জনপ্রিয় সঙ্গীতশিল্পী ‘দেবলীনা নন্দী’র (Debolina Nandi) সাম্প্রতিক অসুস্থতার ছবি সামনে আসতেই যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে, তার সূত্র খুঁজলে পৌঁছে যেতে হয় তাঁর নিজের কথাতেই। হাসপাতালে শুয়ে থাকা, শারীরিকভাবে ভেঙে পড়া এই গায়িকার আগের রাতের ফেসবুক লাইভ যেন অনেক অজানা কষ্টের দরজা খুলে দেন! কারও নাম না করেও তিনি বোঝান, সংসার টিকিয়ে রাখার চাপে কীভাবে নিজের অস্তিত্ব বারবার কোণঠাসা হয়েছে। বিশেষ করে মাকে ঘিরে যে মানসিক টান, তা ছিঁড়ে ফেলতে বলা হয়েছে, এই দাবি তাঁর কথায় স্পষ্ট ইঙ্গিত দেয় দীর্ঘদিনের মানসিক চাপের।
সবসময় হাসিখুশি থাকার চেষ্টা, কাজ আর সংসারের ভারসাম্য বজায় রাখার লড়াইয়ের মাঝেই যে ক্লান্তি জমছিল, তা তাঁর স্বীকারোক্তিতে ধরা পড়ে। তাই হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়ার ঘটনাকে অনেকেই শুধু শারীরিক বিপর্যয় নয়, মানসিক অবসাদের ফল হিসেবেও দেখছেন। অন্যদিকে, দেবলীনার দাম্পত্য জীবন নিয়ে পুরনো ভিডিও ও অভিজ্ঞতার কথা নতুন করে আলোচনায় এসেছে। ২০২৪ সালে প্রবাহ নন্দীর সঙ্গে বিয়ের পর বাইরে থেকে সম্পর্ক স্বাভাবিক মনে হলেও, নিয়মিত কনটেন্টে কখনও কখনও অস্বস্তির ছায়া চোখে পড়েছিল বলে দাবি দর্শকদের একাংশের।
কাজের পর উপহার নিয়েও প্রত্যাশিত উষ্ণতা না পাওয়া, চুল কাটার মতো ব্যক্তিগত সিদ্ধান্তে ঠান্ডা বা নেতিবাচক প্রতিক্রিয়া, এইসব ছোট ছোট ঘটনাই আজ বড় ছবির অংশ হয়ে উঠছে। বন্ধুদের সঙ্গে মেলামেশা বা নিজের ব্যান্ড গড়ার স্বপ্ন নিয়েও আপত্তির অভিযোগ সামনে এসেছে। এসব মিলিয়ে অনেকেই বলছেন, দেবলীনা যেন দীর্ঘদিন অবহেলা আর নিয়ন্ত্রণের অনুভূতির মধ্যেই ছিলেন। এবার সবকিছু আরও পরিষ্কার হয়ে গেল, বড়দিন উপলক্ষে দেবলীনার পোস্ট করা একটি ভিডিও থেকে! সেখানে দেখা যায়, লাল রঙের পোশাকে দুজনে রঙমিলন্তি সেজে গাড়িতে করে কোথাও একটা যাচ্ছেন।
ভিডিওর শুরুতেই যখন ক্যামেরা অন করে দেবলীনা প্রবাহকে জানতে চায় যে কোথায় যাওয়া হচ্ছে? তখন কিছুটা বিরক্ত হয়ে সে উত্তর দেয়, “যেখানে মাথা খাওয়ার হাত থেকে বাঁচা যায়।” এরপরেও কয়েকবার জিজ্ঞেস করে দেবলীনা, অবশেষে অনিহা থাকা সত্ত্বেও প্রবাহ বলতে বাধ্য হয় সেই জায়গার নাম। তারপর দেবলীনা বলেন যে, বিয়ের পর কোনদিনও রঙ মিলান্তি পোশাক সে পরতে পারেনি। তাই আগের রাতে অনেক শখ করে লাল রঙের একই রকম জামা কিনেছেন স্বামীর মতো। প্রবাহের প্রতিক্রিয়া ছিল সেই বরাবরের মতোই ঠান্ডা।
তখন দেবলীনা বলতে বাধ্য হন যে, “এটাকে বলে ফেলতেও পারছে না, আবার গিলতেও পারছে না অবস্থা!” স্বামীর যে বেশকিছুদিন ধরে একটু চাপ চলছে কাজ নিয়ে, সেই কথাও তিনি বলেন। আরও জানান, সারাদিন পড়াশোনার মধ্যেই থাকতে হচ্ছে প্রবাহকে। তাঁরা খেয়ে ফেরার পরেও বাড়িতে গিয়ে পড়তে বসবে প্রবাহ। এর উত্তরে প্রবাহ জানায়, “শান্তিতে পড়তে পারব!” এইবার কিছুটা ধৈর্যের বাঁধ ভাঙ্গে দেবলীনার এবং তিনি বলেন, “আগে বলবে তো! তাহলে আমি আজকে বা এখনই চলে যেতাম এশাদের বাড়ি, তোমায় শান্তি দিয়ে।”
‘আরও পড়ুনঃ দিদি ভালো থাকলেই আমরা সকলে ভালো থাকতে পারি’, ‘দিদির মনের সব ইচ্ছে পূরণ হোক!’ মুখ্যমন্ত্রীর জন্মদিনে আবেগে ভাসলেন সৌমিতৃষা, তিয়াসা!
এর উত্তরে ফের প্রবাহ বলে, “যেতে হবে না বন্ধুর বাড়ি! আমি কন্ট্রোলিং হাসব্যান্ড হতে চাই…আমি বাড়িতে পড়ব আর তুমি বাইরে যাবে!” এরপর দেবলীনা জানায়, তাঁর এশা নামক বন্ধুর বাড়িতে বড়দিনের পার্টির নিমন্ত্রণ এসেছে এবং সেখানে শুধু মেয়েরাই থাকবে। প্রবাহ কিছুটা বিরক্ত হয়ে আবার বলে, “পার্টি না, কু-বুদ্ধি আদান প্রদান! স্বামীদের সমালোচনা করবে তোমার!” সব মিলিয়ে, তাঁর অসুস্থতার খবরে তাই সহানুভূতির পাশাপাশি প্রশ্নও উঠছে, একটি সম্পর্কের ভেতরে জমে থাকা নীরব কষ্ট কতটা গভীর হলে এমন ভাঙন আসে। এখন দেবলিনার লড়াই শুধু সুস্থ হয়ে ওঠার নয়, নিজের সম্মান আর স্বস্তির জায়গা ফিরে পাওয়ারও।






