“প্রবাহর বাবার কীর্তির প্রমাণও আমাদের কাছে আছে, প্রয়োজনে সব দেখাব!” “৭৮ টা ওষুধ খেয়েছিল, অভিনয় করলে চার-পাঁচটা খায়!” আ’ত্মঘা’তী হওয়ার চেষ্টায় দেবলীনাকে ঘিরে কটাক্ষ, কাঁদতে কাঁদতে মুখ খুললেন দিদি ও মা!

গত তিনদিন ধরে সমাজ মাধ্যম কার্যত তোলপাড়, ‘দেবলীনা নন্দী’র (Debolina Nandy) আ’ত্মঘা’তী হওয়ার চেষ্টাকে কেন্দ্র করে! ২০২৪ সালে প্রবাহ নন্দীর সঙ্গে বিয়ে হওয়ার পর, সব সময় হাসিখুশি দেখা যেত তাকে। বছরের শুরুতেই হঠাৎ করে দাম্পত্যের অন্ধকার দিক সামনে আনলেন তিনি! চন্দননগরের শো শেষ করে ফেরার পথে, একটি লাইভ ভিডিওতে দীর্ঘদিনের টানাপোড়েন এবং মানসিকভাবে ভেঙে পড়ার কথা জানিয়েছিলেন তিনি। ঠিক পরদিনই হাসপাতালে তার একটি ছবি ভাইরাল হয়ে যায়। এরপর থেকেই শুরু হয় নানান সমালোচনা এবং বিতর্ক। গতকাল একটু সুস্থ হতেই, বন্ধু সায়কের ভিডিওতে দেবলীনা নিজের মুখেই জানিয়েছেন সেই রাতে ঠিকই করেছিলেন তিনি।

এরপর থেকেই সহানুভূতির জায়গায়, সবাই কটাক্ষ করতে শুরু করেছেন তাকে! অনেকেই বলছেন আ’ত্মঘা’তী হবার চেষ্টা নিতান্তই ‘নাটক’ ছিল! এই নিয়েই এবার মুখ খুললেন গায়িকার দিদি শর্মিষ্ঠা। তিনি একটি লাইভ ভিডিওতে বললেন,”আমরা দেবলীনার প্রোফাইল থেকে লাইভটা করতে বাধ্য হচ্ছি! সমাজ মাধ্যমের গত তিনদিন ধরে যেটা চলছে এবং সবাই জেনেই গেছে সবটা, আবার কেউ অর্ধেক বা কিছুই জানেন না। এই সবকিছু পরেও, অনেকেই বিভিন্ন রকম পোস্ট করছেন। নানান রকম খবর তৈরি হচ্ছে, সবগুলোই আমাদের চোখে পড়ছে।

তার মধ্যে নেতিবাচক মন্তব্যই বলুন বা না জেনে করা আপনাদের কমেন্টগুলো, সেগুলোর জন্য আমার বোনের মানসিক ক্ষতি হচ্ছে! কারণ, ও একটু একটু করে সুস্থ হওয়ার চেষ্টা করছে। বুঝতেই তো পারছেন, কোন পরিস্থিতিতে গেলে একটা মেয়ে এমন সিদ্ধান্ত নেয়! তার মধ্যেই অনেকে বলছেন, সবটাই নাকি নাটক! সামাজিক মাধ্যমে জনপ্রিয়তা পাওয়ার চেষ্টা! প্রথম কথা, দেবলীনাকে সমাজ মাধ্যমে নাম ফাটানোর জন্য আ’ত্মঘা’তী হওয়ার অভিনয় করার কোনও প্রয়োজন নেই। দ্বিতীয়ত, একটা মানুষ যখন অভিনয় করে, চার-পাঁচটা ওষুধ খায়।

কিন্তু আমার বোন ৭৮ টা ঘুমের ওষুধ খেয়েছিল! যেটার প্রমাণ আমাদের কাছে রয়েছে, ডাক্তারের প্রেসক্রিপশন এবং ওষুধের পাতাও। এরপর যেটা সব থেকে আলোচ্য বিষয় হয়ে উঠেছে, সবাই বলছে দুতরফা জানা উচিত। প্রবাহ কেন কিছু বলছে না? অবশ্যই সেটা জানা উচিত! আমরা যারা খুব কাছের মানুষ, তারা এই দেড় বছরে ওর সঙ্গে কি ঘটেছে সবটাই জানি। সেটা সবাইকে ৫ বা ১০ মিনিটে বলা সম্ভব নয়! আমাদের কাছে সব কিছুরই কমবেশি প্রমাণ আছে, প্রয়োজনে সেগুলো সামনেও আনবো। আমার বোন মানসিক এবং শারীরিকভাবে নির্যাতিত ছিল কি না, সবটাই প্রমাণ করে দিতে পারি।

একটা স্বামী-স্ত্রীর দাম্পত্য জীবনে অনেক রকম সমস্যা থাকতেই পারে। তার মানে আমার বোন যে ইচ্ছে করে ঝগড়া করছে বা চাপ দিচ্ছে, সেটা নয়। বরং উল্টোটাই হয়েছে ওর সঙ্গে। আমরা সবাই ওকে দীর্ঘদিন বলেছি, মানুষের সামনে আনা উচিত ঘটনাগুলো। এটাও বলেছিলাম যে এখন মানুষকে না বললে, পরে ঘটনাটা বেরোলে সবাই ওর দোষটাই আগে দেখবে! বরং সমাজ মাধ্যমে নিজের সুখী জীবনে নাটকটা চালিয়ে যাচ্ছিল ও! আগে প্রতি সপ্তাহে যখন চন্দননগর যেত, অনেক রকম সমস্যার সম্মুখীন হতে হয়েছিল। এক সময় শশুরমশাই ওকে বাড়ি থেকে বের করে দিয়েছিল। এখন আবার মাকে নিয়ে সমস্যা!

দেবলীনার পদক্ষেপটা নেওয়ার ১০ মিনিট আগেও প্রবাহ ওকে বলেছে, “মা তো সব জায়গায় তোমার সঙ্গে যাচ্ছে, এই জন্মের পিছন ছাড়বে না! তাহলে আমি থেকে আর কি করবো?” এরপর দেবলীনার মা মুখ খুললেন,”আমি জামাই চাইনি, আমি ছেলে চেয়েছিলাম! আমি নিজের সন্তান হিসেবে মানতে চেয়েছিলাম প্রবাহকে। প্রথমদিকে সব ঠিকই ছিল, এত বড় ঝড় উঠবে আশা করিনি! আমরা একসাথে ঘুরতে যেতাম, বন্ধুর মতো সম্পর্ক ছিল। আমাকে নিয়েই যে এত সমস্যা তৈরি হবে কোনদিনও ভাবিনি! আমি চাইনি আমার মেয়ের সংসার ভাঙুক!

আরও পড়ুনঃ ‘পাইলট বা নেভি হলেই কেউ ভদ্রলোক হয় না…পদবি মানুষ বানায় না, মানসিকতাই পরিচয়!’ দেবলীনার আত্ম’হন’নের চেষ্টার ঘটনায়, মানুষের পেশা, পরিচয় নিয়ে বড় মন্তব্য তিথি বসুর

মা-বাবা তো মেয়েকে কাঁধে বসিয়ে রাখতে পারে না, সংসার করতে পাঠাতেই হয়। কোনও সুস্থ মা কোনদিনও নিজের মেয়ের সংসার ভাঙ্গে না। কাল থেকে আমার মেজাজ একদম ভালো নেই। যারা মায়েরা আছে, তারাই বুঝতে পারবে আমার কষ্টটা। সন্তানের সঙ্গে এমন হলে মায়ের উপর দিয়ে কি যায়!” বলতে বলতেই কান্নায় ভেঙে পড়লেন দেবলীনার মা! এই মুহূর্তে তাদের পরিবারের তরফ থেকে একটাই অনুরোধ, সবদিক জানাই যদি প্রাধান্য হয়, তাহলে আগে থেকেই কাউকে দোষী সাব্যস্ত করা উচিত নয়। বরং এখন প্রাধান্য দেওয়া উচিত দেবলীনা সুস্থ হয়ে ওঠার দিকে। আমরাও গায়িকার দ্রুত আরোগ্য কামনা করি।

You cannot copy content of this page