দীর্ঘদিন পর কলকাতায় ফিরে আসাকে ঘিরে তৈরি হওয়া বিতর্কে এবার সরাসরি বামপন্থীদের নিশানা করলেন লেখিকা তসলিমা নাসরিন। চলতি বছরের জুলাইয়ে বিজেপি সরকারের আমলে প্রায় ১৯ বছর পর কলকাতায় পা রাখেন তিনি। বর্তমানে সুইডেনের নাগরিক তসলিমা দিল্লিতে থাকেন এবং বাংলাদেশে এখনও তাঁর প্রবেশের অধিকার নেই। কলকাতায় তাঁর ফিরে আসা নিয়ে শুরু থেকেই রাজনৈতিক মহলে নানা আলোচনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যেই সমাজমাধ্যমে একটি দীর্ঘ পোস্ট লিখে বামেদের বিরুদ্ধে একের পর এক অভিযোগ তুলেছেন তিনি। তাঁর বক্তব্য, তাঁকে কলকাতায় ফেরানোর উদ্যোগ কোনও রাজনৈতিক দলের ছিল না। বরং একটি ছোট সংগঠনের নাগরিক উদ্যোগকে পশ্চিমবঙ্গের সরকার নিরাপত্তা দিয়ে সমর্থন করেছে।
নিজের বক্তব্যে তসলিমা জানান, ‘সেক্যুলার মিশন’ নামে একটি ছোট সংগঠন তাঁকে কলকাতায় আনার উদ্যোগ নেয়। পরে আরও দুটি সংগঠন, ‘পশ্চিমবঙ্গের জন্য’ এবং হিউম্যান রাইটস বিয়ন্ড ফ্রন্টিয়ার ফাউন্ডেশনও সেই উদ্যোগের সঙ্গে যুক্ত হয়। তাঁর দাবি, এই নাগরিক উদ্যোগকে বিজেপি সরকার স্বাগত জানিয়েছে এবং প্রয়োজনীয় নিরাপত্তার ব্যবস্থা করেছে। ডানপন্থীদের একাংশ প্রকাশ্যে তাঁর কলকাতায় ফেরার অধিকারকে সমর্থন করলেও, তাতে তিনি নিজে ডানপন্থী হয়ে যান না বলেও স্পষ্ট করেছেন। বরং তাঁর প্রশ্ন, বামপন্থীরা কেন তাঁর কলকাতায় ফেরাকে মেনে নিতে পারছেন না। তিনি লিখেছেন, একজন ধর্মনিরপেক্ষ নারীবাদী লেখককে বামফ্রন্ট সরকার একসময় পশ্চিমবঙ্গ থেকে তাড়িয়েছিল, আর বহু বছর পর বিজেপি সরকার তাঁকে স্বাগত জানিয়েছে। তাঁর মতে, এই রাজনৈতিক বৈপরীত্যই বামেদের অস্বস্তির কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
তসলিমা আরও দাবি করেছেন, বামেদের কয়েকজন পরিচিত ব্যক্তির সঙ্গে তাঁর একসময় ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক ছিল। বাংলাদেশের বামপন্থী তরুণ নেতা মেঘমল্লার বসুর সাহসের প্রশংসা করার পাশাপাশি তাঁর উপর মৌলবাদীদের আক্রমণেরও প্রতিবাদ করেছিলেন বলে জানান তিনি। এমনকি তাঁকে একদিন বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী হিসেবেও দেখতে চেয়েছিলেন বলে দাবি করেন লেখিকা। আবার প্রাক্তন নকশাল প্রশান্ত রায় প্রায় ২৭ বছর ধরে তাঁর প্রকাশক এবং পরিবারের মানুষের মতো কাছের বলেও উল্লেখ করেছেন। বিকাশরঞ্জন ভট্টাচার্যের সঙ্গেও তাঁর দীর্ঘদিনের সুসম্পর্ক ছিল বলে দাবি করেছেন তসলিমা। তাঁর প্রশ্ন, হঠাৎ করে এই মানুষগুলির তাঁর বিরুদ্ধে এত বিষোদ্গারের কারণ কী। একই সঙ্গে তিনি বামেদের কাছে জানতে চেয়েছেন, তাঁর বক্তব্যের কোন অংশে তিনি কোনও রাজনৈতিক দলের প্রতি আনুগত্য প্রকাশ করেছেন বা নিজের আদর্শ থেকে সরে গিয়েছেন।
আরও পড়ুনঃ “আমার শুধু কা’ন্না পাচ্ছে…আমি কারও বাচ্চা হাসপাতাল থেকে চু’রি করিনি, পা’চারও করিনি!” মাত্র ২০ মাসের কৃষভির পাশাপাশি সদ্যোজাত ছেলেকে সামলানো, দ্বিতীয়বার মা হওয়া পর মান’সিক চা’পে জেরবার শ্রীময়ী! “কাঞ্চনের কঞ্চির জোর আছে, বি’ছানায় স্যাটিসফেকশন পান না যারা বলছে তারা…” চোখের জল চেপে রেখেই লাগাতার চলতে থাকা কটা’ক্ষের দিলেন কড়া জবাব!
পোস্টের শেষ দিকে বামপন্থীদের বিরুদ্ধে আরও তীব্র ভাষায় সরব হন তসলিমা। তাঁর অভিযোগ, অশিক্ষিত জিহাদিদের মতোই বামপন্থীদের একাংশও তাঁর বিরুদ্ধে একই ধরনের মিথ্যা, কুৎসা এবং বিদ্বেষের ভাষা ব্যবহার করছেন। তবে তিনি একই সঙ্গে স্পষ্ট করেছেন, দুই পক্ষের মতাদর্শ এক নয়, কিন্তু একজন ধর্মনিরপেক্ষ নারীবাদী লেখককে আক্রমণ করার সময় ভাষা যদি একই হয়ে যায়, তাহলে সেই ভাষার নৈতিক পার্থক্য কোথায় থাকে। তসলিমার আরও বক্তব্য, বামফ্রন্ট ক্ষমতায় থাকার সময় তাঁকে কলকাতায় ফিরিয়ে আনার জন্য কোনও উদ্যোগ নেয়নি। ক্ষমতা হারানোর পরেও নাগরিক আন্দোলন, সভা, মিছিল বা আবেদন করে তাঁর ফেরার অধিকার নিয়ে তাঁরা সরব হননি। তাই অন্য কেউ তাঁকে কলকাতায় ফিরিয়ে আনলে সেটিও মেনে নিতে না চাওয়ার রাজনীতি নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন তিনি। শেষ পর্যন্ত তসলিমার স্পষ্ট বার্তা, ‘পশ্চিমবঙ্গ কোনও রাজনৈতিক দলের জমিদারি নয়। কলকাতাও নয়। পশ্চিমবঙ্গ মানুষের, কলকাতা মানুষের। সেই মানুষের ভালোবাসায় আমি ফিরেছি। আবারও ফিরব।’






