কিছু হলেই আ’ত্মহ’ত্যা করে নিচ্ছে! প্লুটো থেকে শুরু এখন বাবিল! অতিরিক্ত নাটকীয়তা দেখাতে গিয়ে কী সমাজে বিপজ্জনক বার্তা ছড়াচ্ছে চিরসখা? আ’ত্মহ’ননের প্রবণতা কেন বারবার ফিরছে গল্পে, প্রশ্ন তুলছেন দর্শকরা

স্টার জলসার ‘চিরসখা’ (Chiroshokha) ধারাবাহিককে কয়েকদিন অদ্ভুত শান্তিতে এবং সবকিছু ঠিকঠাক দেখালেও কোথাও যেন চাপা অস্বস্তি জমে উঠছিল। গল্পে যে বড় কোনও মোড় আসতে চলেছে আর এটা যে ঝড়ের আগে শান্তি, সেটা অনেকেই অনুমান করেছিলেন। হঠাৎ বাবিলের ব্যবহার, মিটিলের সামনে অস্বস্তি মিলিয়ে বিচ্ছেদের প্রবণতা স্পষ্ট ছিল। এই ইঙ্গিতই পরে গিয়ে চরম অশান্তির সৃষ্টি করে! বাবিল জানিয়ে দেয় তার জীবনে অন্য একজন এসেছে।

মেয়েটির কোয়েলের নাম, তার সঙ্গে ঘনিষ্ঠতার কথা সবটাই সে বলে ফেলে এক নিঃশ্বাসে! মিটিলও অভিযোগের পাহাড় না তুলে শুধু জানতে চেয়েছে, তাহলে কি তাদের সম্পর্ক এখানেই শেষ? বাবিল নিজের অবস্থান বোঝাতে গিয়ে যে যুক্তিগুলো দেয়, তাতে তার নিজের সুবিধা আর দ্বিধাই বেশি স্পষ্ট হয়! এই জায়গাতেই বাবিলের দাবি, তাকে ফাঁসানো হয়েছে! সে নাকি মিটিলকে ঠকায়নি! যদিও, এইসব যুক্তি দর্শকদের কাছে খুব একটা গ্রহণযোগ্য হয়ে ওঠেনি।

কারণ রাত কাটানোর কথা আর কোয়েলের গর্ভবতী হওয়ার ইঙ্গিত একসঙ্গে এসে পড়ায় বিশ্বাসের জায়গাটা ভেঙে যায়। অনেকেই মনে করছেন, দায়িত্ব আর সম্মানের প্রশ্নে বাবিল বারবার এড়িয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেছে আর নিজের ভুলকে নৈতিকতার মোড়কে ঢাকতে চেয়েছে। ফলে তার বক্তব্য যতই আত্মপক্ষ সমর্থনের হোক, দর্শকের সহানুভূতি সেদিকে গড়ায়নি! এর ঠিক উল্টো দিকে মিটিলের চরিত্রটা আরও মানবিক হয়ে উঠেছে। এতদিন শক্ত থাকার পর ভেঙে পড়ার মুহূর্তটা অনেকের কাছেই খুব বাস্তব লেগেছে।

সামাজিক মাধ্যমে সেই অনুভূতির প্রতিফলন স্পষ্ট। অনেকে লিখেছেন, মিটিল কখনও নিজের কষ্ট দেখাতে চায়নি বলেই আজ তার কান্নাটা আরও বেশি ছুঁয়ে গেছে। তবে, পর্বের শেষে যে দৃশ্যটা দেখানো হয়েছে সেটাই সবচেয়ে বেশি বিতর্ক তৈরি করেছে! বাবিলকে অচেতন অবস্থায় বিছানায় পড়ে থাকতে দেখা যায়, যা থেকে আ’ত্মঘা’তী চেষ্টার ইঙ্গিত পাচ্ছেন অনেকে! এখানেই দর্শকদের বড় অংশ প্রশ্ন তুলছেন ধারাবাহিকের দৃষ্টিভঙ্গি নিয়ে। আগেও একাধিক চরিত্রের ক্ষেত্রে জীবনের সমস্যার মুখে এমন ইঙ্গিত দেখানো হয়েছে।

আরও পড়ুনঃ “ভুল বোঝাবুঝিতে দূরে সরে গেছে আপন মানুষ, বন্ধুত্বের উপর ভরসা ভেঙেছে, একদিন না একদিন মানুষ নিজের ভুল বুঝতে পারবে!” বৌদি সুস্মিতাকে নিয়ে আবেগঘন স্বীকারোক্তি সায়কের

প্রথমে মিঠিকে না পেয়ে প্লুটো আ’ত্মহ’ত্যা করে। এরপর কমলিনীর বড় ছেলে বুবলাই তার মায়ের দ্বিতীয় বিয়ে না মারতে পেরে আ’ত্মহ’ত্যার চেষ্টা করে, আর এবার বাবিলকে ঘিরে সেই ধারা যেন আবার ফিরে এল! অনেকেই মনে করছেন, গল্পের নাটকীয়তা বাড়াতে গিয়ে এই ধারাবাহিক বারবার এমন বার্তা দিচ্ছে, যেখানে লড়াইয়ের বদলে হার মেনে নেওয়াকেই সামনে আনা হচ্ছ আর সেটাই দর্শকদের ক্ষোভের মূল কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে! কেউ কেউ বলছেন, এই ধারাবাহিক জীবনের সমস্যাগুলোর মুখোমুখি দাঁড়ানোর বদলে চরম সিদ্ধান্তকেই প্রাধান্য দিচ্ছে!

You cannot copy content of this page