“সব ঠিক হওয়ার আশাতেই মানিয়ে নিই…কমবেশি আমরা প্রত্যেকেই একা, মা-হারা প্রাণের জীবনটা কি ভীষণ কষ্টের!” ব্যস্ত জীবনে খোঁজ নিতে ভয় পাই, একটু পাশে দাঁড়াতে পারি না? বিতর্কের পর ফিরে, ভাইরাল হনুমান শাবক ‘পাঞ্চ’কে ঘিরে মানবিক বার্তা সায়কের!

মাস কয়েক আগেও যে মানুষটাকে নিয়ে নেটমাধ্যম সরগরম থাকত, তাঁকে হঠাৎ করেই যেন অন্যরকম লাগছিল। মাঝখানে বিতর্ক, ভুল বোঝাবুঝি আর লাগাতার সমালোচনা তাঁকে খানিক থামতে বাধ্য করেছিল, এমনটাই মনে করেছিলেন অনেকেই। তবে সেই নীরবতা এখন আর নেই। ধীরে ধীরে আবার ক্যামেরা অন হচ্ছে, গল্প ফিরে আসছে আর ‘সায়ক চক্রবর্তী’ (Sayak Chakraborty) নিজের চেনা ছন্দেই নিয়মিত ভ্লগ করছেন। আগের তুলনায় হয়তো একটু সংযত, একটু বেশি ভেবেচিন্তে কিন্তু থেমে নেই।

বরং মনে হচ্ছে, অতীতের অভিজ্ঞতাকে সঙ্গে নিয়েই তিনি এগোতে চাইছেন সামনে। এই ফেরার পথটা খুব ঢাকঢোল পিটিয়ে নয়। বরং ছোট ছোট ইঙ্গিতেই বোঝা যাচ্ছিল, তিনি পুরোপুরি সরে যাননি। প্রকৃতির ছবি, এক-আধটু ব্যক্তিগত মুহূর্ত আর তারপর হঠাৎই আবার ক্যামেরার সামনে ফেরা। সাম্প্রতিক ভিডিওগুলোতে সেই পুরোনো সহজ ভঙ্গিই আছে, তবে কথার মধ্যে এসেছে অন্যরকম গভীরতা। যেন নিজের ভেতরটা একটু ঝালিয়ে নিয়ে তবেই দর্শকদের সামনে দাঁড়িয়েছেন। দর্শকরাও সেটা টের পাচ্ছেন। কমেন্ট বক্সে আগের মতোই ভিড়, তবে সুরটা এখন অনেক নরম।

এই সময়েই বিশ্বজুড়ে আলোচনায় উঠে আসে জাপানের এক ছোট্ট প্রাণ। ইচিকাওয়া সিটি চিড়িয়াখানায় (Ichikawa City Zoo)-তে জন্ম নেওয়া জাপানি মাকাক প্রজাতির এক হনুমান শাবক ‘পাঞ্চি-কুন’ সবার মন ছুঁয়ে গেছে, আদর করে সবাই তাকে নাম দিয়েছে ‘পাঞ্চ’। জন্মের পর মায়ের সঙ্গ না পাওয়া সেই শাবকটি একটি ওরাঙ্গুটান খেলনাকে আঁকড়ে ধরে থাকে নিরাপত্তা আর স্নেহের খোঁজে। ভাইরাল হওয়া ভিডিওগুলোতে দেখা যায়, খেলনাটাকেই যেন সে মা ভেবে জড়িয়ে ধরছে, তার কোলে মাথা রেখে ঘুমিয়ে পড়ছে। প্রাণ নেই, উষ্ণতা নেই, তবু সেটুকুই তার ভরসা।

এই দৃশ্য অনেকের মতো সায়ককেও নাড়া দিয়েছে। নিজের সামাজিক মাধ্যমে তিনি লেখেন, আমাদের চারপাশে একাকিত্ব খুব চেনা এক সত্যি। প্রিয় মানুষ দূরে চলে গেলে বা হঠাৎ হারিয়ে গেলে মানুষ ভেতর থেকে ফাঁকা হয়ে যায়। ব্যস্ত জীবনে আমরা অনেক সময় খোঁজ নিতে কুণ্ঠাবোধ করি, যদি অপ্রস্তুত প্রশ্ন আসে! তবু আমরা মানিয়ে নিই, পরিবারের কথা ভেবে, ভবিষ্যতের কথা ভেবে। কিন্তু একটা খুদে প্রাণ যদি জন্মের পর থেকেই একা হয়ে যায়? মা থেকেও না থাকার মতো অবস্থায় বড় হতে হয় তাকে? সেই শাবকের মতো কত প্রাণ তো আশপাশেই আছে।

আরও পড়ুনঃ “শুরুতে ভোর চরিত্রটাকে ভালো মনে হয়েছিল…স্বতন্ত্রকে ঘিরে মহিলাদের পাগলামিটা এবার বাড়াবাড়ি হচ্ছে! “ঘরও ঠিক চাই, আবার বাইরেরটাও…এতই বোকা যে ভোরের নাটক বুঝতে পারছে না?” ‘চিরসখা’ নিয়ে দর্শকদের ক্ষোভ, আবার কমলিনী-স্বতন্ত্রের বোঝাপড়া প্রশ্নবিদ্ধ!

কেউ সদ্য স্বজনহারা, কেউ বা একেবারেই অবহেলায় ফেলে দেওয়া। তাদের পাশে দাঁড়ানো কি খুব কঠিন? সায়কের এই পোস্ট অনেকের চোখে জল এনেছে, আবার অনেককে ভাবতেও বাধ্য করেছে। শুধু সহানুভূতির কথা নয়, তিনি প্রশ্ন তুলেছেন আমরা কি সত্যিই একটু সময় বের করে কারও খোঁজ নিতে পারি না? মা-হারা বা অবহেলিত কোনও শিশুকে, মানুষ হোক বা প্রাণী, সামান্য সাহায্য করতে পারি না? বিতর্কের পর নিজের মতো করে ফিরে এসে, এমন সংবেদনশীল বিষয় নিয়ে কথা বলায় অনেকেই তাঁর বদল লক্ষ্য করছেন। হয়তো এটাই তাঁর নতুন অধ্যায়। যেখানে ভ্লগ থাকবে, গল্প থাকবে, কিন্তু তার সঙ্গে থাকবে আরও একটু দায়িত্ববোধ, আরও একটু মানবিক দৃষ্টি।

You cannot copy content of this page