জি বাংলার জনপ্রিয় ধারাবাহিক মিঠিঝোরা (Mithijhora) দিন দিন যেন দর্শকদের কাছে চক্ষুশূল হয়ে উঠছে। শুরু থেকেই গল্পের কেন্দ্রবিন্দুতে তিন বোন—রাইপূর্ণা, নীলাঞ্জনা ও স্রোত। তাদের জীবনের ওঠাপড়া, সম্পর্কের জটিলতা আর পারিবারিক সংঘাত নিয়েই গড়ে উঠেছে এই ধারাবাহিক। তিন বোনের মধ্যে রাইপূর্ণা সবচেয়ে সাহসী, নীলাঞ্জনা বাস্তববাদী, আর স্রোত মিষ্টি ও কোমল স্বভাবের। তবে তাদের জীবন একেবারেই সহজ নয়, কারণ একদিকে যেমন পারিবারিক টানাপোড়েন, অন্যদিকে সমাজের বিভিন্ন বাধা তাদের পথ আটকাতে চেষ্টা করছে।
কিন্তু বর্তমান গল্পের মোড় দেখে দর্শকদের দাবি রাইপূর্ণাই সবচেয়ে ভীতু! সমস্যায় পড়লেই সে কাউকে একটা ঢাল করে পিছনে লুকিয়ে যায়, অসহায়তা দেখাতে দেখাতে চূড়ান্ত পর্যায়ে চলে গিয়েছে, একপ্রকার ন্যাকামি করছে। সাহস যদি কারোর আছে বলতেই হয় তাহলে সেটা একমাত্র স্রোতের। সে সব সময় ন্যায়ের পক্ষে লড়ে এসেছে তার জন্য তাকে যেমনি মাশুল দিতে হোক না কেন! আর অন্যদিকে রাই নীলু এত ক্ষতি করেছে জেনেও বারবার তাকে সুযোগ দিয়ে গেছে তাকে প্রশ্রয় দিয়ে আরো বড় অপরাধী হওয়ার সুযোগ করে দিয়েছে।
বর্তমানে ধারাবাহিকে বড়সড় মোড় এসেছে। স্রোত আর তার স্বামী এবার কাছাকাছি আসতে শুরু করেছে, যেখানে এখন আবারো ভুল বোঝাবুঝি বেড়েই চলেছে রাই ও অনির্বাণের মধ্যে। নীলাঞ্জনাও ষড়যন্ত্রের পর ষড়যন্ত্র চালিয়ে যাচ্ছে, কিন্তু তার পথ সহজ নয়। সাম্প্রতিক পর্বগুলিতে দেখা গিয়েছে অন্তঃসত্তা রাইয়ের বাড়িতে দেখাশোনা করতে আসে নীলু, সেখানে গিয়ে ইচ্ছাকৃতভাবে অনির্বাণের সঙ্গে সম্পর্ক তৈরির চেষ্টা করে এবং ব্যর্থ হওয়ায় শারীরিক নির্যাতনের অভিযোগ আনে।
বরাবরের মতো রাই তার বোন নীলুকে ধৃতরাষ্ট্রের মতো বিশ্বাস করে। কিন্তু তার দিদি এবার মা হতে চলেছে ও বারবার নীলুর প্লেনে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে তাদের সংসার জেনে স্রোত রুখে দাঁড়ায় এবং বাধ্য হয় নীলুকে সপাটে একটা চড় মারতে! এই নিয়েই দর্শকমহলে বিতর্ক তুঙ্গে। বিশেষ করে নায়িকা রাইপূর্ণার চরিত্র নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করছেন অনেকে। দর্শকদের মতে, গল্পের প্রধান চরিত্র হয়েও রাইপুর্ণা দিন দিন দুর্বল হয়ে পড়ছে। বারবার নীলাঞ্জনার ছলচাতুরীতে পড়েও সে তাকে সুযোগ দিয়ে চলেছে, যা একেবারেই বাস্তবসম্মত নয়।
এমনকি নিজের সংসারে জেনেশুনে সর্বনাশ ডেকে এনেছে সে। দর্শকরা মনে করছেন, একজন প্রধান চরিত্র হিসেবে তার মধ্যে যে দৃঢ়তা থাকা উচিত, তা একেবারেই অনুপস্থিত। বরং তাকে এখন চরম ন্যাকামি করতে দেখা যাচ্ছে, যেকোনো বিপদ এলেই সে নিজে লড়ার পরিবর্তে অন্যের ওপর নির্ভর করছে। অন্যদিকে, ছোট বোন স্রোতের চরিত্রটি দর্শকদের বেশ মনে ধরেছে। সে শুধু নীলুর কুটিল ফাঁদ থেকে বাঁচছে তা নয়, বরং শক্তভাবে রুখে দাঁড়াচ্ছে।
আরও পড়ুনঃ দেবের অন্যতম ভরসা তিনি, খাদানের পর রঘু ডাকাতেও তার ওপরই ভরসা রেখেছেন সুপারস্টার! এত সাফল্যের পরেও নিজেকে নবাগতাই মনে করেন ইধিকা
অনেকেই বলছেন, রাইপুর্ণার জায়গায় যদি স্রোত থাকত, তবে গল্প আরও বাস্তবসম্মত ও আকর্ষণীয় লাগত। স্রোতের সাহসিকতা আর আত্মবিশ্বাস দেখে দর্শকদের মধ্যে একটা বড় অংশ মনে করছে, তিনিই আসলে গল্পের প্রকৃত নায়িকা। তাই অনেকেই চাইছেন, আগামী দিনে রাইপুর্ণার চরিত্রে পরিবর্তন আসুক, না হলে দর্শকদের বিরক্তি বাড়তেই থাকবে! আপনাদের কি মতামত জানতে ভুলবেনা কিন্তু!