২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনকে ঘিরে রাজ্যের রাজনৈতিক মহলে ইতিমধ্যেই শুরু হয়েছে জোর প্রস্তুতি। রাজনৈতিক দলগুলিও ধীরে ধীরে সাজিয়ে নিচ্ছে সম্ভাব্য প্রার্থীদের তালিকা। সেই তালিকায় আবারও ভেসে উঠছে টলিপাড়ার কয়েকজন জনপ্রিয় তারকার নাম। তাঁদের মধ্যেই অন্যতম অভিনেত্রী রণিতা দাস। টেলিভিশনের পরিচিত মুখ হিসেবে বহুদিন ধরেই দর্শকদের কাছে তিনি জনপ্রিয়। তাই স্বাভাবিকভাবেই তাঁর রাজনীতিতে যোগ দেওয়ার সম্ভাবনা ঘিরে তৈরি হয়েছে নানা জল্পনা। টলিপাড়ার অন্দরে কানাঘুষো চলছে, আগামী বিধানসভা নির্বাচনে হয়তো তাঁকে দেখা যেতে পারে প্রার্থী হিসেবেও।
এমন জল্পনা অবশ্য নতুন নয়। ২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনের সময়ও একই ধরনের আলোচনা শোনা গিয়েছিল অভিনেত্রীকে ঘিরে। সেই সময় সম্ভাব্য তারকা প্রার্থীদের সঙ্গে তাঁকেও বিশেষ প্রশিক্ষণে অংশ নিতে দেখা গিয়েছিল বলে জানা যায়। তৃণমূল ভবনে সেই প্রশিক্ষণ শিবিরে রাজ চক্রবর্তী, সুদেষ্ণা রায়, সৌরভ দাসের মতো আরও কয়েকজন পরিচিত মুখ উপস্থিত ছিলেন। সেখানে রাজনৈতিক প্রচার কীভাবে করতে হয়, জনসভায় কীভাবে বক্তব্য রাখতে হয় কিংবা সামাজিক মাধ্যমে ছড়ানো ভুয়ো ভিডিও কীভাবে চিহ্নিত করতে হয়, সেই সব বিষয়ে হাতে কলমে প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছিল। সেই সময় অনেকেই মনে করেছিলেন রণিতার নাম প্রার্থী তালিকায় দেখা যেতে পারে।
তবে শেষ পর্যন্ত ২০২১ সালের নির্বাচনে প্রার্থী তালিকায় জায়গা হয়নি তাঁর। ফলে সেই সময়ের জল্পনা সেখানেই থেমে যায়। কিন্তু পাঁচ বছর পর আবারও নতুন করে শুরু হয়েছে একই আলোচনা। রাজনৈতিক মহলের একাংশের মতে, এবার নাকি নতুন করে প্রস্তুতি নিতে শুরু করেছেন রণিতা। যদিও বিষয়টি নিয়ে নিশ্চিত করে কিছুই বলা যাচ্ছে না। এই প্রসঙ্গে একটি সংবাদমাধ্যমের তরফে সরাসরি যোগাযোগ করা হলে অভিনেত্রী নিজেই সমস্ত জল্পনাকে আপাতত নস্যাৎ করেছেন। তাঁর কথায়, এখনও পর্যন্ত এই বিষয়ে কোনও আনুষ্ঠানিক খবর তিনি পাননি এবং কোথাও থেকে তাঁকে ডাকা হয়নি।
এই মুহূর্তে রণিতা দাসকে দর্শক দেখছেন স্টার জলসার জনপ্রিয় ধারাবাহিক ও মোর দরদিয়ায়। সেখানে বাণী চরিত্রে তাঁর অভিনয় আবারও দর্শকদের মন জয় করেছে। দীর্ঘদিন পর ছোটপর্দায় ফিরে তিনি নতুন করে জনপ্রিয়তা অর্জন করেছেন। ধারাবাহিকটিও টিআরপি তালিকায় ভালো ফল করছে। ফলে অনেকেই মনে করছেন, এই জনপ্রিয়তাকেই হয়তো ভবিষ্যতে রাজনৈতিক ময়দানে কাজে লাগানো হতে পারে। যদিও অভিনেত্রী নিজে এই সম্ভাবনার কথা স্পষ্ট করে কিছু বলতে চাননি এবং সবটাই আপাতত গুজব বলেই উল্লেখ করেছেন।
আরও পড়ুনঃ “সুস্মিতের এখনও প্রেমের…” দোলের রঙিন মুহূর্তে কি বন্ধুত্বের আড়ালে নিজেদের সম্পর্কের কথা ফাঁস করলেন ‘গৃহপ্রবেশ’-এর উষসী ও সুস্মিত? ধারাবাহিক শেষ, এবার কি বাস্তবেই জুটি হতে চলেছেন? আবার কবে একসঙ্গে দেখা যাবে, কী জানালেন দু’জন?
তবে সাম্প্রতিক সময়ে রাজনীতিতে তারকাদের যোগদানের প্রবণতা নতুন কিছু নয়। বিভিন্ন রাজনৈতিক দলই জনপ্রিয় মুখদের প্রার্থী করে ভোটের লড়াইয়ে নামাতে আগ্রহী। কিছুদিন আগেই মুখ্যমন্ত্রীর সভায় টলিউডের একাধিক তারকাকে উপস্থিত থাকতে দেখা গিয়েছে। আবার কোয়েল মল্লিকের রাজনীতিতে যোগ দেওয়ার খবর প্রকাশ্যে আসার পরও চমকে উঠেছিলেন অনেকেই। ফলে রণিতা দাসের ক্ষেত্রেও ভবিষ্যতে এমন কোনও ঘোষণা সামনে আসবে কি না, তা নিয়ে কৌতূহল থাকছেই। এখন দেখার, আগামী দিনে এই জল্পনা আদৌ বাস্তবে পরিণত হয় কি না।






