বাংলার রাজনীতিতে যখন দলবদল ও প্রার্থী পরিবর্তনের চর্চা তুঙ্গে, তখন গায়িকা ইমন চক্রবর্তীর একটি পুরনো পডকাস্টের বক্তব্য নতুন করে আলোচনায় এসেছে। সেখানে তিনি জানান, বিভিন্ন নির্বাচনে একাধিকবার রাজনৈতিক দলের তরফে ভোটে দাঁড়ানোর প্রস্তাব পেয়েছিলেন। শুধু ২০২৬ বিধানসভা নয়, ২০২১ ও ২০২৪ সালের নির্বাচনেও তাঁর কাছে একই ধরনের প্রস্তাব গিয়েছিল। তবে প্রতিবারই তিনি তা গ্রহণ করেননি বলে স্পষ্ট করেন। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, তিনি বরাবরই গানকেই নিজের মূল পেশা হিসেবে ধরে রাখতে চেয়েছেন।
এই সিদ্ধান্তের কারণেই তিনি রাজনীতির প্রস্তাবগুলো থেকে সরে আসেন বলে জানান। বিষয়টি নিয়ে নেটদুনিয়ায় নতুন করে চর্চা শুরু হয়েছে। ইমন জানান, প্রস্তাবগুলো তিনি ভদ্রতা ও বিনয়ের সঙ্গে প্রত্যাখ্যান করেছিলেন। তিনি বলেন, “প্রায়ই বিভিন্ন দলের হয়ে আমার কাছে প্রতিনিধিত্ব করার অফার আসে। এটা কিন্তু প্রথম নয় ২০২৬-এ আমার কাছে এই প্রস্তাব এসছে। ২০২১ সালে এসেছে, ২০২৪-এর লোকসভাতেও এসেছে। সেটা আমি আমার মতো করে ভদ্রতার সঙ্গে, বিনম্রতার সঙ্গে মানা করি– ‘দাদা গান গাওয়াটাই আমার কাজ’।”
তাঁর এই বক্তব্য থেকেই স্পষ্ট, তিনি বারবার রাজনীতিতে প্রবেশের সুযোগ পেলেও নিজের অবস্থান বদলাননি। প্রস্তাবের চাপ বা আগ্রহ যতই থাকুক, তিনি নিজের সিদ্ধান্তে অনড় ছিলেন। পডকাস্টে তিনি আরও জানান, শেষবারের প্রস্তাবটি তুলনামূলকভাবে বেশি জোরালো ছিল। সেই কারণেই তিনি সরাসরি মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে দেখা করেন। তিনি বলেন, “এবার যেটা হয়েছে তার ইনটেনসিটিটা প্রবল ছিল। বলার যে ইনটেনসিটি হয় বা চাওয়ার যে ইনটেনসিটি হয়, সেটা গভীর ছিল।”
এরপর তিনি এবং তাঁর স্বামী নীলাঞ্জন দু’জনেই মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে দেখা করতে যান। সেখানে তাঁরা নিজেদের সিদ্ধান্ত পরিষ্কারভাবে জানান। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে সাক্ষাতের অভিজ্ঞতা নিয়েও মুখ খোলেন ইমন। তিনি বলেন, “আমি আর নীলাঞ্জন দুজনে গেছিলাম। আমরা দেখা করে, হাত জোড় করে বিনীত অনুরোধ জানয়েছিলাম যে আমার পক্ষে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া সম্ভব নয়।” তিনি আরও জানান, মুখ্যমন্ত্রী তাঁর সিদ্ধান্তকে সম্মান জানান। ইমনের কথায়, “শ্রীমতী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়, এত সুন্দরভাবে মেনে নিলেন, বললেন, ‘তোমাকে আমি সাধুবাদ জানাচ্ছি।
তোমার জায়গায় অন্য কেউ থাকলে আমার একটা কথায় নিয়ে নিত। তুমি আমার ১০টা কথাতেও নাওনি। তুমি গানেই থাকো’।” এই কথোপকথনই তাঁর জীবনের শেষ রাজনৈতিক আলোচনার মতো ছিল বলেও জানান তিনি। পরবর্তীতে ইমন জানান, ভবানীপুরে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সভা এবং কিছু নির্বাচনী প্রচার কর্মসূচিতেও তাঁকে দেখা গিয়েছিল। যদিও তিনি বলেন, নিজের রাজনৈতিক অবস্থান পরিবর্তন করেননি। তাঁর বক্তব্য, “যেই মুহূর্তে আমি না বলেছি, ওদিক থেকেও কিছু প্রস্তাব এসেছিল। ৬৫টা আসনের লিস্ট এসেছিল। একটু গান গেয়ে দিও।
আরও পড়ুনঃ “ভোটে টিকিট পাওয়ার জন্য অভিনয় করতে হয় ?”, “দেব মেগাস্টার বলে ভিড় হতো, জননেতা হিসেবে নয়” টলিউডের তারকা-রাজনীতিদের একহাত নিলেন অভিনেত্রী মৌসুমী ভট্টাচার্য
কতটা না বলা যায়! ১০বার বলার পর ১বার গিয়েছিলাম। আমি বলব না ঘাড়ে বন্দুক ঠেকানো হয়েছিল। তবে হ্যাঁ আমাকে ব্যালেন্স করতে হয়েছিল।” তিনি আরও যোগ করেন, “আমি যখন দিদির সঙ্গে দেখা করেছিলাম ওঁকে বলেছিলাম, আমি যদি ভোটে দাঁড়িয়েও যাই, আমার মতাদর্শ বদলাবে না। আমার তো নিজের একটা রাজনৈতিক মতাদর্শ আছে।” এই মন্তব্যের পর বিষয়টি ঘিরে নতুন করে আলোচনায় ইমন চক্রবর্তী।






