এতদিনের পরিশ্রমে গড়া ‘টলি কুইন’ ইমেজ, রাজনীতিতে পা রাখতেই ধূলিসাৎ! তৃণমূলের পতনের পর সাংসদ পদে ইস্তফা, কোয়েল মল্লিকের সিদ্ধান্ত নিয়ে এবার মুখ খুললেন ঘনিষ্ঠ বন্ধু জিৎ! এই বিষয়ে দু’জনের মধ্যে কী কথা হয়েছিল, জানালেন তিনি?

তারকাদের রাজনীতিতে যোগ দেওয়া এখন আর বাংলা বিনোদন জগতে খুব একটা নতুন ঘটনা নয়। অভিনয়ের পাশাপাশি কেউ বিধায়ক, কেউ আবার সাংসদ হিসেবে দায়িত্ব সামলাচ্ছেন। তবে তারকাদের রাজনৈতিক কেরিয়ার নিয়ে যেমন আলোচনা হয়, তেমনই সমালোচনাও কম হয় না। সেই তালিকাতেই এবার আলোচনায় উঠে এসেছে টলি কুইন কোয়েল মল্লিকের নাম। একসময় যাঁকে রাজনীতির ময়দানে দেখা যাবে, এমনটা তাঁর অনুরাগীরাও ভাবতে পারেননি। কিন্তু তৃণমূল কংগ্রেসে যোগ দেওয়ার পর রাজ্যসভার সাংসদ হিসেবে শপথ নেন কোয়েল। সেই সময় থেকেই তাঁকে ঘিরে শুরু হয়েছিল নানা ধরনের মন্তব্য ও কটাক্ষ।

রাজনীতিতে আসার পর কোয়েল মল্লিককে নিয়ে আলোচনা আরও বাড়ে রাজনৈতিক পরিস্থিতির পরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে। তৃণমূল কংগ্রেসের সঙ্গে যুক্ত হওয়ার পর রাজ্যসভার সাংসদ হিসেবে দায়িত্ব নিলেও পরবর্তীতে তাঁর রাজনৈতিক ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন ওঠে। অভিযোগ, কোনও অধিবেশনেই উপস্থিত না থেকে তিনি কিছুদিন আগে সাংসদ পদ থেকে ইস্তফা দেন। এই ঘটনাকে ঘিরে সমাজমাধ্যমে নানা মন্তব্যও দেখা যায়। রাজনৈতিক কেরিয়ার নিয়ে এমন পরিস্থিতিতে কোয়েলকে নিয়ে কটাক্ষও কম হয়নি। অন্যদিকে, রাজ্যের রাজনৈতিক পালাবদলের পর একাধিক তারকাকে তৃণমূলের সঙ্গে দূরত্ব তৈরি করতে দেখা গিয়েছে। কেউ বিরোধী শিবিরের সঙ্গে যুক্ত হয়েছেন, আবার কেউ রাজনীতি থেকেই সরে গিয়েছেন।

সম্প্রতি ২১ জুলাইয়ের সমাবেশেও তারকাদের উপস্থিতি নিয়ে আলোচনা হয়েছে। আগের মতো তারকা উপস্থিতি না থাকায় রাজনৈতিক মহলে নানা প্রশ্ন উঠেছে। এই পরিস্থিতিতে কোয়েল মল্লিকের রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত এবং তাঁর সাংসদ পদ থেকে সরে দাঁড়ানোর বিষয়টিও নতুন করে আলোচনায় এসেছে। তবে তাঁর ইন্ডাস্ট্রির দুই ঘনিষ্ঠ বন্ধুর প্রতিক্রিয়া ছিল কিছুটা আলাদা। কোয়েল তৃণমূলে যোগ দেওয়ার পরের দিনই দেবের সঙ্গে তাঁকে প্রযুক্তিবিদদের উদ্দেশে কাজ করতে দেখা গিয়েছিল। সেই কারণে তাঁর রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত নিয়ে সহকর্মীদের সঙ্গে আদৌ কোনও আলোচনা হয়েছিল কি না, তা নিয়েও কৌতূহল তৈরি হয়েছে।

এই প্রসঙ্গেই এবার মুখ খুলেছেন কোয়েলের ঘনিষ্ঠ বন্ধু এবং অভিনেতা জিৎ। বর্তমানে নিজের নতুন ছবি ‘কেউ বলে বিপ্লবী কেউ বলে ডাকাত’-এর প্রচারে ব্যস্ত রয়েছেন তিনি। ছবির প্রচারের সময় এক সাক্ষাৎকারে তাঁকে কোয়েলের রাজনৈতিক কেরিয়ার নিয়ে প্রশ্ন করা হয়। বিশেষ করে জানতে চাওয়া হয়, কোয়েল রাজনীতিতে যোগ দেওয়ার সময় তাঁর সঙ্গে জিৎ কোনও কথা বলেছিলেন কি না। উত্তরে অভিনেতা স্পষ্ট করে জানান, এই বিষয়ে তাঁদের মধ্যে কোনও আলোচনা হয়নি। এমনকি শুধু রাজনৈতিক সিদ্ধান্তের সময়ই নয়, তাঁদের ব্যক্তিগত যোগাযোগ নিয়েও একটি গুরুত্বপূর্ণ তথ্য দেন জিৎ।

আরও পড়ুনঃ রনজয়-শ্যামৌপ্তির পর এবার কি আদৃত-কৌশাম্বীর সম্পর্কেও অশনি সংকেত? রনজয়ের বিয়ের আসরে শেষবার একসঙ্গে, এরপর থেকেই আড়ালে দু’জন! জন্মদিনের শুভেচ্ছা থেকে হোলির উদযাপন, সর্বত্রই চোখে লাগার মতো দূরত্ব! তবে কি তারকা দম্পতির বদলে যাওয়া সমীকরণ দাম্পত্যে ফাটলের ইঙ্গিত?

জিৎ বলেন, “এই বিষয়ে কোয়েলের সঙ্গে আমার কোনও কথা হয়নি। শুধু তাই নয়, শেষ ২-৩ মাস কথা হয়নি। হলে হয়তো বলতাম।” ঘনিষ্ঠ বন্ধু হিসেবে পরিচিত দুই তারকার মধ্যে বেশ কিছুদিন ধরে যোগাযোগ না থাকার কথা জিতের এই মন্তব্য থেকেই প্রকাশ্যে এসেছে। ফলে কোয়েলের রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত নিয়ে জিৎ কী ভাবছেন, সেই প্রশ্নের সরাসরি উত্তর না মিললেও তাঁর বক্তব্যে বর্তমান দূরত্বের বিষয়টি স্পষ্ট হয়েছে। একই সঙ্গে কোয়েলের রাজনৈতিক কেরিয়ার, সাংসদ পদ থেকে ইস্তফা এবং তাঁর ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নিয়ে নতুন করে কৌতূহল তৈরি হয়েছে। এখন দেখার, ভবিষ্যতে রাজনীতির ময়দানে কোয়েলকে আবার দেখা যায় কি না।

You cannot copy content of this page