবলীনাকে একজন মানুষ হিসেবে দেখার প্রয়োজনটা।

ঘটনার পর থেকে সহানুভূতির বদলে যে ভাষাটা বেশি শোনা যাচ্ছে, তা আরও আঘাতের। অনেকেই সরাসরি প্রশ্ন তুলছেন, এটা আদৌ সত্যি ছিল কি না, নাকি সবটাই নাটক। কেউ আবার বলছেন, “একজন মাচা সিঙ্গারকে নিয়ে এত আলোচনা কেন?” এই ধরনের মন্তব্য যে কতটা নিষ্ঠুর হতে পারে, সেটা বোঝার জন্য খুব বেশি সংবেদনশীল হওয়ার দরকার নেই। একজন শিল্পীর কাজের পরিসর ছোট বা বড় হতে পারে, কিন্তু তার যন্ত্রণা কি তাতে মাপা যায়? এই প্রশ্নটাই যেন ইচ্ছে করেই এড়িয়ে যাওয়া হচ্ছে।

এই প্রেক্ষিতেই ফের মুখ খুলেছেন দেবলীনার দিদি। সমাজ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভুল ব্যাখ্যা, অর্ধেক সত্য আর উদ্দেশ্যপ্রণোদিত কটাক্ষের জবাব দিতে গিয়ে তিনি স্পষ্ট ভাষায় জানিয়েছেন, সব অভিযোগের পেছনে বাস্তবতা আছে, প্রমাণ আছে। বিশেষ করে ‘মাচা সিঙ্গার’ তকমা লাগিয়ে দেবলীনার গুরুত্ব কমিয়ে দেওয়ার চেষ্টা নিয়ে তিনি ক্ষোভ উগরে দেন। শর্মিষ্ঠা কথায়, “অনেকেই প্রশ্ন করেছেন, আমি যদি ওর দিদি হই তাহলে আগে কেন দেখা যায়নি! অনেকেই যারা ওর পুরনো ভিডিও দেখেছেন, তারা আমাকে চেনেন। আর বিয়ের পরের অশান্তি তো আপনারা এখন বুঝতেই পারছেন।

ওর পক্ষে সম্ভব হতো না, সব সময় আমাদের দেখানো। এরপর যেটা বলব, দেবলীনা নন্দী শুধুমাত্র মাচা সিঙ্গার নয়! আর মাচা তো দেব থেকে প্রসেনজিৎ, সবাই করে। তাহলে কি ওদের মাচা অভিনেতা বলব? সবটা না জেনে আপনারা আমার বোনকে নিয়ে এত বাজে কথা লিখে যাচ্ছেন, এগুলো দেখে ও আরও মানসিক ভাবে ভেঙে পড়ছে। আপনাদের কারোর জন্য যদি আমার বোনের ক্ষতি হয়, তাহলে ছেড়ে দেব না! রেজিস্ট্রির প্রসঙ্গে যদি আসি, অনেকেই বলছেন রেজিস্ট্রির ছবি সমাজ মাধ্যমে ঘুরে বেড়াচ্ছে।

তাহলে মিথ্যে দাবি কেন করা হচ্ছে যে রেজিস্ট্রি করেনি প্রবাহ? সত্যিটা এমন নয়, আমি সেইদিন উপস্থিত থাকতে পারিনি অনুষ্ঠানে। কিন্তু সায়ক সহ অনেকেই ছিল, সবটাই সুস্থভাবে হয়ে গিয়েছিল। কিন্তু পরে যখন রেজিস্ট্রির কাগজ পাওয়ার কথা, তখন সেটা এসে পৌঁছালো না এবং জানানো হলো প্রবাহর ফিঙ্গারপ্রিন্ট মিলছে না! এর পরেও আমার বোন একাধিক বার চেষ্টা করেছে রেজিস্ট্রি করার, ওরা করতে দেয়নি। এমনকি অনন্যা এবং সুকান্তর রেজিস্ট্রির দিনও দেবলীনা প্রবাহকে বুঝিয়েছিল।

এই নিয়ে দুজনের মধ্যে অশান্তি হওয়ার শেষ অব্দি তারা আর যায়নি অনুষ্ঠানে। এটা যে ইচ্ছাকৃত না করা তার প্রমাণ পেয়েছিলাম, যখন বোনকে বাড়িতে বের করে দিল। প্রবাহ বলেছিল, ‘এই জন্যই বাবা আমাকে রেজিস্ট্রি করতে বারণ করেছে!’ এবার আপনারাই বলুন, এখানে মিথ্যেটা কোথায়?” এই বক্তব্যে একটা বিষয় পরিষ্কার, ঘটনাটা যতটা সহজ করে দেখানো হচ্ছে, বাস্তবটা ততটা সরল নয়। “কেন আগে বেরিয়ে এলো না”, “কেন তখন মুখ খুললো না” এই প্রশ্নগুলো শুনতে যুক্তিসঙ্গত লাগলেও,

আরও পড়ুনঃ “ঠাকুরকে নিবেদন করার আগে ভোগ চেখে দেখা অন্যায় নয়, বড় বড় সাধকরাও করতেন !”—মমতা শঙ্করের মন্তব্য ঘিরে তীব্র বিত’র্ক, পুজোর চিরাচরিত নিয়ম ভেঙে অভিনেত্রীর আধ্যাত্মিক বিশ্বাসের ব্যাখ্যায় উত্তাল সমাজমাধ্যম!

বাস্তবে সম্পর্কের জটিলতার সঙ্গে খুব কম মানুষই বুঝতে পারেন বাইরে থেকে বিচার করে। অনেক সময় মানুষ চুপ করে থাকে সংসার বাঁচানোর আশায়, সামাজিক চোখরাঙানি এড়াতে বা শুধু এই ভেবে যে হয়তো সব ঠিক হয়ে যাবে। সবশেষে যেটা সবচেয়ে জরুরি, সেটা নিয়ে বলাই যেন সবচেয়ে কম হচ্ছে। দেবলীনা এই মুহূর্তে সুস্থ হওয়ার চেষ্টা করছেন। অথচ সমাজ মাধ্যম খুললেই তাকে আবার সেই একই প্রশ্ন, সেই একই অভিযোগের মুখে পড়তে হচ্ছে। এই পরিস্থিতিতে দোষ খোঁজার প্রতিযোগিতা না করে, একটু থামা দরকার আমাদের সবারই।

You cannot copy content of this page