প্রযুক্তি উন্নত হচ্ছে প্রতিদিন আর এই যুগে জনপ্রিয়তা যেমন রাতারাতি শিরোনামে এনে দেয়, ঠিক তেমনই সমালোচনাও একসঙ্গেই আসে। যাঁদের প্রতিদিনের জীবন দর্শকদের সঙ্গে ভাগ করে নেওয়ার অভ্যাস রয়েছে, তাঁদের ক্ষেত্রে এই দুই প্রতিক্রিয়াই আরও তীব্রভাবে সামনে আসে। এবার ঠিক এমনই এক পরিস্থিতির মুখোমুখি হলেন ‘প্রবাসে ঘরকন্না’ (Probase Ghorkonna) খ্যাত ভ্লগার ‘মহুয়া গঙ্গোপাধ্যায়’ (Mahua Ganguly)। সম্প্রতি তাঁর ব্যক্তিগত জীবনের একটি অত্যন্ত সংবেদনশীল মুহূর্তকে ক্যামেরাবন্দি করার সিদ্ধান্ত ঘিরে সমাজ মাধ্যমে শুরু হয়েছে তীব্র বিতর্ক!
প্রসঙ্গত, শাশুড়ির মৃ’ত্যুর খবর জানতে পেরে দেশে এসেছেন তিনি। দেহ আনা থেকে শেষকৃত্য পর্যন্ত, সেই পুরো সময়টার বিভিন্ন মুহূর্ত তিনি নিজের ভ্লগে তুলে ধরেছেন। শুধু তাই নয়, ‘চুল্লিকে কেক ওভেনের সঙ্গে তুলনা’ থেকে শুরু করে ‘স্মৃতির পাতায় যুক্ত হওয়া দুটি পাতা’ বলে অভিহিত করার কারণেই একাংশের সমালোচনার মুখে পড়তে হয়েছে তাঁকে। যারা চেনেন না, তাদের জানিয়ে রাখা ভালো যে মহুয়া দীর্ঘদিন ধরেই নিজের জীবনের নানান মুহূর্ত দর্শকদের সঙ্গে ভাগ করে নেন। সুখের ভ্রমণ, পরিবারের ছোট ছোট আনন্দ, কঠিন সময় সবকিছুই তাঁর ভ্লগের অংশ হয়ে ওঠে।
তাঁর মতে, যাঁরা নিয়মিত তাঁর ভিডিও দেখেন, তাঁরা যেন এক ধরনের বড় পরিবারের মতো। তাই জীবনের ভালো সময় যেমন তিনি লুকিয়ে রাখেন না, তেমনই কঠিন সময়ও আড়াল করতে চান না। এই ভাবনা থেকেই শাশুড়ির মৃ’ত্যুর পরের দিনগুলোর কিছু দৃশ্যও তিনি ক্যামেরায় বন্দী করেন। হাসপাতাল থেকে ম’রদে’হ বাড়িতে আনা, শেষকৃ’ত্যের প্রস্তুতি কিংবা শ্ম’শানে যাওয়ার মতো ঘটনাগুলিও সেই ভিডিওর অংশ হয়ে ওঠে। তবে, এই সিদ্ধান্ত অনেক দর্শকের কাছে গ্রহণযোগ্য হয়নি।
সামাজিক মাধ্যমে নানান পেজ এবং কমেন্টে শুরু হয়েছে তীব্র সমালোচনা। অনেকেই প্রশ্ন তুলেছেন, এত ব্যক্তিগত এবং সংবেদনশীল মুহূর্ত কি আদৌ ক্যামেরায় তোলা উচিত ছিল? কেউ কেউ আরও কড়া ভাষায় মন্তব্য করে বলেছেন, সামান্য জনপ্রিয়তা বা অর্থের জন্য এমন কাজ করা ঠিক নয়। বিশেষ করে ভিডিওতে ব্যবহৃত ব্যাকগ্রাউন্ড মিউজিক বা কিছু লেখাকে কেন্দ্র করেও সমালোচনা হয়েছে। অনেকে মনে করেছেন, শোকের মুহূর্তে এ ধরনের উপস্থাপনা অপ্রয়োজনীয়।
অন্যদিকে মহুয়ার বক্তব্য ভিন্ন। তাঁর দাবি, এই ভিডিও বানানোর সিদ্ধান্ত তিনি একা নেননি। পরিবারের বড়দের পরামর্শেই সেই মুহূর্তগুলো রেকর্ড করে রাখার কথা ওঠে। তাঁদের মতে, ভবিষ্যতে হয়তো পরিবারের সদস্যরা সেই ভিডিও দেখলে স্মৃতির কিছু অংশ ফিরে পাবেন। মহুয়া আরও স্পষ্ট করেছেন, এই ভিডিওর মাধ্যমে কোনও আর্থিক লাভ করার ইচ্ছে তাঁর নেই। তাই তিনি ভিডিওটির মনিটাইজেশন বন্ধ রাখার কথাও জানান। ফেসবুকে সেই সুবিধা না থাকায় সেখানে ভিডিওটি আপলোড না করার কথাও উল্লেখ করেন তিনি।
আরও পড়ুনঃ “জীবনের নতুন অধ্যায় শুরু করলাম, মানুষের অনেক সেবা করতে চাই” রাজ্যসভার মনোনয়ন জমা দিয়েই বললেন কোয়েল মল্লিক! রাজনীতিতে আসা কি সত্যিই হঠাৎ সিদ্ধান্ত, নাকি আগে থেকেই ছিল পরিকল্পনা? টলিউডের জনপ্রিয়তা কি রাজনীতির ময়দানে কাজে লাগবে?
তবুও বিতর্ক থামেনি! কেউ কেউ মনে করছেন, ব্যক্তিগত শোকের মুহূর্তকে প্রকাশ্যে আনা উচিত নয়, আবার অন্য একাংশ বলছেন, একজন ভ্লগারের কাছে জীবনের প্রতিটি দিকই গল্পের অংশ হয়ে ওঠে। এই দ্বন্দ্বই যেন স্পষ্টভাবে ফুটে উঠেছে মহুয়ার ঘটনায়। ব্যক্তিগত জীবন আর প্রকাশ্য জীবনের সীমারেখা যে ক্রমেই ঝাপসা হয়ে যাচ্ছে, এই ঘটনাটি যেন সেই বাস্তবতাকেই আবার সামনে এনে দিল। মহুয়ার সিদ্ধান্ত ঠিক না ভুল? তা নিয়ে মতভেদ থাকতেই পারে, কিন্তু এই বিতর্ক দেখিয়ে দিল যে ডিজিটাল যুগে প্রতিটি পদক্ষেপ কত দ্রুত আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে পৌঁছে যেতে পারে।






