কয়েকদিন ধরে ‘দেবলীনা নন্দী’কে (Debolina Nandy) ঘিরে যেন এক ঝড় উঠেছে, হঠাৎ করেই তার বিয়ের পর হাসিখুশি চেহারার আড়ালে যে টানাপোড়েন চলছিল, হাসপাতালের একটি ছবি ভাইরাল হতেই সবটা প্রকাশ্যে আসে ও শুরু হয় সমালোচনা। কেউ বলছে ‘নাটক’, কেউ বলছে জনপ্রিয়তা পাওয়ার চেষ্টা। যা তার পরিবার এবং বিশেষ করে তার দিদির কাছে একেবারেই অগ্রহণযোগ্য। শর্মিষ্ঠা জানিয়েছেন, দেবলীনা সুস্থ হওয়ার চেষ্টা করছেন, কিন্তু নানান নেতিবাচক মন্তব্য তার মানসিক অবস্থাকে আরও ক্ষতিগ্রস্ত করছে, কালও সে নিজেকে শেষ করে দেওয়ার চেষ্টা করেছে হাসপাতালেই!
দেবলীনার মা কাঁদতে কাঁদতে বলেছেন, তিনি কখনোই মেয়ের সংসার ভাঙার বা দোষ দেওয়ার পক্ষে নন, বরং চান মেয়েটি সুস্থ হোক এবং পরিস্থিতি বোঝার আগে কেউ দোষী সাব্যস্ত না করুক, কারণ দাম্পত্য জীবনে নানা সমস্যা স্বাভাবিক, আর এভাবে হঠাৎ পদক্ষেপ নেওয়া মানসিক চাপের ফল, যা কেউ সহজে বুঝতে পারে না। এতকিছু বলার পরেও অনেকের মনে প্রশ্ন জাগে যে প্রবাহের কি কোনও বিবাহ বহির্ভূত সম্পর্ক ছিল? ঠিক কবে থেকে এবং কেন এই অবনতি ঘটতে শুরু করল? দেবলীনার কি কোনও দোষই ছিল না?
এই নিয়েও নানান তথ্য প্রমাণ এবং বিস্ফোরক তথ্য সামনে এনেছেন, দেবলীনার দিদি ও মা! দিদি শর্মিষ্ঠা প্রথমে জানান, “প্রবাহের থেকে নাকি আমার বোন সবসময় নিয়েই গেছে, কিছু দেয়নি! প্রবাহ বড়লোক হতে পারে, পাইলট হতে পারে কিন্তু সংসারের এক টাকাও দিত না। আমার বোন তার স্বামীর ইনার পর্যন্ত কিনে দিত! এতটাই অন্ধ ছিল ওর ভালোবাসা যে, রোজ অত্যাচার সহ্য করে হাসিমুখে থাকতো। মূলত, এইসব ঝামেলার সূত্রপাত গত বছর পুজোর সময় থেকে। একদিন শো করে ফেরার পথে, একজন অনুরাগী দেবলীনাকে জানতে চেয়েছিল যে প্রবাহের সঙ্গে কোথায় দেখা।
সেখান থেকে কিভাবে সম্পর্ক হয়েছে? খুব সরল মনেই আমার মন তাকে বলেছিল যে, কোথায় কখন দেখা হয়েছে আর আশীর্বাদের তারিখটাকেই ওরা অ্যানিভার্সারি হিসেবে পালন করে। সেই সঙ্গেই ও বলে যে, রেজিস্ট্রি হওয়ার কথা ছিল সেদিন কিন্তু প্রবাহর ফিঙ্গারপ্রিন্ট না মেলায় হয়নি। খুব তাড়াতাড়ি করে নেবে সেটাও। ঠিক তার পরের দিন থেকেই অশান্তি শুরু যে কেন ওটা ভিডিওতে বলল!” এর সঙ্গেই তিনি আরও যোগ করেন, “এমন ঘটনা কোনদিনও হয়েছে বলে জানা নেই যে, হঠাৎ করেই কারোর ফিঙ্গারপ্রিন্টস মিলছে না!
হয়তো ওদের প্রথম থেকেই পরিকল্পনা ছিল রেজিস্ট্রিটা না করার। আজও আমার বোনের বিয়ের কোনও সরকারি নথি নেই! এছাড়াও যখন কোনও সমস্যা হতো, বাড়ি থেকে বেড় করে দিত ওকে। একদিন আমাদের সবাইকে বাড়ি ডেকেছিল, গিয়েই জানতে পারি যে ওকে আর বাড়িতে থাকতে দেবেন না শ্বশুর। এমনকি তিনি বলেন, ‘রাতে শোয়ার জন্য বাড়িতে আসার দরকার নেই!’ তারপর তিন মাস বোন আমাদের কাছে ছিল। ওরা কেউ যোগাযোগ করেনি, বরং দেবলীনা পাগলের মতো চেষ্টা করেছে।
আরও পড়ুনঃ “প্রবাহর বাবার কীর্তির প্রমাণও আমাদের কাছে আছে, প্রয়োজনে সব দেখাব!” “৭৮ টা ওষুধ খেয়েছিল, অভিনয় করলে চার-পাঁচটা খায়!” আ’ত্মঘা’তী হওয়ার চেষ্টায় দেবলীনাকে ঘিরে কটাক্ষ, কাঁদতে কাঁদতে মুখ খুললেন দিদি ও মা!
ওর চিরকাল একটা কি পরিবার আর বাচ্চার স্বপ্ন ছিল, কোনদিনও সেই সংসার ভেঙে চলে আসতে চায়নি।” এরই সঙ্গে দেবলীনার মা যোগ করেন, “শশুর, শাশুড়ি ক্যামেরা অন হলেই নাটক করতো। এত অত্যাচার করতো, কথা শোনা তো তবুও প্রবাহ কোনদিনও স্ত্রীর পাশে দাঁড়ায়নি! এমনকি হানিমুনে গিয়েও আমার মেয়েকে মারধর করেছে। থাইল্যান্ড থেকে ওরা ফিরতেই, কপালে কাটা দাগ দেখে জিজ্ঞেস করতে বলেছিল সবটা। শাশুড়ি মিথ্যে ভ্লগ বানাতে বলতো, যেখানে খাইয়ে দেওয়ার নাটক করতো।”






