“যাজ্ঞসেনীই স্বতন্ত্রর সঙ্গে বেশি মানানসই…কমলিনীর থেকে ১০০০ গুণে ভালো, ন্যা’কা নয় স্পষ্টবাদী!” কমলিনীকে নিরাপত্তাহীনতায় ভোগাতে যথেষ্ট সে, দাবি একাংশ দর্শকের! ‘চিরসখা’য় তৃতীয় ব্যক্তির আগমনে বদলাচ্ছে সমীকরণ! আপনাদের কি মত?

স্টার জলসার ধারাবাহিক ‘চিরসখা’র (Chiroshokha) সাম্প্রতিক মোড় ঘিরে দর্শকদের মধ্যে যে আলোচনা শুরু হয়েছে, তা বেশ তাৎপর্যপূর্ণ। ধারাবাহিকের শুরুটা যেখানে হয়েছিল জীবনের মধ্যাবস্থায় এসে দুই বন্ধু কমলিনী আর স্বতন্ত্রর একসঙ্গে পথচলার গল্প দিয়ে। ঝড়-ঝাপটা এলে তারা পাশাপাশি দাঁড়িয়ে লড়েছে, সমাজের কটূক্তিকেও গুরুত্ব দেয়নি। সেই জায়গা থেকেই দর্শক এই সম্পর্কটাকে খুব কাছের বলে মনে করতেন। কিন্তু সাম্প্রতিক পর্বে যে ইঙ্গিত মিলেছে, তাতে অনেকের মনে প্রশ্ন জেগেছে, তাদের সম্পর্ক কি সত্যিই আগের মতো দৃঢ় আছে?

প্রসঙ্গত, সাম্প্রতিক প্রোমোতেও দেখা গেছে, স্বতন্ত্র আর যাজ্ঞসেনী গভীর আলোচনায় মগ্ন। কথোপকথনের ভঙ্গি, স্বতন্ত্রর উচ্ছ্বাস মিলিয়ে দৃশ্যটা বেশ অস্বস্তিকর হয়ে ওঠে যখন দরজার বাইরে দাঁড়িয়ে সবটা দেখে ফেলে কমলিনী! বিশেষ করে স্বতন্ত্রর মন্তব্য, যে অনেকদিন পর এমন কারও সঙ্গে কথা বলা, যার সঙ্গে তার বুদ্ধিবৃত্তিক মিল রয়েছে। এই সংলাপটাই দর্শকদের কানে বেশি বাজছে। যাজ্ঞসেনীর হাত ধরা, কাঁধে হাত রাখার মুহূর্তগুলোও গল্পে এক নতুন সমীকরণের ইঙ্গিত দিচ্ছে।

তবে, চমকটা অন্য জায়গায়! অনেক দর্শকই সরাসরি বলছেন, যাজ্ঞসেনী চরিত্রটি তাঁদের ভালো লেগেছে। কেউ লিখেছেন, “মেয়েটি স্পষ্টবাদী এবং আত্মবিশ্বাসী, অকারণ ন্যাকামি নেই।” কমলিনী ও স্বতন্ত্রর প্রেমের গল্প যতই পুরোনো হোক, যাজ্ঞসেনীর উপস্থিতি নাকি অনেক বেশি স্বাভাবিক ও মানানসই লাগছে। এমনও মত এসেছে, “স্বতন্ত্রর সঙ্গে যদি কমলিনীর বিয়ে না হত, তাহলে যাজ্ঞসেনীকেই পাশে দেখতে আপত্তি থাকত না।” যদিও অধিকাংশই পরিষ্কার করে দিয়েছেন, তারা পর’কীয়া সমর্থন করছেন না।

কিন্তু চরিত্র হিসেবে যাজ্ঞসেনী এখন অনেক বেশি আকর্ষণীয় মনে হচ্ছে। আসলে এতদিন স্বতন্ত্রর জীবনে যেসব তৃতীয় ব্যক্তির আগমন ঘটেছিল, তা সে পুরোহিতের মেয়ে হোক বা অনন্যার বোন ‘ডল’, তাদের তুলনায় যাজ্ঞসেনীকে অনেক বেশি পরিণত ও ভারসাম্যপূর্ণ মনে করছেন অনেকে। সে সরাসরি কথা বলেন, নিজেকে প্রতিষ্ঠা করার চেষ্টা করেন না, বরং আলোচনায় সমান অংশীদার হয়ে ওঠে। এই জায়গাটাই দর্শকদের নজর কাড়ছে। কমলিনীর মধ্যে যেখানে নিরাপত্তাহীনতার ছাপ দেখা যাচ্ছে।

আরও পড়ুনঃ প্রাক্তনের সুখ মেনে নিতে পারেননি নায়িকা! প্রেম ভাঙতেই নায়কের বাড়িতে ভয় ধরানো পরিবেশ, নতুন সম্পর্কে জড়াতেই শুরু ‘ভৌতিক’ সব কাণ্ড! নায়িকার মন্ত্র-তন্ত্রের গুঞ্জনে তোলপাড় ইন্ডাস্ট্রি!

সেখানে যাজ্ঞসেনীর আত্মবিশ্বাস যেন আলাদা করে চোখে পড়ছে। তবে, ধারাবাহিকের নিয়ম অনুযায়ী গল্পের মোড় যেকোনও সময় ঘুরতে পারে। আজ যে চরিত্রকে স্নিগ্ধ ও গ্রহণযোগ্য মনে হচ্ছে, কাল তাকে হয়তো নেতিবাচক রূপে দেখানো হবে! তবুও এই মুহূর্তে দর্শকদের একাংশের স্পষ্ট মত, স্বতন্ত্রর সঙ্গে মানসিক মিলের জায়গায় যাজ্ঞসেনী এগিয়ে। আর সেই কারণেই ‘চিরসখা’ নিয়ে সামাজিক মাধ্যমে শুরু হয়েছে নতুন বিতর্ক। আপনাদের মতেও কি যাজ্ঞসেনীই উপযুক্ত হত নতুনের?

You cannot copy content of this page