তৃণমূল নিশ্চিহ্ন হ‌ওয়ার পথে, রাতারাতি প্রোফাইল থেকে মমতার সঙ্গে তোলা ছবি উধাও! পালাবদলের আবহে, সৌমিতৃষার কান্ড দেখে তুমুল বিতর্ক! “দিদি-ভক্তি কর্পূরের মতো উবে গেল”, “অরূপ-স্বরূপদের ভাইফোঁটা দিতেন, এখন গঙ্গাজলে ধুয়ে পবিত্র সাজার নাটক” তীব্র ক’টাক্ষ নেটপাড়ার!

বাংলা বিনোদন জগতের পরিচিত মুখ ‘সৌমিতৃষা কুণ্ডু’কে (Soumitrisha Kundu) ঘিরে সম্প্রতি সামাজিক মাধ্যমে নতুন বিতর্ক তৈরি হয়েছে। কিছু নেটিজেনের দাবি, রাজনৈতিক পালাবদলের পর অভিনেত্রীর সামাজিক মাধ্যমের প্রোফাইল থেকে কিছু পুরনো ছবি আর দেখা যাচ্ছে না। সেই সূত্র ধরেই শুরু হয়েছে নানান আলোচনা ও জল্পনা। বিশেষ করে অতীতে রাজনৈতিক মঞ্চ বা বিভিন্ন অনুষ্ঠানে তাঁর উপস্থিতি এবং মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে তোলা ছবি নিয়ে নতুন করে চর্চা শুরু হয়েছে। যদিও এই বিষয়ে সৌমিতৃষা নিজে এখনও প্রকাশ্যে কোনও মন্তব্য করেননি। ফলে ঘটনার প্রকৃত কারণ নিয়ে ধোঁয়াশা থেকেই যাচ্ছে। তবে বিষয়টি ইতিমধ্যেই নেটমাধ্যমে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু হয়ে উঠেছে।

সোশ্যাল মিডিয়ার একাংশের দাবি, বাংলায় রাজনৈতিক পরিস্থিতির পরিবর্তনের পর কিছু তারকা নিজেদের পুরনো অবস্থান থেকে দূরত্ব তৈরি করার চেষ্টা করছেন। সেই তালিকায় সৌমিতৃষার নামও টেনে আনা হচ্ছে। নেটিজেনদের একাংশ প্রশ্ন তুলেছেন, “ক্ষমতার হাওয়া একটু উল্টো বইতেই টলিউডের তথাকথিত এই ‘স্টার’দের আসল রঙ এবং গিরগিটির মতো রূপ পরিবর্তন আজ সাধারণ মানুষের সামনে পুরোপুরি পরিষ্কার! গতকাল পর্যন্ত যারা দিদির আঁচল ধরে স্টেজ আলো করে বসতেন, অরূপ-স্বরূপ বাবুদের ভাইফোঁটা দিয়ে দামি দামি গিফট আর টলিউডের বড় বড় প্রজেক্ট বা সিরিয়ালের মুখ্য চরিত্র বাগাতেন, আজ শাসকদলের দুর্দিন আসতেই তাদের সেই ‘দিদি-ভক্তি’ আর ‘লাইভ প্রমোশন’ রাতারাতি কর্পূরের মতো উড়ে গেছে।”

যদিও এই ধরনের দাবির পক্ষে কোনও নির্দিষ্ট প্রমাণ এখনও সামনে আসেনি। তবুও সামাজিক মাধ্যমে বিষয়টি নিয়ে একাধিক পোস্ট ভাইরাল হয়েছে। সেই পোস্টগুলিতে অভিনেত্রীর ভূমিকা ও অবস্থান নিয়ে নানা মত প্রকাশ করা হচ্ছে। আলোচনার কেন্দ্রে রয়েছে সৌমিতৃষার জনপ্রিয় ধারাবাহিক ‘মিঠাই’ এবং পরবর্তীকালে বড় পর্দায় তাঁর কাজের প্রসঙ্গও। কিছুজন দাবি করেছেন, জনপ্রিয়তা পাওয়ার পর অভিনেত্রীর আচরণ ও অবস্থান নিয়ে তাঁদের মধ্যে প্রশ্ন তৈরি হয়েছে। যেমন একজন বলেছেন, “সিরিয়ালের একটা মাত্র চরিত্র আর দেবের পাশে একটা সিনেমা করেই অহংকারে যারা মাটিতে পা রাখতেন না।

পুরনো বন্ধু সায়ক থেকে শুরু করে সহকর্মীদের মানুষ বলে গণ্য করতেন না, আজ ক্ষমতার মধু ফুরোতেই তারা নিজেদের প্রোফাইল থেকে পুরনো সব ছবি ডিলিট করে দিয়ে গঙ্গাজলে ধুয়ে পবিত্র সাজার নাটক করছেন।” আবার অন্য একটি অংশ এই সমালোচনার বিরোধিতা করে বলছেন, কোনও শিল্পীর ব্যক্তিগত বা রাজনৈতিক পছন্দকে কেন্দ্র করে তাঁর পেশাগত সাফল্যকে খাটো করা উচিত নয়। ফলে বিষয়টি নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে মতবিরোধও স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। একদিকে সমালোচনা, অন্যদিকে সমর্থন, দুই ধরনের প্রতিক্রিয়াই দেখা যাচ্ছে।

বিতর্কের আরেকটি দিক হল, অনেকেই মনে করছেন কোনও ব্যক্তির সামাজিক মাধ্যমের প্রোফাইলে থাকা বা না থাকা ছবি দেখে তাঁর রাজনৈতিক অবস্থান সম্পর্কে নিশ্চিত সিদ্ধান্তে পৌঁছানো সম্ভব নয়। কারণ, ব্যক্তিগত কারণে বা প্রোফাইল সাজানোর উদ্দেশ্যেও অনেক সময় পুরনো পোস্ট সরিয়ে ফেলা হয়। তাই শুধুমাত্র ছবি মুছে ফেলার অভিযোগের ভিত্তিতে কোনও সিদ্ধান্তে পৌঁছানো উচিত নয় বলেও মত প্রকাশ করেছেন অনেকে। তাঁদের মতে, সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির বক্তব্য না পাওয়া পর্যন্ত বিষয়টি নিয়ে চূড়ান্ত মন্তব্য করা ঠিক হবে না। ফলে বিতর্ক চললেও তার বাস্তবতা নিয়ে প্রশ্ন থেকেই যাচ্ছে।

আরও পড়ুনঃ উন্নয়নের পাঁচালী গাওয়ায় মমতা ব্যানার্জির থেকে মিলেছিল সরাসরি ভোটে দাঁড়ানোর প্রস্তাব! ‘আমার রাজনৈতিক মতাদর্শ বদলাবে না’ প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রীর মুখের উপর প্রত্যাখ্যান করেন ইমন! কি প্রতিক্রিয়া দিয়েছিলেন মমতা? জানালেন গায়িকা

এদিকে এই ঘটনা সামনে আসার পর বিনোদন জগত ও রাজনীতির সম্পর্ক নিয়েও নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। অনেকেই বলছেন, তারকাদের রাজনৈতিক অবস্থান নিয়ে জনমনে আগ্রহ থাকলেও তা নিয়ে চূড়ান্ত রায় দেওয়ার আগে তথ্য যাচাই জরুরি। সৌমিতৃষাকে ঘিরে চলা বর্তমান বিতর্কও সেই আলোচনাকেই আরও উসকে দিয়েছে। তবে অভিনেত্রীর পক্ষ থেকে কোনও প্রতিক্রিয়া না আসা পর্যন্ত এই সমস্ত দাবি ও সমালোচনা শুধুমাত্র সামাজিক মাধ্যমে ঘুরে বেড়ানো বক্তব্য হিসেবেই বিবেচিত হচ্ছে। ফলে আগামী দিনে এই বিষয়ে তিনি মুখ খোলেন কি না, সেদিকেই নজর রয়েছে অনেকের।

You cannot copy content of this page