মিঠুন চক্রবর্তী এবং মমতা শঙ্কর, বাংলা সিনেমার ইতিহাসে এই দুই নামই অত্যন্ত পরিচিত। মৃণাল সেনের ‘মৃগয়া’ ছবির হাত ধরে ১৯৭৬ সালে তাঁদের একসঙ্গে অভিনয়ের পথচলা শুরু হয়েছিল। ছবিতে তাঁদের জুটি দর্শকদের নজর কেড়েছিল। সেই সময় থেকেই তাঁদের সম্পর্ক নিয়ে নানা ধরনের কথা শোনা যায়। এমনকী একসময় তাঁদের বিয়ে ঠিক হয়ে গিয়েছিল বলেও খবর ছড়িয়েছিল। যদিও শেষ পর্যন্ত সেই বিয়ে হয়নি। এতদিন ধরে এই সম্পর্ক নিয়ে নানা আলোচনা থাকলেও প্রকাশ্যে সেভাবে কোনও স্বীকারোক্তি শোনা যায়নি। এবার ‘দাদাগিরি’র মঞ্চে সেই পুরনো প্রসঙ্গই নতুন করে উঠে আসতেই মুহূর্তে বদলে গেল পরিস্থিতি।
‘দাদাগিরি’র মঞ্চে সম্প্রতি মিঠুন এবং মমতা শঙ্করকে ঘিরে এমনই এক মজার পরিস্থিতি তৈরি হয়। অনুষ্ঠানের কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা প্রযুক্তির চরিত্রটি তাঁদের সম্পর্ক নিয়ে মন্তব্য করতে শুরু করে। তার কথায়, মিঠুন চক্রবর্তী এবং মমতা শঙ্করের মধ্যে নাকি একসময় খুব গভীর এবং অনুভূতিপূর্ণ সম্পর্ক ছিল। এরপর সেই সম্পর্ককে প্রেম বলা যায় কি না, মজার ছলে প্রশ্ন তোলেন অনুষ্ঠানের সঞ্চালক দেব। এআইয়ের কথার সঙ্গে সুর মিলিয়েই দেব ফের তাঁদের সম্পর্ককে প্রেমের ইঙ্গিত দেন। এমন কথা শুনে মমতা শঙ্করকে মাথায় হাত দিতে দেখা যায়। অন্যদিকে মিঠুনও তীক্ষ্ণ চোখে তাকান। মঞ্চের এই মুহূর্তটি ঘিরেই তৈরি হয় হাসির পরিবেশ।
মিঠুন এবং মমতা শঙ্করের সম্পর্ক নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই নানা কথা শোনা যায়। প্রচলিত তথ্য অনুযায়ী, ‘মৃগয়া’র সময় তাঁদের মধ্যে ঘনিষ্ঠতা তৈরি হয়েছিল এবং সেই সম্পর্ক বিয়ে পর্যন্ত গড়িয়েছিল বলেও আলোচনা ছিল। তবে সেই সময় মিঠুনের কাজের চাপ দ্রুত বাড়তে শুরু করে। বলিউডে তাঁর কেরিয়ারও তখন নতুন উচ্চতায় পৌঁছচ্ছিল। ফলে বিয়ের মতো বড় সিদ্ধান্ত নেওয়ার জন্য তিনি প্রস্তুত ছিলেন না বলেই জানা যায়। শেষ পর্যন্ত তাঁদের বিয়ে হয়নি। তবে সম্পর্কের এই পরিণতি তিক্ততায় বদলে যায়নি। বর্তমানে মিঠুন এবং মমতা দুজনেই নিজেদের জীবনে প্রতিষ্ঠিত এবং সুখী। তাঁদের মধ্যে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্কও রয়েছে বলে জানা যায়।
অন্যদিকে মিঠুন চক্রবর্তীর দীর্ঘ কেরিয়ার আজও ভারতীয় বিনোদন জগতে বিশেষভাবে আলোচিত। বাংলা এবং হিন্দি দুই ইন্ডাস্ট্রিতেই তিনি দীর্ঘদিন ধরে সমান জনপ্রিয়তার সঙ্গে কাজ করেছেন। তাঁর প্রথম দিকের ছবি থেকেই অভিনয়ের দক্ষতা নজর কেড়েছিল। পরবর্তীকালে নাচের ক্ষেত্রেও তিনি তৈরি করেন আলাদা পরিচয়। বিশেষ করে ‘ডিস্কো ডান্সার’ ছবির জনপ্রিয়তার পর বলিউডে তাঁর নাচের খ্যাতি আরও ছড়িয়ে পড়ে। তাঁর নাচের হাত ধরেই সেই সময় ডিস্কো নাচের প্রবণতা আরও জনপ্রিয় হয়েছিল। সেই কারণে পরবর্তীকালে একাধিক নাচের অনুষ্ঠানে তাঁকে বিচারক বা বিশেষ ভূমিকায় দেখা গিয়েছে।
আরও পড়ুনঃ ‘জিহা’দি আর বামপন্থী একই মতাদর্শের মানুষ, আমি বলছি…অশিক্ষিত জিহাদি’রা যে ভাষায় অপপ্রচার চালাচ্ছে, বিদ্বেষ ছড়াচ্ছে…’ ‘কারও জমিদারি নয়’, বামেদের তীব্র আক্র*মণ তসলিমা নাসরিনের! হঠাৎ কেন এত ক্ষু’ব্ধ লেখিকা?
বয়স বাড়ার সঙ্গে মিঠুনের শারীরিক সক্ষমতায় কিছুটা পরিবর্তন এলেও তাঁর জনপ্রিয়তায় এখনও ভাটা পড়েনি। অভিনয়ের পাশাপাশি নাচের সঙ্গে তাঁর দীর্ঘ সম্পর্কও তাঁকে দর্শকদের কাছে আলাদা জায়গা দিয়েছে। অন্যদিকে মমতা শঙ্করও বাংলা চলচ্চিত্রের অন্যতম পরিচিত অভিনেত্রী এবং নৃত্যশিল্পী হিসেবে নিজের জায়গা তৈরি করেছেন। তাই তাঁদের বহু বছর আগের সম্পর্কের প্রসঙ্গ আজও দর্শকদের আগ্রহ তৈরি করে। ‘দাদাগিরি’র মঞ্চে এআইয়ের মন্তব্য এবং দেবের মজার প্রশ্ন সেই পুরনো কাহিনিকেই নতুন করে আলোচনায় এনেছে। তবে তাঁদের বর্তমান সম্পর্ক বন্ধুত্বপূর্ণ বলেই জানা যায় এবং দুজনেই নিজেদের জীবন নিয়ে এগিয়ে গিয়েছেন।






