বাংলা টেলিভিশনের পরিচিত মুখ সুভদ্রা মুখোপাধ্যায়। দীর্ঘদিন ধরে ছোটপর্দায় মা, কাকিমা বা শাশুড়ির চরিত্রে শক্তিশালী অভিনয়ের জন্য দর্শকদের কাছে আলাদা জায়গা তৈরি করেছেন তিনি। তবে গত কয়েক বছর তার ব্যক্তিগত জীবনে এসেছে বড় পরিবর্তন। ২০২৪ সালের অক্টোবর মাসে মহালয়ার ভোরে স্বামী ফিরোজের আকস্মিক মৃত্যু তাকে ভেঙে দেয় ভেতর থেকে। সেই শোক সামলাতে কিছুদিন অভিনয় থেকে দূরে ছিলেন অভিনেত্রী। কিন্তু সময়ের সঙ্গে নিজেকে আবার গুছিয়ে নিয়ে তিনি ফিরেছেন কাজের জগতে।
দীর্ঘ বিরতির পর ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বর নাগাদ আবারও ক্যামেরার সামনে দাঁড়ান সুভদ্রা। বর্তমানে জনপ্রিয় ধারাবাহিক ‘দাদামণি’-তে অভিনয় করছেন। অভিনয় থেকে বিরতিতে থাকলেও পুরোপুরি কাজ থামাননি তিনি। সেই সময় একটি চলচ্চিত্রের কাজও শেষ করেছিলেন। তবে তার জীবনের এই নতুন অধ্যায়ে অভিনয়ের পাশাপাশি আরেকটি বিষয় নিয়ে সম্প্রতি আলোচনায় এসেছেন তিনি—ধর্ম নিয়ে তার ব্যক্তিগত বিশ্বাস।
এক সাম্প্রতিক সাক্ষাৎকারে সুভদ্রা মুখোপাধ্যায় খোলামেলা ভাবে জানান, তিনি একসঙ্গে একাধিক ধর্মীয় আচার পালন করেন। অভিনেত্রীর কথায়, তিনি শিবকে ভীষণ ভালোবাসেন, তাই নিয়ম করে শিবের উপোস করেন। আবার মুসলিম ধর্মের রোজাও রাখেন। কখনও কখনও মঙ্গলবার বগলামুখীর উপোসের সঙ্গেও রোজা মিলে যায়। তখন কীভাবে সামলান? এই প্রশ্নের উত্তরে তিনি হাসতে হাসতেই অভিনেত্রী জানিয়েছেন, “আমি চেষ্টা করি সব রোজা পালন করার। শরীর খারাপ হলে দু’একটা বাদ পড়ে যায়, কিন্তু বেশিরভাগই করি।”
সুভদ্রা স্পষ্ট করে বলেন, তার কাছে ধর্ম মানে বিভাজন নয়। বরং সব ধর্মের মধ্যেই তিনি এক ধরনের মিল খুঁজে পান। তার কথায়, “সব ধর্ম তো আমার। ঈশ্বরকে কেউ ভাগ করে দিতে পারে না। আমরা সর্বধর্ম সমন্বয়ের দেশে বাস করি।” ছোটবেলা থেকেই বিভিন্ন ধর্ম সম্পর্কে জানার আগ্রহ ছিল বলেও জানান তিনি। কখনও মন্দিরে গেছেন, কখনও চার্চে বসেছেন, আবার কখনও গুরুদ্বারেও সময় কাটিয়েছেন। তার মতে, বিভিন্ন ধর্মের প্রার্থনায় শেষ পর্যন্ত একই কথাই বলা হয়—ঈশ্বর এক।
আরও পড়ুনঃ বাস্তবসম্মত করতে, দাউদাউ আ’গুনের মধ্যে স্টান্ট! শুটিং চলাকালীন ভয়াবহ দুর্ঘ’টনায়, গুরুতর আ’হত নায়িকা! মুহূর্তে আতঙ্ক ছড়াল, ভিডিও ভাইরাল হতেই শিউরে উঠলেন সকলে! এখন কেমন আছেন তিনি?
সাক্ষাৎকারে অভিনেত্রী আরও বলেন, মানুষের জীবনে আসল শিক্ষা হওয়া উচিত সহমর্মিতা ও ত্যাগ। তিনি মনে করেন, আজকের সমাজে ধর্ম নিয়ে অকারণ বিভাজন তৈরি হচ্ছে। অথচ মানুষ জানেই না পরের মুহূর্তে কী হবে। নিজের জীবনের অভিজ্ঞতার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, “আমরা জানি না পরের মুহূর্তে বাঁচব কি না। তাহলে এত লড়াই কেন?” তাই তার বিশ্বাস, মানুষকে একসঙ্গে নিয়ে চলাই আসল ধর্ম। সবার জন্য ভালোবাসা এবং সহমর্মিতাই জীবনের সবচেয়ে বড় শিক্ষা—এ কথাই বারবার তুলে ধরেছেন অভিনেত্রী সুভদ্রা মুখোপাধ্যায়।






