অপহ’রণের রাত রেখে গেল গভীর ক্ষত! মিঠিকে ‘স্ত্রীরোগ বিশেষজ্ঞ’র কাছে নিয়ে যাবে কমলিনী! আরও সংবেদনশীল মোড়ে ‘চিরসখা’, নতুন প্রোমো দেখেই অস্বস্তি চরমে! পারিবারিক বিনোদন সংজ্ঞার আদৌ পরিপন্থী এই ধারাবাহিক? প্রশ্ন তুলছেন দর্শকরা

স্টার জলসার ‘চিরসখা’ (Chiroshokha) ধারাবাহিক শুরুতেই যে অন্যরকম গল্প এবং সামাজিক বার্তা নিয়ে দর্শকদের কাছে পৌঁছেছিল, এখন সেই জায়গা থেকে সরে অস্বস্তিকর এক পরিণতির দিকে এগোচ্ছে। অন্তত এমনটাই মনে করছেন বহু নিয়মিত দর্শক। সম্প্রতি মিঠি এবং কৃশানুর সম্পর্কের স্বাভাবিক গতি, পারিবারিক মুহূর্তগুলো ধারাবাহিকটাকে আলাদা করে তুলছিল। কিন্তু হঠাৎ গল্পে এমন মোড় যোগ হয়েছে, যা দিনের শেষে একটু শান্তি খুঁজতে বসা দর্শকদের অস্বস্তিতে ফেলছে! বিশেষ করে সাম্প্রতিক ট্র্যাকে ডাকাতদের হাতে মিঠির অপহরণ যেন উৎকণ্ঠা আর সন্দেহ বেশি বাড়িয়ে দিচ্ছে।

এই পর্বের অস্বস্তির রেশ কাটতে না কাটতেই সম্প্রতি প্রকাশিত নতুন প্রোমো দর্শকদের মধ্যে আরও প্রশ্ন তুলে দিয়েছে। সেখানে ইঙ্গিত মিলছে, অপহরণের সেই রাত মিঠির জীবনে শুধু মানসিক নয়, শারীরিকভাবেও গভীর প্রভাব ফেলেছে! মায়ের চোখে ধরা পড়ছে অজানা আশঙ্কা আর সেই কারণেই ‘স্ত্রীরোগ বিশেষজ্ঞ’র কাছে যাওয়ার প্রসঙ্গ উঠে আসছে। কমলিনীর অসহায় ভঙ্গি আর স্বতন্ত্রর বিস্মিত প্রতিক্রিয়া বুঝিয়ে দিচ্ছে, গল্প এবার আরও সংবেদনশীল দিকে এগোতে চলেছে।

এই ইঙ্গিতগুলোই দর্শকের কাছে ভারী লাগছে, কারণ এখানে সরাসরি কিছু না দেখালেও ভাবনার জায়গাটা খুব অন্ধকার। মিঠির চরিত্রটাও এই প্রোমোতে আরও ভেঙে পড়া এক মানুষ হিসেবে ধরা দিচ্ছে। নিজের সঙ্গে কেন এমন হলো, এই প্রশ্নটা তার চোখেমুখে স্পষ্ট। আগে যে মিঠিকে আত্মবিশ্বাসী ও সরলভাবে লড়াই করতে দেখা যেত, এখন সে যেন নিজের মধ্যেই গুটিয়ে যাচ্ছে। অনেকেই মনে করছেন, নারী চরিত্রকে বারবার এইভাবে অসহায় পরিস্থিতিতে ফেলে গল্প এগিয়ে নেওয়াটা কি আদৌ প্রয়োজন?

এমন বিষন্নতার ইঙ্গিতে গল্প ঘোরানো হলে চরিত্রের সম্মান আর শক্তি কোথায় থাকে, সেই প্রশ্নও উঠছে। দর্শকদের বড় অভিযোগের জায়গা, এই ধরনের ট্র্যাক পারিবারিক ধারাবাহিকের স্বাভাবিক পরিসরের বাইরে চলে যাচ্ছে! অনেক মানুষ অফিস বা দৈনন্দিন ব্যস্ততার পর পরিবারের সঙ্গে বসে টিভি দেখেন একটু হালকা মন করার জন্য। সেখানে অপ’হরণ, মানসিক আঘাত বা শ্লী’লতাহা’নির মতো বিষয়কে বারবার তুলে আনাটা যেন অত্যধিক বাড়াবাড়ি হয়ে যাচ্ছে। বিশেষ করে পরিবারের সবাই মিলে দেখার ক্ষেত্রে এই দৃশ্যগুলো অস্বাভাবিক লাগছে।

আরও পড়ুনঃ ‘সন্তানদের ছোটখাটো সমস্যায় অভিভাবকদের হস্তক্ষেপ সুস্থ মানসিকতার পথে বাধা, সমাজকে আরও দুর্বল করছে!’ সব বিষয়ে বড়দের নাক গলানোতেই হারিয়ে যাচ্ছে ছোটদের আত্মনির্ভরতা, উদ্বিগ্ন মমতা শঙ্কর!

এমনটাই অনেকে বলছেন। গল্পটা যখন সামাজিক বার্তা নিয়ে তৈরি, তখন এসব বিষয় উঠে আসবে সেটাই স্বাভাবিক। কিন্তু অতিরিক্ত মাত্রায় এমন কিছু সংবেদনশীল বিষয় বারবার উঠে আসলে, তা আর পারিবারিক বিনোদনের সংজ্ঞার মধ্যে পড়ে না। সব মিলিয়ে ‘চিরসখা’র নতুন প্রোমো স্পষ্ট করে দিচ্ছে, নির্মাতারা আরও গভীর ও সংবেদনশীল বিষয় ছুঁতে চাইছেন। তবে প্রশ্ন একটাই, সেগুলো কতটা দায়িত্ব নিয়ে দেখানো হবে? যদিও দর্শকরা এখনও আশা করছেন, ধারাবাহিকটি আবার মানবিকতার গল্পে ফিরবে। যেখানে অন্ধকারের চেয়ে আলো বেশি থাকবে।

You cannot copy content of this page